রাজধানীর বেইলি রোডের দুর্বল গাইড ওয়াল ভেঙে ফেলা হচ্ছে
এখনো ডিএসসিসিকে ফুটপাত ও ড্রেনেজ নির্মাণে দুর্নীতির শোকজের জবার দেয়নি ঠিকাদার
আবুল কাশেম:

রাজধানীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ভিআইপি রোড হিসেবে পরিচিত বেইলি রোড,মিন্টু রোড, হেয়ার রোড এবং অফিসার্স ক্লাব রোড সংলগ্ন এলাকায় ফুটপাত ও ড্রেনেজ নির্মাণ কাজে ভয়াবহ জালিয়াতি, প্রতারণা,গুরুতর অনিয়মসহ দুর্নীতির সুনিদিষ্ট অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘DIC & AW (JV)’-কে শোকজ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।
প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালামের গত ০৩ আগস্ট অঞ্চল-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জয় স্বাক্ষরিত স্মারকে ( নং: ৪৬.২০৭.০১৪. ২৫.১৪. ৩৯.২০২৬) নম্বরে ৩ দিনের মধ্যে জবাব চেয়ে ওই ঠিকাদারকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়। এই শোকজ নোটিশের সাথে ঠিকাদারকে নিম্মমানের উপকরণ ব্যবহার, জালিয়াতি এবং অনিয়মের মাধ্যমে বেইলি রোড এলাকায় (অফিসার্স ক্লাব মোড় থেকে হেয়ার রোড পর্যন্ত) চলমান ফুটপাত ও ড্রেনেজ নির্মিত ৯ মিটার গাইড ওয়াল অবিলম্বে ভেঙে পুনঃনির্মাণের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছিল।
কিন্তু আজ ১৩ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত ১০দিনেও প্রশাসকের নির্দেশে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শোকজের জবার ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা হয়নি বলে জানা যায়। তবে শোকজের জবাব না দিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে গোপনে ডিএসসিসি সংশ্লিষ্ট একাধিক দপ্তরে যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা যায়। তবে অফিসার্স ক্লাব মোড় থেকে হেয়ার রোড পর্যন্ত চলমান আগের নির্মিত ফুটপাত ও ড্রেনেজের দুর্বল গাইড ওয়ালটি ভেঙে পুনঃনির্মাণের কাজটি শুরু করেছে বলে জানা যায়।

ডিএসসিসির সূত্র মতে, ডিএসসিসি অঞ্চল-১ এর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাব মোড় থেকে হেয়ার রোড পর্যন্ত চলমান ফুটপাত ও ড্রেনেজ নির্মাণ কাজে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির সুনিদিষ্ট অভিযোগের বিষয়টি গত ৩ আগস্ট ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রাসেল রহমান গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরো জানিয়েছেন, গত ০২ আগস্ট দিবাগত রাত সাড়ে ১০ টায় ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বেইলি রোডস্থ ২৪ নম্বর বাংলোর সামনের উন্নয়ন কাজ সরেজমিনে পরিদর্শনকালে এই অনিয়মের বিষয়টি ধরা পড়েছে।
ওইদিন পরিদর্শনকালে প্রশাসক দেখতে পেয়েছে, ৯ মিটার গাইড ওয়াল নির্মাণে সিডিউল ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী গুণগত মানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়নি। এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী বা কার্য-সহকারীর উপস্থিতি ছাড়াই সম্পূর্ণ অননুমোদিতভাবে রাতের আঁধারে ঢালাই কাজ সম্পাদন করা হচ্ছিল।
অথচ চুক্তি দলিলের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ শর্তাবলি (GCC Section: 3) অনুযায়ী প্রতিটি উন্নয়ন কাজে নির্দিষ্ট মানসম্পন্ন সামগ্রী ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। এই অনিয়ম ও জালিয়াতির প্রেক্ষিতে চুক্তি দলিলের শর্ত (GCC Clause-27: Rejection of works) অনুযায়ী অননুমোদিত ও স্পেসিফিকেশন বহির্ভূত কাজটি অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি নির্মিত অংশটি ভেঙে অপসারণ করে নতুনভাবে নির্মাণের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (পিপিআর) এবং চুক্তির শর্ত ভঙ্গের দায়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান 'DIC & AW (JV)'-কে আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ০৩ আগস্ট) ডিএসসিসির অঞ্চল-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জয় স্বাক্ষরিত স্মারকে নং: ৪৬.২০৭.০১৪.২৫.১৪ .৩৯. ২০২৬ মূলে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়।
এদিকে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালামের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নগরীর উন্নয়ন কাজের মান বজায় রাখতে যেকোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সিটি কর্পোরেশন 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করবে। একই সাথে নির্মাণ কাজের গুণগত মান সুনিশ্চিত করতে এ ধরনের আকস্মিক নৈশ পরিদর্শন অব্যাহত থাকবে।
আ. দৈ./ কাশেম




















