গুলশানে ফ্যাসিস্ট আ’লীগের বিশাল মিছিল, থানা ওসি প্রত্যাহার
দুর্নীতির আখঁড়া ডিএনসিসি, প্রশাসক মিলটন দেশের বাইরে
আবুল কাশেম:

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক ও বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম খান মিলটনের থাইল্যান্ড লম্বা সফর নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে। ডিএনসিসি এবং মিরপুর, গুলাশান, বাড্ডা, উত্তরাসহ নগরীতে পথে ঘাটে চলছে নানা আলোচনা।
জানা যায়, গত ২৬ আগস্ট থেকে এখনো বিদেশে আছেন ডিএনসিসির প্রশাসক মিলটন। তিনি দেশে ফিরে না আসায় ডিএনসিসিতে প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম নিয়েও সংকট বেড়েই চলছে। তার সিদ্ধান্ত ও স্বাক্ষরের অপেক্ষায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ নতিপত্র পড়ে রয়েছে। তবে গত ১০ সেপ্টেম্বর তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তিনি দেশে আসেননি।
শুধু তাই নয়, রাজধানীসহ সারাদেশে ‘ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা ৩ মাসের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ণি প্লাজায় সমাবেশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন। ওই অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিলটনের উপস্থিত থাকার কথা ছিল,কিন্তু দেশে না থাকায়,তাকে ছাড়াই এই অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিলটনের একান্ত সচিব হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব ( সরকারের উপসচিব) প্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ‘ আজকের দৈনিক পত্রিকাকে’ বলেছেন, ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিলটন থাইল্যান্ডে অবস্থান করছেন। প্রশাসক স্যার কিছুটা অসুস্থ্। তিনি আগামী ১৬ কিংবা ১৭ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরতে পারেন। তিনি আরো জানান, প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান স্যার সরকারের অনুমতি নিয়েই বিদেশে গেছেন।
ডিএনসিসির দাপ্তরিক কার্যক্রমে স্তবিরতা ও অচলাবস্থা প্রসঙ্গে প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ব্যাখ্যাসহ করে বলেন, অফিসিয়াল নথিপত্রের মধ্যে যেগুলোতে প্রশাসক স্যার সই -স্বাক্ষর করার বিষয়টি আছে, তিনি এসে সই -স্বাক্ষর করবেন। তার স্বাক্ষর তো অন্য কেউ করবেন না। সব নথিপত্র আসছে, সেগুলো সাজিযে রাখা হচ্ছে । এতে কোন সমস্যা তো নেই। তবে ডিএনসিসির দাপ্তরিক কার্যক্রম স্তবির হয়ে থাকার অভিযোগ সঠিক নয়। প্রশাসক স্যার সরকারের অনুমতি নিয়েই বিদেশে গেছেন, চিকিৎসা শেষে সময় মতো অবশ্যই দেশে ফিরবেন।
এদিকে নাম না প্রকাশের শর্তে ডিএনসিসির একাধিক কর্মকর্তা ‘ আজকের দৈনিক পত্রিকাকে’বলেন, প্রশাসক দেশে না থাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী এলাকায় ‘গুলশানে’ প্রকাশ্যে দিবালোকে নিষিদ্ধে ঘোষিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগও সহযোগিত সংগঠনের লোকজন বিশাল মিছিল করার সুযোগ পেয়েছে। মিছিলে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিযে আতঙ্ক তৈরি করেছে। আর এই ঘটনায় থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তোরা আরো বলেন, প্রশাসক মিলটন দায়িত্ব গ্রহণের পরই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর, সুবিধাভোগী, ঠিকাদার, চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ ও শত শত কোটি টাকা লোপাটকারী সিন্ডিকেটের প্রভাবশালী সদস্যরা এখনো বহাল তবিয়তে আছেন। কোটি কোটি টাকার কেনা কাটা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে ফ্যাসিস্ট সরকারের লোকজনকেই দেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে বিএনপির মাঠে ময়দানের পরিক্ষীত দলীয় নেতা-কর্মীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। ডিএনসিসিতে প্রতিটি ওয়ার্ডে ২/৩টি গ্রুপ তৈরি করে রাখছেন প্রশাসক মিলটন। এর বিরুপ প্রভাব ইতোমধ্যে জনগণের মারেঝ পড়তে শুরু করেছে।
তারা আরো বলেন, সাবেক মেয়র অতিকুল ইসলাম ও সাবেক প্রশাসক এজাজের রেখে যাওয়া সিন্ডিকেটের অধিকাংশ সদস্যই বহার তবিয়তে রয়েছে। ‘জনগণের ট্যাক্স ও সরকারের অর্থায়নে’ পরিচালিত প্রতিষ্ঠান ডিএনসিসিকে আজ ভয়াবহ দুর্নীতির আখঁড়ায় পরিনত করেছেন।
ডিএনসিসির একাধিক কর্মকর্তা আক্ষেপ করে বলেন, সাবেক প্রশাসকদের রেখে যাওয়া বির্তকিত ও আপত্তিকর ঠিকাদারদের বেশকিছু নথিপত্রে স্বাক্ষর করে দ্রুত কোটি কোটি টাকার বিল দ্রুত পরিশোধ করার ব্যবস্থা করেছেন বর্তমান প্রশাসক এবং সিন্ডিকেটের কর্মকর্তারা। ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর ও বহুল আলোচিত বেশ কয়জন ঠিকাদারকে ডেকে শত শত কোটি টাকা কাজ দিয়ে যাচ্ছন প্রশাসক মিলটনের সিন্ডিকেট।
প্রশাসকের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ উঠেছে, বসুন্ধরা গ্রুপের মালিক পক্ষ এবং বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় ও ট্যাক্স নির্ধারণে গোপনে আতাত চলছে। এর আগে সাবেক প্রশাসক এজাজও একই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে ছিলন। কিন্তু ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে আইনী ব্যাখ্যা এবং আপত্তির ফলে সাবেক প্রশাসক এজাজের ওই উদ্যোগ সফল হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের পক্ষ থেকে দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে সাবেক প্রশাসক এজাজ আমলের এবং বর্তমান প্রশাসক মিলটনের দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে বড় বড় আইটেম কোটি কোটি টাকার কেনা কাটা এবং উন্নয়ন মলূক প্রকল্পের কাজ বন্টন এবং বিল পরিশোধের নথি তদন্ত করলে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে। আরো বেরিয়ে আসবে ডিএনসিসিতে কারা কি ভাবে ফ্রিস্টাইলে কোটি কোটি টাকা লোপাট করে যাচ্ছন এবং অথচ এর দায়ভার বর্তমান সরকারে ওপর চাপানো হচ্ছে।
এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য প্রশাসকের মুখপাত্র ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেনকে একাধিক বার তার মুঠো ফোনে কল করলে, তিনি ফোন রিসিভ করেননি। যারফলে তাদের বক্তব্য পাঠককে জানানো গেলো না।
আ. দৈ./একে




















