ইসলামী ব্যাংকের ভুয়া লোনের ভুত এখন ইউসিবিতে
জামানতের শর্ত শিথিল করে নাবিল গ্রুপকে ১৮৬৫ কোটি টাকা দিচ্ছে ইউসিবি
প্রিমিয়ার ব্যাংকের লোন পরিশোধে ব্যবহার হবে ইউসিবির টাকা
বিশেষ প্রতিনিধি

কোমায় থাকা ইউসিবি ব্যাংক লুটেপুটে খেতে উঠে পড়ে লেগেছে, বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামদুদুর রশিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংক কতৃক গঠিত পরিচালনা পর্ষদ। ২৪ এর জুলাই বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর পরিবারের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে বেসরকারি খাতের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)।
ব্যাংকটির সাবেক পরিচালনা পর্ষদের অনিয়মের কারণে সৃষ্টি হয়েছে বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ ও বিশাল মূলধন ঘাটতি। এমন এক নাজুক পরিস্থিতিতে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ এস আলম গ্রুপের সহযোগী হিসেবে পরিচিত ও বর্তমানে জামাত ঘনিষ্ট ‘নাবিল গ্রুপ’কে জামানতের শর্ত শিথিল করে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে এক হাজার ৮৬৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইউসিবি বর্তমান এমডি মামদুর রশিদ ও পরিচালনা পর্ষদ এর একটি অংশ।
বিতর্কিত এই গ্রুপটিকে এত বড় অঙ্কের নতুন অর্থায়ন করা নিয়ে ব্যাংকটির ভেতরে-বাইরে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের বক্তব্য জামানতবিহীন ঋণের বেশীরভাগ অংশ অন্য ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ এবং বর্তমান সরকারকে বিপাকে ফেলানের কাজে ব্যবহৃত হবে। ইউসিবির যেখানে মূলধন ও প্রভিশন ঘাটতি সামাল দিয়ে আমানতকারীদের আস্থা ফেরানো ইউসিবির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত, সেখানে এমন এক আলোচিত ও ঝুঁকিপূর্ণ গ্রুপকে বিনা জামানতে বিপুল অর্থায়ন ব্যাংকটির ভবিষ্যৎকে আরও সংকটে ফেলবে।
নথি অনুযায়ী, বর্তমানে ইউসিবির মোট ৬১ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকার ঋণের মধ্যে ৯ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকাই খেলাপি। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা এবং মূলধন ঘাটতি প্রায় ২ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা। এমন চরম আর্থিক চাপের মধ্যেও ব্যাংকটির রাজশাহী শাখার নতুন গ্রাহক নাবিল গ্রুপের বিদ্যমান ৮৪৫ কোটি টাকার ঋণসীমা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৬৫ কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
শুধু ঋণসীমা বাড়ানোই নয়, প্রস্তাবনা অনুযায়ী অন্য ব্যাংকের পুরোনো দায় মেটাতেও ইউসিবির তহবিল ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। প্রিমিয়ার ব্যাংকে নাবিল গ্রুপের থাকা ৫২০ কোটি টাকার ওভারড্রাফট ও দায় পরিশোধে বিশেষ ঋণ দিচ্ছে ইউসিবি। ব্যাংকিং খাতে এক ব্যাংকের নতুন ঋণ দিয়ে অন্য ব্যাংকের বকেয়া শোধের এমন সুযোগ দেওয়া বিরল। এছাড়া নাবিল গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ১ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকার ঋণসীমা ভাগাভাগি করে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকের অনুকূলে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বন্ধকী দলিল ও চার্জ সম্পন্ন করতে নাবিল গ্রুপকে ৩৬০ দিন বা পুরো এক বছর সময় দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে ইউসিবির ক্রেডিট কমিটি।
এই বিষয়ে জানতে চেয়ে ইউসিবি ব্যাংকের এমডি মামদুদুর রশিদকে একাধিক বার ফোন ও ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোন জবাব দেননি। এই বিষয়ে বক্তব্য চেয়ে ইউসিবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান শরিফ জহিরকে একাধিক বার ফোন ও ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি ও কোন জবাব দেননি। তবে ইউসিবি ব্যাংকের জনসংযোগ কর্মকর্তা চিরন্জন সরকার বলেন তথ্যটি পুরাপুরি সত্য না অনেক খানি গ্যাপ আছে কার্যদিবসে জেনে জানাতে পারবো।
আ.দৈ/আরএস




















