প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিবের দপ্তরের অনুমতি নেই !
ডিএনসিসির পিআরও জাকিরের স্বাক্ষরেই অবৈধভাবে ২ জনকে নিয়োগের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা, সরকারি আইন বিধি লঙ্ঘন করে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে দুইজন কর্মচারীকে নিজে স্বাক্ষর করে জনসংযোগ বিভাগে ভালো বেতনে অবৈধভাবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপত্র দিয়েছেন। অথচ এই বিষয়ে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান ও তার দপ্তরের অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে জানানো হয়।
ডিএনসিসির আইন বিধিতে পরিস্কার বলা আছে, কাউকে চাকরি দিতে হলে, প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিবের দপ্তরের অনুমোদন নিতে হবে। এমনকি মন্ত্রণালয়েরও অনুমতি প্রয়োজন আছে।
সূত্র মতে, জনসংযোগ কর্মকর্তা মো.জাকির হোসেনের স্বাক্ষরে এবং একক ক্ষমতায় গত ২১ জুলাই জারি করা নিয়োগপত্রে ‘ঢাকা স্মারক নং-৪৬.১০.০০০০.০২৪.২৬’ মূলে মোঃ সাইদুল ইসলাম, পিতা-মোঃ আনছার হাওলাদার, মাতা-সুরাইয়া বেগমকে চাকরি দিয়েছেন।
এই নিয়োগের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জনসংযোগ বিভাগে প্রেস সংক্রান্ত দাপ্তরিক কাজে চুক্তিবদ্ধ করণ। তিনি আরো উল্লেখ করেছেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ বিভাগের প্রেস সংক্রান্ত কাজে দাপ্তরিক সহায়তার জন্য মোঃ সাইদুল ইসলাম, পিতা-মোঃ আনছার হাওলাদার, মাতা-সুরাইয়া বেগম স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম-ইন্দ্রকুল, ডাকঘর-ইন্দ্রকুল, থানা-বাউফল, জেলা-পটুয়াখালী। জাতীয়তা-বাংলাদেশী, জাতীয় পরিচয় পত্র নং-৫৫৬৮৫৪৩৯১১ কে অস্থায়ী ভিত্তিতে মাসিক ১৯,৫০০/-টাকার বিপরীতে চুক্তিবদ্ধ করা হলো। এই চুক্তি অস্থায়ী ভিত্তিতে এবং কর্তৃপক্ষ এই চুক্তি কোন কারণ ব্যতিরেকে বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন।
এছাড়াও গত ১৩ জুলাই জনসংযোগ কর্মকর্তা মো.জাকির হোসেনের স্বাক্ষরে দ্বিতীয় নিয়োগপত্রে ‘স্মারক নং-৪৬.১০,০০০০, ০২৪,০৪,০৩৫.২৬-১৩০’ মূলে একই ভাবে সাইফুল ইসলাম টিপু কে চাকরি দিয়েছেন। চাকরির চিঠিতে তাকে জনসংযোগ বিভাগে চুক্তিবদ্ধ করা হয়েছে। নিয়োগের চিঠিতে সাইফুল ইসলাম টিপরে পিতা- মাতার নাম , স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা এবং মাসিক বেতন উল্লেখ করা হয়নি।
চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন নথির ও পত্রের মুদ্রণ কাজের জন্য সাইফুল ইসলাম টিপুকে জনসংযোগ বিভাগের অধীনে দাপ্তরিক কাজের জন্য চুক্তিবদ্ধ করা হলো। আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে গুলশানস্থ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনে জনসংযোগ বিভাগে যোগদানের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হলো।
চুক্তিবদ্ধর শর্তাবলীতে বলা হয়েছে; ১। প্রদত্ত কাজটি আপনার কর্তৃক কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারে সম্পাদন করতে হবে। ০২। কাজ সম্পন্ন করার পর নিম্ন স্বাক্ষকারীর নিকট দাখিল করতে হবে। ০৩। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা সঠিক সময়ে অফিসে উপস্থিত হতে হবে। ০৪। যে কোন কারন দর্শানো ব্যতিরেকে কর্তৃপক্ষ চুক্তি বাতিল করতে পারবে। (মোঃ জাকির হোসেন) জনসংযোগ কর্মকর্তা।
ওই চিঠিতে আরো বলা হয়েছে; সদয় অবগতির জন্য অনুলিপি প্রেরণ করা হলো (জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নয়)
১। সচিব, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, ২। প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন
৩। মাননীয় প্রসাশক মহোদয়ের একান্ত সচিব, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (মাননীয় প্রসাশক মহোদয়ের সদয় অবগতির জন্য)
৪। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার স্টাফ অফিসার, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সদয় অবগতির জন্য) , ৫। ফাইল কপি। ৬। অফিস কপি।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসকের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের অতিথিদের অ্যাপায়ন সহ নানা কেনা কাটা এবং অফিসিয়াল বিবিধ খরচ দেখিয়ে ইচ্ছামতো বিল ভাউচারের মাধ্যমে লোপাট শুরু করেছেন। একই ওই খরচের একটা অংশ থেকে প্রতি মাসে এই দুইজনকে প্রায় ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার নামে বিল করা টার্গেট রয়েছে।
এসব বিষয়ে ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তারের সাথে আজকের দৈনিক পত্রিকার থেকে যোগাযোগ করা হয়ে তিনি ওই দুইজনকে চাকির দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, তার দপ্তরের কাজের স্বার্থে এই দুইজনকে চুক্তিভিত্তিক কাজের জন্য আনা হয়েছিল। এখন আর তারা কাজ করে না। তবে টাকার বিনিময়ে চাকরি ওেয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
আ. দৈ./একে




















