আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে অপহরণ ও মুক্তিপণ বাণিজ্য: আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ
শাহীন রহমান

সম্প্রতি বিয়ের পাত্রী দেখতে যাওয়ার পথে অপহরণের শিকার হন কেরাণিগঞ্জের অটোরিকশাচালক মো. সুন্দর আলী (৪৬)। তাঁকে আটকে রেখে পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে র্যাবের অভিযানে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অপহরণ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় কর্মকর্তা সাব্বির হোসেন (ছদ্মনাম) গত সপ্তাহে এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে বের হয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হন। দু’দিন পর তার পরিবারের কাছে অচেনা এক নম্বর থেকে ফোন আসে। ওপাশ থেকে গর্জে ওঠে কর্কশ কণ্ঠ“পাঁচ লাখ টাকা বিকাশ না করলে তোর ছেলের লাশও পাবি না।” আতঙ্কে দিশেহারা পরিবার দ্রুত তিন লাখ টাকা সংগ্রহ করে ওই চক্রকে পাঠায়। পরে টঙ্গীর একটি নির্জন ইটভাটার কাছ থেকে হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় সাব্বিরকে উদ্ধার করা হয়।
সাব্বিরের এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন রূপকথা বা কাল্পনিক গল্প নয়। এটি আজ দেশের অলিতে-গলিতে গড়ে ওঠা এক অদৃশ্য ও ভয়াবহ সিন্ডিকেটের প্রতিদিনের চিত্র। মিরপুরের তরুণ স্নাতক তানজিল আহমেদ (২৪)। অনলাইনে লোভনীয় বেতনে একটি বায়িং হাউজে ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য আশুলিয়া এলাকায় যান। ইন্টারভিউয়ের স্থান হিসেবে একটি বহুতল ভবনের কথা বলা হলেও সেখানে পৌঁছানোর পরই পাঁচজন যুবক তার চোখ বেঁধে ফেলে।
তিন দিন ধরে একটি স্যাঁতসেঁতে ঘরে আটকে রেখে লোহার রড দিয়ে পেটানো হয় তাকে। তানজিলের বাবার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা বিকাশের মাধ্যমে নেওয়ার পর তাকে সাভারের একটি নির্জন রাস্তায় ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা। তানজিল এখন হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকার কাছাকাছি নিজেদের পানের বরজে কাজ করছিলেন তিন কৃষক—রফিক, ছালাম ও জামাল। অস্ত্রধারী ৮-১০ জনের একটি দল হঠাৎ তাদের ওপর চড়াও হয় এবং গহীন পাহাড়ে নিয়ে যায়। চার দিন ধরে তাদের কোনো খোঁজ ছিল না। পরবর্তীতে অপহরণকারীরা পরিবারের কাছে ফোন করে প্রতিজনের জন্য তিন লাখ টাকা দাবি করে। অসহায় পরিবারগুলো নিজেদের গবাদিপশু ও বসতভিটার শেষ সম্বল বিক্রি করে টাকা পরিশোধের পর রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের ফেরত পায়।
এটি সম্প্রতি অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের কয়েকটি ঘটনা। বিশেষজ্ঞরা বলছে বিগত আওয়ামী লীগ সময়ের অপহরণের ঘটনা হতো মুলত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। বিশেষ করে বিরোধী মতাদর্শ দমন বা সরকারের সমলোচনা করলে অপরহরণ করে গুম করা হতো। এখন সেই চিত্র বদলেছে। তবে ভিন্নভাবে ফিরে এসছে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা। সংঘব্ধ অপরাধী চক্র এখন অপহরণের ঘটন ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়ে পড়ছে। এই ঘটনায় মানুষ আতঙ্কিত।
রেকর্ড বলছে সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে অপহরণ, গুম ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত কয়েক মাসে অপহরণকারীদের কার্যপদ্ধতি যেমন বদলেছে, তেমনই আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে তাদের অপরাধের মাত্রা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির আশ্বাসের পরও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিনিয়ত নিখোঁজ হচ্ছেন চাকরিপ্রার্থী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এমনকি সাধারণ কৃষকরাও। বিশেষ করে মুক্তিপণ আদায়, ব্যক্তিগত বিরোধ, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, শিশু অপহরণ এবং সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের তৎপরতার কারণে এ ধরনের অপরাধ নতুন মাত্রা পেয়েছে।
বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত পুলিশ পরিসংখ্যান ও গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে অপহরণ মামলার সংখ্যা আগের কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এ সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা বেড়ে ৬৪২-এ পৌঁছায়। ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসেই ৫১৭টি অপহরণ মামলা দায়ের হয়েছে, যা পূর্ববর্তী অনেক বছরের মোট বার্ষিক সংখ্যার কাছাকাছি।
এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায় যে অপহরণের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৮৬টি অপহরণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬১ শতাংশ বেশি। সম্প্রতি সময়ে এই ঘটনা আরও বেড়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে অপহরণের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে অধিকাংশ ঘটনা সরাসরি জোরপূর্বক অপহরণের মাধ্যমে সংঘটিত হতো, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে প্রতারণা বা কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। চাকরির প্রলোভন, ব্যবসায়িক বৈঠকের কথা বলে ডেকে নেওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের মাধ্যমে বিশ্বাস অর্জন কিংবা অনলাইন লেনদেনের ফাঁদ ব্যবহার করে ভুক্তভোগীকে নির্জন স্থানে নিয়ে আটক করার ঘটনা বেড়েছে।
মুক্তিপণ আদায় এখনো অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। অপহরণের পর দ্রুত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ দাবি করা হয়। প্রযুক্তির ব্যবহার অপরাধীদের কার্যক্রমকে আরও দ্রুত ও সংগঠিত করেছে। মঙ্গলবার র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০ এর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চর কুন্দলিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুন্দর আলীর প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি দ্বিতীয় বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।
গত রোববার বিকেলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের গোলাম বাজার থেকে মেয়ে দেখতে রামেরকান্দা এলাকায় যাচ্ছিলেন। পথে ধর্মশুর এলাকায় পৌঁছালে কুদ্দুসসহ চারজন তাঁর অটোরিকশার গতিরোধ করে। তাঁকে মারধর করে জোর করে আরেকটি অটোরিকশায় তুলে রামেরকান্দা বালুর মাঠ এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে সুন্দর আলীকে ভয় দেখিয়ে তাঁর পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন হলেন কুদ্দুস মিয়া (৩৮), জুয়েল রানা (৪০), রাকিব হাওলাদার (২৬) ও অপু মীর ওরফে বায়জিদ (৩৫)।
র্যাব জানায়, সুন্দর আলীকে অচেতন করে রাখা হয় উল্লেখ করে র্যাব জানায়, পরে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন দিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মুক্তিপণের টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দিতে থাকে অপহরণকারীরা। রাত দুইটার দিকে তাঁকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা এলাকায় আসামি রাকিবের ভাড়া বাসায় তালাবদ্ধ করে রাখা হয়।
পরিবারের সদস্যরা প্রথমে মোবাইল আর্থিক সেবা নগদের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা পাঠান। পরে আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা ধার করে আরও ৩৯ হাজার টাকা পাঠান। তারপরও সুন্দর আলীকে ছাড়েনি। বরং তাঁকে হত্যার হুমকি দিয়ে আরও টাকা দাবি করা হয়। উপায় না দেখে পরে সুন্দর আলীর স্বজনেরা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করার পাশাপাশি র্যাব-১০ এর সহায়তা চান। র্যাব আরও জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর র্যাব তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করে।
পরে গতকাল সোমবার দুপুরে শুভাঢ্যা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাকিবের ভাড়া বাসা থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় সুন্দর আলীকে উদ্ধার করে। একই সঙ্গে অপহরণকারী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বিভিন্ন থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি এবং নারী ও শিশু নির্যাতনসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলেও র্যাব জানিয়েছে।
কুদ্দুস মিয়ার বিরুদ্ধে চারটি, রাকিব হাওলাদারের বিরুদ্ধে একটি, জুয়েল রানার বিরুদ্ধে পাঁচটি এবং বায়জিদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা রয়েছে। এই ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণি
অপহরণের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ব্যবসায়ী, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, শিশু, কিশোর, শিক্ষার্থী এবং প্রবাসফেরত ব্যক্তিরা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। এছাড়া পারিবারিক বিরোধ, সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণেও অপহরণের ঘটনা ঘটছে। কিছু ক্ষেত্রে শিশুদের অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হলেও, পারিবারিক বিরোধজনিত শিশু অপহরণের ঘটনাও কম নয়। রাজধানী ঢাকা এবং চট্টগ্রাম বিভাগে অপহরণের ঘটনা তুলনামূলক বেশি নথিভুক্ত হলেও পার্বত্য অঞ্চল, সীমান্তবর্তী এলাকা এবং কিছু প্রত্যন্ত অঞ্চলেও মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে অপহরণের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে দুর্গম এলাকায় সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের তৎপরতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন অপহরণ কেবল একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ নয়; এটি পুরো পরিবার ও সমাজের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। ভুক্তভোগী ও তার পরিবার মানসিক আঘাত, নিরাপত্তাহীনতা এবং আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়। মুক্তিপণ পরিশোধের কারণে অনেক পরিবার ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে ব্যবসায়িক পরিবেশ ও জননিরাপত্তা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়, যা বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও প্রভাব ফেলতে পারে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, অপহৃতদের প্রায় ৬০ শতাংশ পরিবার আইনি ঝামেলা এবং অপহৃত ব্যক্তির প্রাণনাশের ভয়ে পুলিশকে না জানিয়েই মুক্তিপণ মিটিয়ে দেন। ফলে প্রকৃত অপরাধের সংখ্যা নথিবদ্ধ তথ্যের চেয়ে বহুগুণ বেশি বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা। ডিজিটাল দুনিয়ার যেমন আড়ালে গোপনে সক্রিয় রয়েছে বেশ কিছু ভুয়া অনলাইন চক্র। ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি, ডেটিং অ্যাপ কিংবা আকর্ষণীয় বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তরুণ-তরুণীদের নির্জন বা নির্দিষ্ট জায়গায় ডেকে নেওয়া হয়।
ভিকটিম নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানো মাত্রই তাকে জিম্মি করে গোপন আস্তানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়াও রাজধানী ও বড় বড় মহাসড়কে গভীর রাতে কিংবা সকালেই এক শ্রেণির মাইক্রোবাস ও সিএনজি চক্র সক্রিয়। যাত্রীবেশে বা ডিবি/আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভুয়া পরিচয় দিয়ে চালক ও সহযোগীরা মিলে পথচারী বা একক যাত্রীকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নেয়। এরপর চলন্ত গাড়িতেই চলে শারীরিক নির্যাতন এবং পরিবারের কাছ থেকে বিকাশ বা রকেটের মাধ্যমে দ্রুত টাকা আদায়ের তাগিদ।
বিশেষ করে টেকনাফ, উখিয়া ও পাহাড়ি সীমান্ত অঞ্চলে অপহরণ এখন অপরাধীদের কাছে এক ধরনের ‘লাভজনক ব্যবসায়’ পরিণত হয়েছে। পাহাড়ি ঝিরি বা কৃষিজমিতে কাজ করতে যাওয়া স্থানীয় কৃষক ও শ্রমজীবীদের অস্ত্রের মুখে পাহাড়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে লাখ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় ছাড়া তাদের ছাড়ানো সম্ভব হয় না।
তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, অপহরণ রোধে পুলিশ ও র্যাবের একাধিক বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে। সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা এবং টেকনাফের পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের মূল হোতাকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। তারা জানান“অপরাধীরা আগের চেয়ে অনেক বেশি হাইটেক ও প্রযুক্তিভিত্তিক এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করছে। তবে আমাদের সাইবার ইন্টেলিজেন্স ও ট্র্যাকিং টিম সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে।
অনেক ক্ষেত্রে ভিকটিমের পরিবার সময়মতো পুলিশকে তথ্য দেয় না, যার ফলে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।” তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, জিডি বা মামলা করার পর পুলিশের তদন্তপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা এবং সীমান্ত বা পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় টহলের অভাবে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য, বেকারত্ব, মাদকের বিস্তার এবং দ্রুত ধনী হওয়ার আকাক্সক্ষাই এই ধরনের জঘন্য অপরাধ বাড়ার মূল কারণ। অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুর রহমান বলেন: “অপহরণ মহামারি আকার ধারণ করার প্রধান কারণ হলো ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি’। যখন একজন অপরাধী দেখে যে অপহরণ করে সহজেই টাকা পাওয়া যাচ্ছে এবং পার পেয়ে যাওয়া সম্ভব, তখন অন্য অপরাধীরাও এতে উৎসাহিত হয়। এই চক্র ভাঙতে হলে দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
আ.দৈ/আরএস




















