আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুর্দান্ত গোল, টুর্নামেন্টসেরা কাব্রাল
স্পোর্টস ডেস্ক

ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে নিজের অসাধারণ নৈপুণ্যে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছেন কেপ ভার্দের তরুণ ফুটবলার সিডনি লোপেস কাব্রাল। আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশন আয়োজিত বিশ্বকাপ ২০২৬-এ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে করা তার দুর্দান্ত গোলটি জিতে নিয়েছে টুর্নামেন্টের সেরা গোলের স্বীকৃতি।
‘রাউন্ড অব ৩২’-এর সেই ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে অবিশ্বাস্য এক মুহূর্ত উপহার দেন কাব্রাল। আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার-কে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে নিখুঁত বাঁকানো শটে বল পাঠান গোলের ওপরের কোণে, যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। সেই গোলেই ম্যাচে সমতা ফেরে ২-২ ব্যবধানে। যদিও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে হেরে যায় কেপ ভার্দে, তবুও কাব্রালের সেই গোলই হয়ে ওঠে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত।
ম্যাচের আগে লিওনেল মেসি-এর সঙ্গে ছবি তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন কাব্রাল। কিন্তু ম্যাচ শেষে নিজের পারফরম্যান্স দিয়েই বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেন তিনি। এই পুরস্কারের দৌড়ে তিনি পেছনে ফেলেছেন এলদর শোমুরোদভ এবং উইলসন ইসিদোর-এর মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের। এর আগে এই সম্মান জিতেছেন ম্যাক্সি রদ্রিগেজ, দিয়েগো ফোরলান, হামেস রদ্রিগেজ, বেনজামিন প্যাভার্ড এবং রিচার্লিসন।
নিজের গোল নিয়ে কাব্রাল বলেন, প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে জায়গা পেয়ে তিনি শট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং ওপরের কোণ লক্ষ্য করে নিখুঁতভাবে বলটি মারেন। গোল হওয়ার মুহূর্তে তিনি নিজেও বিস্মিত হয়ে পড়েন এবং সতীর্থদের প্রতিক্রিয়া দেখে আনন্দে ভেসে যান।
তবে এই আনন্দঘন মুহূর্তে ঘটে যায় আবেগঘন এক ঘটনা। গ্যালারিতে থাকা তার মা তেরেসা ছেলের গোল দেখে উত্তেজনায় অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে সতীর্থ ও দর্শকদের সহায়তায় তাকে সামলানো হয়।
২৩ বছর বয়সী এই ফুটবলারের গল্পও কম নাটকীয় নয়। মাত্র তিন বছর আগেও তিনি জার্মানির নিম্নস্তরের লিগে খেলতেন এবং কষ্টের জীবনযাপন করতেন। সেখান থেকে উঠে এসে বিশ্বকাপের মঞ্চে সেরা গোলের পুরস্কার জেতা—তার এই যাত্রা এখন অনুপ্রেরণার প্রতীক।
তার গোলের প্রশংসা করেছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি মার্সেলো-ও। কাব্রাল জানান, তার মতো একজন আদর্শ ফুটবলারের কাছ থেকে এমন স্বীকৃতি পাওয়া তার জন্য অবিশ্বাস্য অনুভূতি।
আ.দৈ/আরএস




















