ভারী বর্ষণ ও দুর্যোগপুর্ণ আবহাওয়ায় থমকে গেছে সারাদেশের জীবন যাত্রা
শাহীন রহমান

রেকর্ড বৃুষ্টপাতে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বেশিরভাগ এলাকা। টানা বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত, রাজধানীতেও দিনের বেশির ভাগ সময় বৃষ্টি, জলাবদ্ধতায় ভোগান্তি; পাহাড়ধসের শঙ্কা, প্লাবিত জনপদ। অতি ভারী বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারেনি তিনটি ফ্লাইট। ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাব পড়েছে রেল যোগাযোগে। লাইনের ওপর পানি জমে থাকায় প্রায় এক হাজার যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহরে আটকে ছিল কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন। কক্সবাজার জেলার ৯টি উপজেলার ৩৩টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে
কয়েকদিনের টানা বর্ষণে তলিযে গেছে চট্টগ্রাম মহানগরসহ কক্সবাজার খাগড়াছড়ির বিভিন্ন এলাকা। আবহাওয়া আফিস জানিয়েছে ২৪ঘন্টায় প্রায় ৩৩০.৫৮ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। নগরীর বহু নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে, সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে এবং বন্দরের কার্যক্রমেও প্রভাব পড়েছে।
চট্টগ্রামের পাহাড়ঘেঁষা বসতিগুলোতে উচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। টানা বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় হাজারো পরিবার ঝুঁকিতে রয়েছে। অপর দিকে কক্সবাজারের ৩৩টি ইউনিয়নের প্লাবনের পাশাপাশি ভারী বর্ষণে পাহাড়ধসের ঘটনাও ঘটেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একাধিক স্থানে পাহাড়ধসে নতুন করে প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষ সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাঁটুপানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং কয়েকটি অংশে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে দেশের কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে এবং কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
এদিকে অতি ভারী বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারেনি তিনটি ফ্লাইট। এর মধ্যে দুটি আন্তর্জাতিক ও একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট। বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইব্রাহীম খলিল বলেন, আবুধাবি থেকে চট্টগ্রামগামী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিএস-৩৫০ এবং শারজাহ থেকে আসা এয়ার এরাবিয়ার জি-৯৫২৬ ফ্লাইট চট্টগ্রামে অবতরণ করতে না পেরে ঢাকায় নেমেছে। এ ছাড়া ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী বাংলাদেশ বিমানের বিজি-১২১ ফ্লাইট বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামে নামতে না পেরে আবার ঢাকায় ফিরে গেছে।
এছাড়া ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাব পড়েছে রেল যোগাযোগে। লাইনের ওপর পানি জমে থাকায় প্রায় এক হাজার যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহরে আটকে ছিল কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে ট্রেনটি আটকে পড়ে। এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত ট্রেনটি আটকে রয়েছে। কবে নাগাদ ট্রেনটি পুনরায় যাত্রা শুরু করবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না রেলওয়ের কর্মকর্তারা।
এদিকে টানা ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজার জেলার ৯টি উপজেলার ৩৩টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢল ও নদীর পানি বাড়ায় রামু, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও টেকনাফের বিভিন্ন এলাকার অনেক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত এর আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢল এবং বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি বাড়ায় রামু ও চকরিয়ার অন্তত ১৪টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েক শ ঘরবাড়ি। এ ছাড়া কক্সবাজার পৌরসভা, টেকনাফ, উখিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, ঈদগাঁও ও কুতুবদিয়ার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টির কারণে রোববার দিবাগত রাতে একাধিক পাহাড়ধসের ঘটনায় আশ্রয়শিবিরে আটজন রোহিঙ্গা এবং কক্সবাজার শহরের একজন বাসিন্দা নিহত হন। এ ছাড়া পেকুয়া উপজেলায় মাটির ঘর ধসে পড়ে এক শিশুর মৃত্যুর হয়েছে।
এছাড়াও খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের একাধিক স্থানে পানি উঠে যাওয়ায় মঙ্গলবার সকাল থেকে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে খাগড়াছড়ির সঙ্গে রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া একটানা ভারী বৃষ্টিতে মহালছড়ি উপজেলার চব্বিশ মাইল, মাইসছড়ি ও কেরেঙ্গেনালা এলাকায় সড়ক হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার লোকজন চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। জরুরি প্রয়োজনে হেঁটে পানি ডিঙিয়ে চলাচল করছেন বাসিন্দারা।
এক টানা প্রবল বর্ষণে বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম নাফাখুম জলপ্রপাত এলাকায় ঘুরতে গিয়ে আটকে পড়েছিলেন ৬৯ পর্যটক। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আরও ১০ জন ট্যুরিস্ট গাইড। দুর্গম এ এলাকায় এক রাত কাটিয়ে তাঁরা কাছের রেমাক্রি ইউনিয়নের নিরাপদ জায়গায় পৌঁছালেও এখনো জেলা সদরে ফিরতে পারেননি। পর্যটক ও তাঁদের সঙ্গে যাওয়া লোকজনের সবাই সুস্থ আছেন।
সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে মঙ্গলবার দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অব্যাহত ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার। টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম মহানগরের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে, জলাবদ্ধতায় অচল হয়ে পড়েছে নগরজীবন। একই সঙ্গে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জারি করা হয়েছে সতর্কতা। কক্সবাজারে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে অন্তত ৩৩টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থা।
এদিকে দুপুর থেকে রাজধানী ঢাকায় শুরু হওয়া একটানা বৃষ্টি সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত থাকায় নগরজীবনে নেমে আসে চরম ভোগান্তি। বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতার কারণে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। অফিসফেরত মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। অনেক এলাকায় হাঁটুপানি জমে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে। ফুটপাত ডুবে যাওয়ায় পথচারীরাও দুর্ভোগে পড়েন। দিনের ব্যস্ত সময়ে বৃষ্টির কারণে রাজধানীর স্বাভাবিক ছন্দ কার্যত ব্যাহত হয়।
চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় অস্বাভাবিক মাত্রার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। নগরের আগ্রাবাদ, হালিশহর, চকবাজার, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় কোমরসমান পানি জমে যায়। অনেক বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ে। সড়কে পানি জমে থাকায় ছোট যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায় এবং গণপরিবহনও সীমিত আকারে চলাচল করে। বন্দরনগরীর বিভিন্ন খাল উপচে পড়ায় নতুন নতুন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। কোথাও কোথাও নালা-নর্দমার পানি সড়কে উঠে আসে।
টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের পাহাড়ঘেরা এলাকাগুলোতে বেড়েছে পাহাড়ধসের ঝুঁকি। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। অতীতের ভয়াবহ পাহাড়ধসের অভিজ্ঞতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। উদ্ধারকারী সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসন সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করেছে।
কক্সবাজারেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে জেলার ৩৩টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের অসংখ্য পরিবার আশ্রয় নিয়েছে উঁচু স্থানে। কৃষিজমি, মাছের ঘের ও পুকুরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকাতেও ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়েছে।
পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতেও ভারী বর্ষণের প্রভাব পড়েছে। খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের একাধিক স্থানে হাঁটুপানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে। পাহাড়ি ছড়া ও খালগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
বৃষ্টির প্রভাব শুধু দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নেই। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগেও দিনভর থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। সিলেট অঞ্চলে নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। ময়মনসিংহের কয়েকটি এলাকায় নিম্নাঞ্চলে পানি জমেছে। বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। খুলনা অঞ্চলেও কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া গেছে। উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায়ও মাঝারি বৃষ্টিপাত কৃষিজমিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও নিচু এলাকায় পানি জমে স্থানীয়দের ভোগান্তি বাড়িয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের অধিকাংশ এলাকাতেই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেট এবং উপকূলীয় অঞ্চলে অতিবৃষ্টির ঝুঁকি বেশি। এ পরিস্থিতিতে পাহাড়ধস, আকস্মিক বন্যা ও জলাবদ্ধতার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং কিছু নদী অববাহিকায় পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় মৌসুমি বায়ু এবং এর সঙ্গে সৃষ্ট আবহাওয়াগত অবস্থার কারণে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনা আপাতত কম। ফলে আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে, ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।
টানা বর্ষণে সবচেয়ে বড় চাপ পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনে। কোথাও পানিবন্দি পরিবার, কোথাও জলাবদ্ধতায় থমকে যাওয়া নগরজীবন, আবার কোথাও পাহাড়ধসের আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটানোর প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে বর্ষা এবার দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এক কঠিন বাস্তবতা তৈরি করেছে। রাজধানীর মানুষও দিনভর যানজট, জলাবদ্ধতা ও দুর্ভোগের মধ্যে কাটিয়েছেন। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, এই দুর্ভোগ এত দ্রুত কাটছে না; বরং আগামী কয়েক দিনও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
আ.দৈ/আরএস




















