ভয়াবহ দুর্নীতির আখঁড়া ডিএনসিসি
অতিরিক্ত দামে ‘ওয়াকিটকি’ ক্রয়ের অভিযোগ অনুসন্ধানে টিম গঠন দুদকের
আবুল কাশেম:

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত দামে ও নিম্ম মানের ‘ওয়াকিটকি ক্রয়ে’ ক্ষমতার অপব্যহার, নানা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গত ৩ সেপ্টেম্বর টিম গঠন করেছে দূর্নীতি দমন কমিশন। আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা (উপপরিচালক) আকতারুল ইসলাম আজকের দৈনিক পত্রিকাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ডিএনসিসিতে সাজানো টেন্ডারে পছন্দের ঠিকাদারের মাধ্যমে চীন থেকে ‘ওয়াকিটকি ক্রয়ে’ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানের জন্য দুদকের উপপরিচালক মো. আহসানুল কবির পলাশকে এই অনুসন্ধানী কার্যক্রম তদারকির জন্য পরিচালক (অনুসন্ধান ও তদন্ত -১) কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরো জনা যায় ,অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে তৎকালীন ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের দপ্তরের বহুল আলোচিত লোপাটকারী সিন্ডিকেট ২০২৫ সালের ১৭ আগষ্ট ‘ওয়াকিটকি ক্রয়ে’ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছিল দুদক।
দুদকের অভিযোগ রয়েছে ডিএনসিসিতে দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও একটি দেশি প্রতিষ্ঠানকে ওয়াকিটকি কেনার কাজ দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি একটি চীনা কোম্পানির সনদ ব্যবহার করেছে। অভিযান পরিচালনাকারী দুদক টিমের সদস্যরা ডিএনসিসির তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী,তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলে এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংগ্রহ করেছিল।
প্রাপ্ত তথ্য প্রাথমিক বিশ্লেষণে দুদক টিমের সদস্যরা পেয়েছেন, ডিএনসিসির ক্রয়কৃত ওয়াকিটকির দাম অন্যান্য সরকারি সংস্থার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। এসব বিষয়ে প্রকিউরমেন্ট সংক্রান্ত সব রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে। যাচাই শেষে কমিশনের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করে দুদকের টিম।
এবার ডিএনসিসির অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মোঃ রফিকুল ইসলাম বর্তমানে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী,নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ),সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ, তৎকালনি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা , প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা, সাবেক প্রশাসকের আত্মীয় দালাল মাহবুব, প্রশাসকের দপ্তরের গঠিত শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এবং ডিএনসিসির ক্রয় কমিটির সাথে জড়িত আরো বেশ কয়জনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে দুদকের অধিকতর অনুসন্ধান ও তদন্তে এবার রাঘব বোয়ালদের নাম ঠিকানা বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
আলোচিত অভিযোগের বিষয়ে ডিএনসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মোঃ রফিকুল ইসলামকে ‘ওয়াটঅ্যাপে’ ফোন করা হলে, তিনি ফোন রিসিপ করেনি। এমন কি ‘ওয়াটঅ্যাপে’ বার্তা পাঠানোর পরও সাড়া দেননি।
দুদকের সূত্র মতে, ডিএনসিসিতে ‘ওয়াকিটকি ক্রয়ে’ দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ, দুদক প্রথম স্মারক নং-০০.০১.২৬০০,৬০৩.০১.০০৮,২৬। দুদকের প্রধান কার্যালয়, ঢাকা'র ইআর নং- তদন্ত-১/০০৮/২০২৬/তারিখ- ০৮/০১/ ২০২৬ ইং।দ্বিতীয় দুদক ঢাকা'র স্মারক নং- ০০,০১,০০০০.৫০৩. ২৬. ১৪৩.২৫.৪৮০৮, তারিখ-২১/১২/২০২৫ ইং। সর্বশেষ স্মারক-০০.০১.২৬০০,৬০৩.০১. ০০৮, ২৬, -৩৩৪৮৬/ (৬) স্মারকের মূলে গত- ০৩/০৯/২৬ইং তারিখে উপপরিচালক মুহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেনের স্বাক্ষরে অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।
অফিস আদেশের তথ্যে বলা হয়েছে, আলোচিত অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য দুদকের উপপরিচালক মো. আহসানুল কবির পলাশকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা এবং পরিচালক (অনু: ও তদন্ত-১) কে তদারককারী কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে কমিশন। এছাড়াও কমিশনের সিদ্ধান্তের আলোকে বিধি মোতাবেক অভিযোগটি অনুসন্ধান করে সুনির্দিষ্ট মতামত/সুপারিশ প্রদান করতে হবে এবং এর সপক্ষে রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মো. আহসানুল কবির পলাশকে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আ. দৈ./একে




















