রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্বাধীনতার ৫৫ বছরে পদার্পণ করেছে, কিন্তু বৈষম্য কি ঘুচেছে !
প্রকাশ: বুধবার, ২৬ মার্চ, ২০২৫, ১২:২১ পিএম  আপডেট: ২৬.০৩.২০২৫ ১২:২৫ পিএম  (ভিজিট : ২২৭)
X

স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র বিনির্মাণ করা যায়নি।  ১৯৭১ থেকে ২০২৫ সালে পর্যন্ত বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই চলছেই। মানুষে মানুষে বৈষম্য, শ্রেণি বৈষম্য এখনো সর্বত্র। কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক মুক্তি মেলেনি। ফলে মানুষে মানুষে বৈষম্য বেড়েছে। গরিব আরও গরিব হয়েছে। ধনী আরও ধনী হয়েছে।  চলমান বৈষম্য ও এর প্রতিবাদ করলেই চলতো নিপীড়ন। ফলে ১৯৭১ সালে ৯ মাসের দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তান রূপ নেয় স্বাধীন বাংলাদেশে।

২৬ মার্চ। স্বাধীন বাংলাদেশ ৫৫ বছরে পদার্পণ করেছে আজ। সেই বৈষম্য কি ঘুচেছে? ঘটনাপ্রবাহে স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে হাজার হাজার মানুষ জীবন দিয়েছে। অঙ্গহানিসহ আহত হয়েছে অর্ধলাখ মানুষ। পতন হয়েছে টানা ১৬ বছর ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকা শেখ হাসিনা সরকারের।

বিশিষ্টজনরা বলছেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই অনেক বড় ব্যাপার। এক-দুদিনে সমাজের সর্বস্তর থেকে বৈষম্য বিলোপ সম্ভব নয়। ধীরে ধীরে কাজ হচ্ছে। খুব উল্লেখযোগ্য কিছু হয়নি। তবে হয়তো সদিচ্ছা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে ভালো কিছু হবে।

দীর্ঘ প্রত্যাশা ও দাবির ফলে ১৯৪৭ সালে মুসলিমদের একটি রাষ্ট্র হয়। কিন্তু দেশ গঠনের ২৫ বছরের মধ্যে তার মৃত্যুও হয়। কারণ ছিল- বৈষম্য আর শোষণ। ইতিহাস বলে, পাকিস্তান গঠনের ভূমিকা পালনকারী শীর্ষ নেতারা দেশের পশ্চিমাংশে ঘাঁটি গাড়েন, শাসন ক্ষমতাও সেখানেই কুক্ষিগত হয়ে পড়ে। যদিও পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা ছিল পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৫৬ শতাংশ। অথচ বৈষম্যের শিকার হয় জনসংখ্যাধিক্যের পূর্বাংশই। রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, শিক্ষা, প্রশাসন, প্রতিরক্ষাসহ সব ক্ষেত্রে দেশের এই অংশের নাগরিকদের প্রতি পদে পদে বৈষম্য।

ওই ২৫ বছরে পূর্ব পাকিস্তানে বিনিয়োগের অভাবে শত শত স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে, কিন্তু পশ্চিমে বেড়ে গেছে তিনগুণ। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে, সেনাবাহিনীর উঁচু পদে বাঙালিদের নিয়োগ পাওয়া খুব কঠিন ছিল। সেই সঙ্গে বিনিয়োগে অবহেলার কারণে পূর্ব পাকিস্তান হয়ে উঠেছিল পশ্চিমের কল-কারখানার কাঁচামালের জোগানদাতা এবং তাদের উৎপাদিত পণ্যের প্রধান ক্রেতা।

এরপরও কি বৈষম্য বিলুপ্ত হয়েছে? জবাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘১৯৭১ সালে যে লক্ষ্য সামনে রেখে লড়াইটা করা হয়েছিল, সেটা তো আমরা অ্যাচিভ করতে পারিনি। লড়াইটা এখনো চালু আছে, যাতে অ্যাচিভ করতে পারি।’

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী লড়াই অনেক বড় জিনিস। এটা এক-দুদিনে শেষ হবে না। সমাজের সর্বস্তরের বৈষম্য দূর করা অনেক বড় কাজ। এটা করছে ধীরে ধীরে, দেখা যাক। কিছু কিছু অগ্রগতি হয়েছে, খুব সিগনিফিক্যান্ট (উল্লেখযোগ্য) কিছু নয়।’

ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী  বলেন, ‘স্বাধীনতার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন হয়নি। এখনো মুক্তির স্বাদ পাইনি বা স্বাধীনতার সুফল ভোগ করা যাচ্ছে না। স্বাধীনতার মূল যে কথা ছিল অর্থনৈতিক মুক্তি, সেই অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা যায়নি। বরং মানুষে মানুষে বৈষম্য বেড়েছে। দরিদ্র্য আরও দরিদ্র্য হয়েছে। ধনী আরও ধনী হয়েছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাবের আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘১৯৭১-এ আমাদের লড়াইটা ছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে, নিজ দেশের সরকারের বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালের লড়াইটাও ছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে। এটাও নিজ দেশের সরকারের বিরুদ্ধে। শুধু পার্থক্য বলা যায়, নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের কারণে একাত্তরে ভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর সঙ্গে, কিন্তু ধর্ম ছিল এক। আর ২৪-এ জাতি-গোষ্ঠী সব দিক থেকে এক। 

স্বাধীনতার মূল চেতনাই তো ছিল বৈষম্যের বিলোপ, মানবাধিকার রক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক মুক্তি, বহুত্ববাদ মেনে নেওয়া, মানুষের আকাঙ্ক্ষা মেনে নেওয়া; এগুলো ছিল মূল। স্বাধীনতার পরে আমাদের অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। দেশি-বিদেশি অনেক ষড়যন্ত্রও হয়েছে। আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারিনি।’

আ. দৈ./ কাশেম



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
বিশেষ সংবাদ- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝