মরক্কো ৪-২ গোলে হাইতিকে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করেছে
ছন্দে ফেরা ব্রাজিলের চোখ এখন ফাইনালে
শাহীন রহমান

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব শেষ হওয়ার আগেই নিজেদের শক্তির বার্তা দিয়ে দিয়েছে ব্রাজিল। গ্রুপ ‘সি’-এর শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে কার্লো আনচেলত্তির দল। টানা উন্নত পারফরম্যান্স, আক্রমণভাগের ধার এবং রক্ষণে দৃঢতা সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন পর আবারও শিরোপা প্রত্যাশীদের তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখে ব্রাজিল। আক্রমণে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গতি ও সৃজনশীলতা স্কটিশ রক্ষণকে বারবার চাপে ফেলে। শেষ পর্যন্ত জোড়া গোল করে ম্যাচের নায়ক হন ভিনিসিয়ুস। অপর গোলটি আসে ব্রাজিলের আরেক আক্রমণভাগের তারকার পা থেকে। ম্যাচটির আরেকটি বড় খবর ছিল নেইমারের প্রত্যাবর্তন, যা নকআউট পর্বের আগে ব্রাজিল শিবিরে বাড়তি আত্মবিশ্বাস যোগ করেছে। এই জয়ের ফলে ব্রাজিল অপরাজিত থেকেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এবং রাউন্ড অব ৩২-এ জায়গা নিশ্চিত করেছে।
বিশ্বকাপের শুরুতে মরক্কোর বিপক্ষে ড্র করলেও পরের দুই ম্যাচে হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে ব্রাজিল নিজেদের ছন্দে ফিরেছে। বিশেষ করে শেষ দুই ম্যাচে ছয় গোল করে কোনো গোল না খাওয়া দলটির ভারসাম্য ও পরিপক্বতার পরিচয় দিচ্ছে। আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিল এখন আর কেবল ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং দলগত ফুটবলের এক সুসংগঠিত রূপ দেখা যাচ্ছে। ফলে সমর্থকদের চোখে এখন শুধু নকআউট নয়, ফাইনালও বাস্তব লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।
একই গ্রুপের অন্য ম্যাচে মরক্কো ৪-২ গোলে হারিয়েছে হাইতিকে। দুইবার পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে উত্তর আফ্রিকার দলটি। এই জয়ে মরক্কোও নকআউট নিশ্চিত করেছে। আক্রমণভাগের কার্যকারিতা এবং লড়াকু মানসিকতা দেখিয়ে তারা প্রমাণ করেছে যে ২০২২ বিশ্বকাপের সাফল্য কোনো দুর্ঘটনা ছিল না।
দিনের অন্য ম্যাচগুলোতেও ছিল নাটকীয়তা। গ্রুপ ‘বি’-তে সুইজারল্যান্ড ২-১ গোলে হারিয়েছে কানাডাকে। স্বাগতিকদের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে সুইসরা গ্রুপের শীর্ষ অবস্থান আরও শক্ত করেছে। একই সময়ে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ৩-১ গোলে কাতারকে পরাজিত করে টুর্নামেন্টে নিজেদের অভিযান ইতিবাচকভাবে শেষ করেছে।
গ্রুপ ‘এ’-তে মেক্সিকো তাদের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ৩-০ গোলে হারিয়েছে চেকিয়াকে। শক্তিশালী রক্ষণ ও দ্রুতগতির আক্রমণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরো সময় নিজেদের হাতে রেখেছিল লাতিন আমেরিকার দলটি। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা ১-০ গোলে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিয়েছে। এই ফল গ্রুপের অবস্থান নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে।
গ্রুপপর্বের শেষ দিকে এসে বিশ্বকাপের চিত্র এখন অনেকটাই পরিষ্কার। মেক্সিকো, সুইজারল্যান্ড, ব্রাজিল ও মরক্কোর মতো দলগুলো ইতোমধ্যে নকআউটে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে। বিভিন্ন গ্রুপে তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর মধ্যেও চলছে কঠিন লড়াই। ফলে শেষ কয়েক দিনের ম্যাচগুলোয় উত্তেজনা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে দিনের আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ব্রাজিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় টুর্নামেন্টে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার হতাশা ছিল সেলেসাওদের সঙ্গী। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। ভিনিসিয়ুসের দুর্দান্ত ফর্ম, নেইমারের প্রত্যাবর্তন, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণভাগের স্থিতিশীলতা সব মিলিয়ে ব্রাজিলকে এখন পূর্ণাঙ্গ দল বলেই মনে হচ্ছে। গ্রুপপর্বে তারা যে ফুটবল খেলেছে, তা তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষদের জন্যও সতর্কবার্তা।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দলটির লক্ষ্য বরাবরই শিরোপা। গ্রুপপর্বের পারফরম্যান্স বিবেচনায় বলা যায়, সেই লক্ষ্য পূরণের পথে তারা সঠিক দিকেই এগোচ্ছে। নকআউট পর্বে প্রতিপক্ষ কঠিন হবে, চাপও বাড়বে। কিন্তু বর্তমান ছন্দ ধরে রাখতে পারলে ব্রাজিলকে থামানো সহজ হবে না। তাই এখন প্রশ্ন একটাই গ্রুপপর্বের উজ্জ্বল ব্রাজিল কি সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ফাইনাল পর্যন্ত যেতে পারবে? উত্তর মিলবে আগামী কয়েক সপ্তাহেই।
আ.দৈ/আরএস




















