টমোটোর আইপি নিয়ে হরিলুট
কৃষি সচিবের এ কোন বাণিজ্য!
বিশেষ প্রতিবেদক

* আইপি প্রতি ১ থেকে আড়াই লাখ ‘টাকা কালেকশন
* কালেকশনের দায়িত্বে রয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নাঈম হোসেন
নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য ছাড়া কোন কৃষি পন্য আমদানির সুযোগ দেওয়া হবে না, এমন কি প্রধানমন্ত্রী পেয়াজ- রসুন আমদানিও বন্ধ করতে বলেছেন। গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মাহামুদন্নবী টিটুল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য কামরুজ্জামান সোহাগ এর সামনে বিগত ৮ জুন এমন বক্তব্যই প্রদান করেছেন বর্তমান সরকারের কৃষি মন্ত্রী হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াসিন।
কিন্তু মন্ত্রীর এমন বক্তব্যর ১ মাস পার হতে না হতেই বৃহষ্পতিবার ৯ জুলাই সকাল ১১ টা থেকে বিলাসবহুল কৃষি পন্য টমোটোর আমাদনি পারমিশন-আইপি বাবদ অর্থ কালেকশন শুরু করেছেন কৃষি সচিবের একান্ত অনুগত কর্মকর্তা শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ন সম্পাদক কোন্টারাইন উইংয়ের রোগতত্ববীদ নাইম হোসেন।
ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে কৃষি সচিব টমেটোর আড়ালে সিন্ডিকেট তৈরি করে হরিলুট শুরু করেছেন। কারও কথায় কর্ণপাত না করে মোটা টাকার বিনিময়ে টমেটোর বাজার তুলে দিয়েছেন সিন্ডিকেটের হাতে।
অন্তত ১০ জন আমদানিকারকের সাথে কথা বলে জানা গেছে প্রতি ৩’শ মেট্রিক টন আইপির জন্য ১ লাখ টাকা, ৫০০ মেট্রিক টন আইপির জন্য দেড় থেকে ২ লাখ টাকা, ১ হাজার মেট্রিক টন আইপির জন্য আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন ৪ বছর ধরে একই আমদানি উইংয়ে বসে থাকা কর্মকর্তা নাঈম হোসেন। এ বিষয়ে একাধিক আমদানিকারকের বক্তব্য রেকর্ডিং রয়েছে।
আমদানি কারকদের বক্তব্য নাঈম কৃষি সচিবের বউ সংগীত শিল্পী ফেরদাউসী বেগম এবং মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব পিপিসি মাহামুদুর রহমানকে খুশি করতে হবে বলে এই অর্থ দাবি করেছেন।
কৃষিমন্ত্রনালয় সুত্রে জানা গেছে, এক সময়ে বগুড়ার জেলা প্রশাসক ছিল সেই প্রভাবে কৃষি মন্ত্রনালয় কে যেন ঘুষের আখড়া বানিয়েছেন। বেশীর ভাগ সচিব বিকাল ৫টা-৬টার মাঝে সচিবালয়ের অফিস ছাড়লেও তিনি রাত ১০ টা পর্যন্ত বগুড়ার বিভিন্ন স্তরের নেতা নিয়ে আড্ডা দিতে থাকেন সচিবালয়ে বসে।
খামারবাড়ী সুত্রে জানা গেছে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ২১ টি আইপি দিয়েছেন নাঈম হোসেন। এর মাঝে ১৩০৫০৮১, ১৩০৫০৬৭, ১৩০৫১০৫, ১৩০৪৩৩৫, ১৩০৪৩৫৫, ১২৭৫১৩১, ১২৭৪৫৯৮, ১২৭৪৫৮৬
৮ টি আবেদন নাম্বান থেকে ২০ লাখ টাকা কালেকশন করে সচিবালয়ের পথে রওনা দিয়েছেন খামারবাড়ীর নাঈমের কালেকশনের পটু ম্যানেজার বিলাস চন্দ্র সাহা। এবিষয়ে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ( চলতি দায়িত্ব) আব্দুর রহিম বলেন, আজ (বৃহষ্পতিবার) সকালে টমোটোর আমদানি পারমিশন দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে সচিব স্যার নির্দেশনা দিয়েছেন, তাই আমরা ২ মাসের জন্য ছেড়েছি।
এবিষয়ে কৃষি-সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ আজকের দৈনিককে বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তিনি এ বিষয়ে অবগত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন। বলেন, আমি এখানে প্রায় ৪ মাস। এ ব্যাপারে পরে কথা বলবো।
পরে যোগাযোগ করলে তাঁর পিএস আতিকুর রহমান বলেন, আমাদের এখানে এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। আর আমরা জানি না। স্যার মিটিং এ আছেন। তবে তিনি জানান এটা দেবার দায়িত্ব কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের।
আ.দৈ/আরএস




















