টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ, প্রথমবার ছয়ে
স্পোর্টস রিপোর্টার

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে পাওয়া ঐতিহাসিক জয়ের পুরস্কার এবার মিলল আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়েও। সিরিজের শেষ টেস্টে হেরে গেলেও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেই জয় বাংলাদেশকে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অবস্থানে তুলে দিয়েছে। প্রথমবারের মতো ছয় নম্বরে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। শীর্ষ দলের বিপক্ষে ডারউইনে জয়ের পরই বাংলাদেশের ছয়ে ওঠা প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। সিরিজ শেষ হওয়ার পর আইসিসির আনুষ্ঠানিক হালনাগাদে সেটিই চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হয়েছে।
এর আগে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অবস্থান ছিল সাত নম্বর। গত মে মাসে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে সেই অবস্থানে উঠেছিল তারা। তবে জিম্বাবুয়ে সফরে পরাজয়ের পর আবারও সেই জায়গা হারাতে হয়। এবার নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দল নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেল। ৭৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশের রেটিং বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮-এ। এর ফলে ৭৫ পয়েন্টের পাকিস্তান ও ৭৬ পয়েন্টের শ্রীলঙ্কাকে পেছনে ফেলেছে তারা।
অন্যদিকে সিরিজে একটি ম্যাচ হারলেও র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে হারের প্রভাব পড়েছে তাদের রেটিংয়ে। সিরিজ শুরুর ১৩১ পয়েন্ট থেকে কমে অস্ট্রেলিয়ার রেটিং এখন ১২৬। র্যাঙ্কিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার পর ১১৯ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকা। নিউ জিল্যান্ড ১০৬ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় এবং ভারত ১০৪ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ। বাংলাদেশের ঠিক ওপরে থাকা ইংল্যান্ডের রেটিং ৯৯।
টেস্টে নতুন এই উচ্চতা বাংলাদেশের ক্রিকেটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ২৬ বছরের টেস্ট পথচলায় এবারই প্রথম ছয় নম্বরে জায়গা করে নিল দলটি। ওয়ানডেতেও বাংলাদেশের সেরা অবস্থান ছয় নম্বর। ২০১৭ সালের মে মাসে মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বাধীন দল প্রথমবার সেই অবস্থানে উঠেছিল। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অবস্থান ছিল চতুর্থ—২০১২ সালের জুলাইয়ে। তবে সে সময় টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের কাঠামো ছিল তুলনামূলক নতুন এবং বিভিন্ন দলের কম ম্যাচ খেলার প্রভাবও র্যাঙ্কিংয়ে ছিল।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পাওয়া ঐতিহাসিক জয় তাই শুধু একটি টেস্ট জয়ের স্মৃতি হয়ে থাকছে না; বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটকে পৌঁছে দিচ্ছে নতুন এক মাইলফলকে। প্রথমবার ছয়ে ওঠা সেই অর্জনেরই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
আ.দৈ/এসআর




















