জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত, বাড়ছে লোডশেডিং
শাহীন রহমান

উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি না থাকায় আবারও তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। গ্যাসের ঘাটতি, এলএনজি সরবরাহে অনিশ্চয়তা, কয়লা ও তরল জ্বালানির সীমাবদ্ধতা, কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি সমস্যা এবং বাড়তি চাহিদা সব মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের সরবরাহ ঘাটতি। এর প্রভাব পড়ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। বাড়ছে লোডশেডিং, ব্যাহত হচ্ছে শিল্প উৎপাদন ও জনজীবন।
বিদ্যুৎ খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান সংকটকে শুধু ‘বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতি’ হিসেবে দেখলে সমস্যার মূল কারণ আড়ালে থেকে যাবে। দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট স্থাপিত সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট হলেও জ্বালানির অভাবে অনেক কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। ফলে কাগজে-কলমে যে উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে, বাস্তবে তার বড় অংশ কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না।
দেশে বর্তমান বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট। চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে সেই চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ বা সক্ষমতার নিচে উৎপাদন করায় গত রোববার দিনের একপর্যায়ে জাতীয় পর্যায়ে লোডশেডিং ৩ হাজার ৬৯২ মেগাওয়াটে উঠেছে। আগের দিনও ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৬১২ মেগাওয়াট। চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ ঘাটতি হয়েছিল ১০ আগস্ট—৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট। পিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন বর্তমান সংকটের প্রধান কারণ বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভাব নয়; বরং গ্যাস, ফার্নেস অয়েল ও কয়লার সরবরাহ সংকট এবং একাধিক বড় কেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে গরমের কারণে বাড়তি বিদ্যুৎ চাহিদা।
গ্যাসেই সবচেয়ে বড় ধাক্কা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় একটি অংশ গ্যাসনির্ভর। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই দেশে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সেই ঘাটতি আরও বেড়েছে। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন দিয়ে চাহিদা পূরণ না হওয়ায় কয়েক বছর ধরে এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে সরকার। কিন্তু আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত ভাসমান টার্মিনালগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে কারিগরি সমস্যা এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের চাপ কমেছে। অনেক কেন্দ্রকে সক্ষমতার তুলনায় কম উৎপাদন করতে হচ্ছে। কোনো কোনো কেন্দ্র আবার পর্যাপ্ত গ্যাস না পেয়ে উৎপাদন বন্ধ বা সীমিত করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে কাঙ্খিত উৎপাদন পাওয়া কঠিন। আর এই ঘাটতি পূরণ করতে বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে সরকারকে।
দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। কিন্তু ২৮ আগস্ট পেট্রোবাংলার হিসাবে সরবরাহ ছিল মাত্র ২৩৫ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ঘাটতি ছিল প্রায় ১৪৫ কোটি ঘনফুট। ৫০টি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু গ্যাসের অভাবে ২৭টি কেন্দ্র পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ রয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ২০০ থেকে ৫ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে; কোনো কোনো সময়ে উৎপাদন নেমে যাচ্ছে সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি।
পিডিবির হিসাব বলছে গত, ২৬ আগস্ট শুধু গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় ৪ হাজার ৫৯৩ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ব্যবহার করা যায়নি। পিডিবির কর্মকর্তারা অবশ্য বিভিন্ন সময়ে গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন কমার পরিমাণ প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট বলেও জানিয়েছেন। এটি সময়ভেদে কার্যকর উৎপাদন ঘাটতি, আর ৪ হাজার ৫৯৩ মেগাওয়াট হলো গ্যাসস্বল্পতার কারণে প্রভাবিত সক্ষমতার হিসাব।
এ অবস্থায় সরকার এখন গ্যাসের সমন্বয় করছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস কিছুটা কমিয়ে শিল্পে সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে। আগে বিদ্যুৎ খাতে দিনে প্রায় ৯৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেয়া হলেও তা কমিয়ে প্রায় ৮৫ কোটি ঘনফুট করা হয়েছে। বিপরীতে শিল্প, বাসাবাড়ি, সিএনজি স্টেশনসহ অন্যান্য খাতে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কারণ দীর্ঘদিন গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল। এর সরাসরি ফল পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো কম উৎপাদন করায় সেই ঘাটতি পূরণ করতে হচ্ছে তেল ও কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র দিয়ে।
অপর দিকে দেশে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট সক্ষমতা ৫ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু জ্বালানি তেলের সংকটে ৫৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৮টি পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ রয়েছে বলে পিডিবি জানিয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে সাধারণ সময়ে দেড় থেকে ২ হাজার মেগাওয়াট পাওয়া যাচ্ছে। তবে সন্ধ্যার পিক সময়ে উৎপাদন বাড়িয়ে কখনো কখনো ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি করা হচ্ছে। পিজিসিবি জানিয়েছে, ২৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলের সরবরাহস্বল্পতা ছিল। ফলে সংকটের সময় তেলভিত্তিক কেন্দ্রকে সর্বোচ্চ ব্যবহার করার পরিকল্পনা থাকলেও সব কেন্দ্র একসঙ্গে চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
এছাড়াও গ্যাসের বিকল্প হিসেবে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর ওপরও চাপ বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোও পুরো সক্ষমতায় চলছে না। দেশের কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর মোট সক্ষমতা প্রায় ৮ হাজার ৪২৩ মেগাওয়াট। সাম্প্রতিক সময়ে উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৮০০ মেগাওয়াটে। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি সমস্যায় বন্ধ রয়েছে। মাতারবাড়ী কেন্দ্রের একটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ। বড়পুকুরিয়ার দুটি ইউনিটেও কারিগরি সমস্যা রয়েছে। ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রও কয়লা সরবরাহের সমস্যায় পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। আদানির কেন্দ্রটির সক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। কিন্তু কয়লা সংকটের কারণে কোনো কোনো সময়ে সেখান থেকে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট পাওয়া যাচ্ছে। পিক সময়ে উৎপাদন বাড়িয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত সরবরাহ করা হচ্ছে।
রক্ষণাবেক্ষণেও বন্ধ ১,৭৭৮ মেগাওয়াট
শুধু জ্বালানি নয়, বিভিন্ন কেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণও সংকট বাড়িয়েছে। পিডিবির হিসাবে ২৬ আগস্ট রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের কারণে আরও ১ হাজার ৭৭৮ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা বন্ধ ছিল। বড়পুকুরিয়া, বাঘাবাড়ী, সিরাজগঞ্জসহ কয়েকটি কেন্দ্রের উৎপাদনও বন্ধ বা সীমিত ছিল। অর্থাৎ বর্তমানে বিদ্যুৎ ঘাটতির পেছনে দুটি আলাদা সমস্যা কাজ করছে একদিকে জ্বালানি নেই, অন্যদিকে কিছু কেন্দ্র জ্বালানি পেলেও কারিগরি কারণে উৎপাদন করতে পারছে না। সরবরাহ কমার পাশাপাশি চাহিদাও বাড়ছে। তাপমাত্রা বাড়ার কারণে গত কয়েক দিনে পিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটের বেশি হয়েছে। অফ-পিক সময়েও চাহিদা প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াট। অথচ জ্বালানি সংকটে পিক সময়ে ১৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিদ্যুত সংকটের প্রথম দিকে মূলত রাজধানীর বাইরে লোডশেডিং করা হচ্ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি তীব্র হওয়ায় ১২ আগস্ট থেকে ঢাকাতেও লোডশেডিং শুরু হয়। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজধানীতে তুলনামূলক সহনীয় মাত্রায় প্রতিটি এলাকায় প্রায় এক থেকে দুই ঘণ্টা লোডশেডিং রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এরপর জেলা শহর এবং সবশেষে প্রত্যন্ত গ্রামকে লোডশেডিংয়ের আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে মাঠপর্যায়ে অনেক এলাকায় নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্যাসের সরবরাহ না বাড়া, বড় কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের ইউনিট বন্ধ থাকা, আদানি থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ না পাওয়া এবং তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো সবসময় পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে না পারার কারণে ঘাটতি বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা আরও বলছেন, গ্যাস সরবরাহ বাড়লেই সব কেন্দ্র সঙ্গে সঙ্গে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে পারে না। কোনো কেন্দ্রের কারিগরি সক্ষমতা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য জ্বালানি সংকটও উৎপাদনের ওপর প্রভাব ফেলে। একই সময়ে চাহিদা কতটা বাড়ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ
জানা গেছে সরকার এখন সংকট সামাল দিতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। গ্যাসের পরিবর্তে ফার্নেস অয়েল বা ডিজেল ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হলেও এর খরচ অনেক বেশি। ফলে তেলভিত্তিক উৎপাদন বাড়ালে তাৎক্ষণিকভাবে লোডশেডিং কমানো সম্ভব হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘ সময় এভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে সরকারের ব্যয় বাড়বে। বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি ও আর্থিক চাপও বাড়তে পারে। সরকারের পরিকল্পনার একটি অংশ হচ্ছে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কিছুটা কমিয়ে তেল ও কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ানো, যাতে সীমিত গ্যাস শিল্পসহ বেশি প্রয়োজনীয় খাতে সরবরাহ করা যায়।
সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ
বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার কয়েকটি স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি উদ্যোগ নিয়েছে। প্রথমত, গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাসের ওপর চাপ কমবে এবং সেই গ্যাস শিল্পসহ অন্যান্য খাতে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। দ্বিতীয়ত, তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য কয়েক হাজার মেগাওয়াট অতিরিক্ত তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করা।
তবে উচ্চ উৎপাদন ব্যয়ের কারণে এটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। তৃতীয়ত এলএনজি সরবরাহের উৎস বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীর সংখ্যা বাড়ানো হলে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং একটি নির্দিষ্ট উৎসের ওপর নির্ভরতা কমবে বলে মনে করছে সরকার। চতুর্থত, ভাসমান টার্মিনালের কারিগরি সমস্যা দ্রুত সমাধান করে এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। নতুন এলএনজি টার্মিনাল বা আমদানি সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও কাজ চলছে। এ ছাড়া সরকার দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ আমদানিকৃত এলএনজি-এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আন্তর্জাতিক বাজার ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কাছে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
বিশেসজ্ঞরা বলছেন মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংঘাত বাড়লে এলএনজি ও জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক সরবরাহ ও পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ যেহেতু এলএনজি কয়লা ও তেলের একটি বড় অংশ আমদানি করে, তাই আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বা সরবরাহে বড় পরিবর্তন হলে তার প্রভাব দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করে সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো, এলএনজি আমদানির উৎস বহুমুখী করা, ভাসমান টার্মিনাল ও পাইপলাইন অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়ানো, কয়লা ও তেল আমদানির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করাও জরুরি।
কারণ বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও জ্বালানি কেনার অর্থ না থাকলে সেই কেন্দ্র বাস্তবে উৎপাদন করতে পারবে না। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সংকট হঠাৎ তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে পর্যাপ্ত গুরুত্ব না দিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থাকে আমদানিনির্ভর করার ফল এখন পাওয়া যাচ্ছে। ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলমের মতে, বাংলাদেশ অনেক আগেই অতিরিক্ত আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছে। আমদানি ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনাও সংকটকে গভীর করেছে। তাঁর মতে, কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া এই সংকট স্থায়ীভাবে কাটানো কঠিন।
আ.দৈ/এসআর




















