রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিশ্বকাপের মঞ্চে এবার মুখোমুখি ইংল্যান্ড-নরওয়ে
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৮:২৪ পিএম   (ভিজিট : ৭৯)
X

মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে আজ রাতে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে যখন মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড-নরওয়ে, তখন দুই দলের প্রেরণা হবে দুই রকম। অন্যতম বড় দল হয়েও বিশ্বকাপের মঞ্চে গত ছয় দশক শিরোপাশূন্য ইংল্যান্ড; তাই শিরোপা-খরা ঘোচানোর একটা তাগিদ ইংলিশদের। আর স্বপ্নের পথচলাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার নেশা পেয়ে বসেছে নরওয়েকে। আজ জিতলেই প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে ওঠার হাতছানি আর্লিং হালান্ডদের।

টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড শেষ ষোলোয় মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। তবে সেই জয় এসেছে কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে। জ্যারেল কোয়ানসা লাল কার্ড দেখায় ১০ জন নিয়ে ৪০ মিনিটের বেশি খেলতে হয়েছে থ্রি লায়ন্সদের। ফলে শারীরিক ক্লান্তির পাশাপাশি রক্ষণভাগ নিয়েও চিন্তা রয়েছে টুখেলের। কোয়ানসা দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় থাকায় রক্ষণে পরিবর্তন আনতে হতে পারে ইংলিশ কোচকে। রিস জেমসের খেলা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে আক্রমণে ইংল্যান্ডের আত্মবিশ্বাসের বড় কারণ হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহাম। দুজন মিলে দলের ১১ গোলের মধ্যে ১০টিই করেছেন।

অন্যদিকে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমকগুলোর একটি নরওয়ে। ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে স্টেল সোলবাকেনের দল ইতিমধ্যে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে। মাত্র ৫০ লাখ মানুষের দেশের এই দল এখন প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছে।

সেই স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দু অবশ্যই আর্লিং হালান্ড। চার ম্যাচে ৭ গোল করে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার শেষ ষোলোতে ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করে নায়ক হয়েছেন। ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া হালান্ড এবার খেলবেন নিজের জন্মভূমির বিপক্ষেই। তবে ম্যাচের আগে সব চাপ ইংল্যান্ডের কাঁধে তুলে দিয়েছেন তিনি।

হালান্ডের ভাষায়, ‘ইংল্যান্ড অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী দল, তাই চাপও তাদেরই নেওয়া উচিত। ইতিহাস, দর্শক কিংবা হাজার বছর আগের যুদ্ধের গল্প—এসবের কোনো মূল্য নেই মাঠে। বাঁশি বাজলে সেটি কেবল ১১ জনের বিপক্ষে ১১ জনের লড়াই।’

ইংল্যান্ড-নরওয়ে ম্যাচকে ঘিরে অবশ্য ব্রিটিশ গণমাধ্যমে ইতিহাসের রোমন্থন চলছে। ১০৬৬ সালের স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের যুদ্ধের সঙ্গে এই লড়াইয়ের তুলনা টানা হচ্ছে। মায়ামির গ্যালারিতেও ইংল্যান্ডের সমর্থকের সংখ্যা বেশি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু হালান্ড স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইতিহাস পাঠ্যবইয়েই শোভা পায়, ফুটবল মাঠে নয়। মানুষ পরিসংখ্যান, দর্শক কিংবা হাজার বছর আগে কী ঘটেছিল; তা নিয়ে কথা বলতেই পারে। কিন্তু যখন রেফারি বাঁশি বাজাবেন, তখন এটি হবে ১১ জনের বিপক্ষে ১১ জনের খেলা।

আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে মায়ামির প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া। ইংল্যান্ড এখন পর্যন্ত তুলনামূলক অনুকূল পরিবেশে খেললেও এবার কঠিন আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পরীক্ষা দিতে হবে দুই দলকেই।

একদিকে কেইন-বেলিংহামের অভিজ্ঞতা ও ইংল্যান্ডের বড় মঞ্চের অভ্যাস, অন্যদিকে হালান্ডের গোলক্ষুধা আর নরওয়ের দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাস—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় কোয়ার্টার ফাইনালগুলোর একটি হতে যাচ্ছে এই লড়াই। ইংল্যান্ড কি দীর্ঘ প্রতীক্ষার স্বপ্নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে, নাকি হালান্ডের হাত ধরে বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস লিখবে নরওয়ে?

আ.দৈ/আরএস



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
খেলাধুলা- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝