জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে বাপাউবোর ডিজি নিয়োগের চেষ্টা, আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগ
আবুল কাশেম:

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) মহাপরিচালক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন ও আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপের জন্য বুধবার পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে একটি লিখিত আবেদনও দাখিল করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, ১৯৯৩ সালের ১০ জুন সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে বাপাউবোতে যোগদান করেন মো. রাফিউস সাজ্জাদ। তারপর প্রায় ৩৩ বছর ধরে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট তিনি অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে পদোন্নতি পান।
তবে আইএমআইপি-এমআইপি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তুলে একই বছরের ২৮ ডিসেম্বর তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করে তাকে প্রধান প্রকৌশলী পদে ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং বিভাগীয় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এতে আরও বলা হয়, অভিযোগ তদন্তে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি চলতি বছরের ২৯ মার্চ প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনা ১২টি অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়। এরপরও মন্ত্রণালয় অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করে, যা বিধিবহির্ভূত বলে আবেদনে দাবি করা হয়।
এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রাফিউস সাজ্জাদ হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে গত ৪ মে আদালত অধিকতর তদন্তের আদেশ স্থগিত করা হয়।
আদালতের আদেশের পরও বিভাগীয় মামলাটি নিষ্পত্তি না করে তার চেয়ে জুনিয়র তিন কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত মহাপরিচালকের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তাদের নাম মহাপরিচালক পদে নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, গত ৯ জুন হাইকোর্ট বিভাগীয় মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিলেও তা কার্যকর হয়নি। পরে ১৮ জুন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার নোটিশ জারি করা হয়। আইএমআইপি-এমআইপি প্রকল্প নিয়ে গত চার বছরে দুদকের অনুরোধসহ মোট পাঁচবার তদন্ত হয়েছে এবং কোনো তদন্তেই রাফিউস সাজ্জাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
এদিকে তার আইনজীবী বলেন, তার মক্কেল তদন্তের নামে পেশাগত ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। এ বিষয়ে দায়ের করা রিটের পর হাইকোর্ট পুনঃতদন্ত কার্যক্রম ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে রুল জারি করেছেন।
বাপাউবো সূত্রে জানা যায়, গণঅভ্যত্থানের পর পানি উন্নয়ন বোর্ডে কোন পরিবর্তন হয়নি। বর্তমান মহাপরিচালক মো. এনায়েত উল্লাহ তার সিন্ডিকেট আওয়ামী লীগ ও অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ও বিভিন্ন কায়দায় পানি উন্নয়ন বোর্ড নিয়ন্ত্রণ করেছে। তাদের অনেকে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের কমিটির দায়িত্বে ছিলেন। তারপরও এ সিন্ডিকেট অদৃশ্য শক্তিবলে এখনে বহাল রয়েছে।
প্রকৌশলী রাফিউস সাজ্জাদ সেরা প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন। একজন চৌকস, মেধাবী ও সৎ প্রকৌশলী হিসেবে তার সুনাম রয়েছে। আওয়ামী লীগের আমলে এ প্রকৌশলীকে অপেক্ষাকৃত গুরত্বহীন পদে বারবার বদলি করা হয়েছিল। তখন তার বিরুদ্ধে অতীতে ছাত্রদল করারর অভিযোগ আনা হয়েছিল। চৌকস প্রকৌশলী রাফিউস সাজ্জাদের বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বলে প্রকাশ না করা শর্তে বাপাউবোর বেশকজন কর্মকর্তা দাবী করেন।
আদৈ./কাশেম




















