ঢাকা দুই সিটিসহ সবসিটি ও পৌরসভার নিরবতায় ক্ষতিকারক খাদ্যপন্যে বাজার সয়লাব
৩ প্রতিষ্ঠানকে ৩৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত
আবুল কাশেম

সাবধান ! রাজধানী ঢাকা সহ সারাদেশে মারাত্মক ভেজাল, নিম্মমানের ও ক্ষতিকারক উপকরণে তৈরি করা খাদ্য পন্যে বাজার সয়লাব। কিন্তু সরকারের দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকটা নিরবতার সুযোগে এক শ্রেনি অতিমোনাফা লোভী ব্যবসায়ী এবং প্রতিষ্ঠানের মালিকরা রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হচ্ছেন। মারাত্মক ভেজাল, নিম্মমানের ও ক্ষতিকারক উপকরণে তৈরি করা খাদ্য তৈরি, বাজারজাত ও খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। এ পরিস্থিতিতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ সব সিটি করপোরেশন , পৌরসভা জেলা প্রশাসনকে আরো সক্রিয় হবার দাবি উঠেছে।
এদিকে গতকাল (বৃহস্পতিবার ( ১৩ আগস্ট) ঢাকা দক্ষিণ সিটির নগর ভবনে স্থাপিত ঢাকায় বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত অভিযুক্ত ইস্ট জিবাই ইন্টারন্যাশনাল ফুড লিমিটেড, ইস্টেকেক ইন্টারন্যাশনাল ফুড লিমিটেডের এবং আর বোটিং ফুড লিমিটেডকে খাদ্য পন্য তৈরিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক দ্রব্য প্রিজারভেটিভ ব্যবহারের পাশাপাশি মিথ্যা বিজ্ঞাপন প্রচারের সুনিদিষ্ট অপরাধে এই ৩ প্রতিষ্ঠানকে ৩৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন।
বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ,মাহমুদুল হক আসামিদের জরিমানা করে আদেশ জারি করেন। এরআগে অভিযুক্ত ওই ৩ প্রতিষ্ঠানের মালিক পক্ষ বিচারিক আদালতে হাজির হয়ে স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করেন এবং এই ধরনের অপরাধ আর করবেন না বলে অঙ্গিকার করেন।
মামলার প্রসিকিউশন কর্মকর্তা ও ডিএসসিসির নিরাপদ খাদ্য পরির্দমক মোহাং কামরুল হাসান আজকের দৈনিক পত্রিকাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরো জানান, আদালতের আদেশে আর বোটিং ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের মালিককে ১০ লাখ টাকা এবং ইস্ট জিবাই ইন্টারন্যাশনাল ও ইস্টকেক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের মালিককে ২৪ লাখ টাকাসহ মোট ৩৪ লাখ টাকা জরিমানা করেন। এই আদেশ জারির সাথে সাথে তাৎক্ষণিক জরিমানার ৩৪ লাখ টাকা আদায় হয়। একই সাথে ভবিষ্যতে ভালো খাবার উৎপাদন করে ব্যবসা করবেন বলে অঙ্গীকার করেন।
তিনি বলেন, মামলায় উক্ত ৩ প্রতিষ্ঠানের তৈরি খাদ্যপন্যে স্লাইস ব্রেড সহ সকল খাদ্য পণ্য এবং খাদ্য পণ্য ইস্টকেক পুর পিঠা, ইস্ট বেকার স্লাইস ব্রেড মিল্ক জ্যাম ফিল্ড ইনটেক ল্যাব টেস্ট পরীক্ষায় মানসম্মন্ন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এসব খাদ্য পন্য স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি ও ক্ষতিকার। ফলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ এর ২৬/২৭/৩৯/৪১ ধারায় গত ৬ জুলাই দায়ের হওয়া মামলাটি গ্রহণ করেন। প্রসিকিউশন কর্মকর্তা মোহাং কামরুল হাসান বিচারিক আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেন।
বিচারিক আদালত তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তদের তৈরি করা খাদ্যপন্যে অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ যুক্ত সকল খাদ্য পণ্য বাজার/ মার্কেট থেকে উত্তোলনের জন্য মামলার প্রসিকিউশন কর্মকর্তা দাখিলকৃত আবেদনটি আমলে নেন । একইসাথে উক্ত আদালত বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে সংশ্লিষ্ট খাদ্যপণ্য বাজার থেকে উত্তোলনের জন্য আদেশ দেন। মোতাবেক সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো সংশ্লিষ্ট খাদ্য পণ্য গুলো উত্তোলন করে গত ১২ আগস্ট বুধবার উক্ত আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। এরপর গতকাল ১৩ আগস্ট আদালত তাদেরকে ৩৪ লাখা টাকা জরিমানা আদায় করেন এবং এ ধরনের অপরাধ আর কখনো করবে না মর্মে অঙ্গিকার নামা আদায় করেন।
আ. দৈ./কাশেম




















