জার্মানি, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, যুক্তরাষ্ট্র, পর্তুগাল, ইংল্যান্ড ও মেক্সিকোর দাপুটে পারফরম্যান্স
বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে জমে উঠেছে হিসাব-নিকাশ
স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপ ফুটবলের গ্রুপপর্ব শেষ হওয়ার আগেই নকআউট পর্বের সমীকরণ অনেকটাই পরিষ্কার হতে শুরু করেছে। কয়েকটি দল ইতোমধ্যে নিজেদের পারফরম্যান্সে শেষ ৩২ বা নকআউট পর্বে জায়গা প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে। অন্যদিকে বেশ কয়েকটি দল শেষ ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করেই টিকিট কাটার অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে গ্রুপপর্বের শেষ রাউন্ডের ম্যাচগুলো এখন পরিণত হয়েছে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে।
এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে দাপুটে পারফরম্যান্স দেখানো দলগুলোর মধ্যে রয়েছে জার্মানি, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, যুক্তরাষ্ট্র, পর্তুগাল, ইংল্যান্ড ও মেক্সিকো। টানা দুই ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে এসব দল নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। বিশেষ করে জার্মানি গ্রুপ ‘ই’-তে প্রথম দুই ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয় পেয়ে নকআউট নিশ্চিত করা প্রথম সারির দলগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। কুরাসাওকে ৭-১ এবং আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে জার্মানরা শুধু ছয় পয়েন্টই অর্জন করেনি, গোল ব্যবধানেও তৈরি করেছে বিশাল সুবিধা।
গ্রুপ ‘আই’-এ দুই ম্যাচেই জয় পেয়েছে ফ্রান্স। সেনেগাল ও ইরাককে হারিয়ে বর্তমান ইউরোপিয়ান শক্তিধর দলটি নকআউটের দুয়ারে পৌঁছে গেছে। একইভাবে গ্রুপ ‘জে’-তে আর্জেন্টিনা আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে পূর্ণ ছয় পয়েন্ট নিয়ে শেষ ষোলোর পথে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। লিওনেল মেসি-পরবর্তী যুগেও আর্জেন্টিনার ধারাবাহিকতা ফুটবলবিশ্বকে নতুন বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গ্রুপ ‘কে’-তে পর্তুগালও সমানভাবে উজ্জ্বল।
প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে ড্র করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে তারা গ্রুপসেরা হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে গেছে। একই গ্রুপে কলম্বিয়াও দুটি ম্যাচ জিতে পর্তুগালের সঙ্গে নকআউটের লড়াইয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। আয়োজক অঞ্চলের অন্যতম প্রতিনিধি মেক্সিকোও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ছয় পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এ’-এর শীর্ষে অবস্থান করছে তারা।
শেষ ম্যাচে চেকিয়ার বিপক্ষে হারলেও গোল ব্যবধানের সুবিধায় তাদের নকআউটে ওঠার সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। গ্রুপ ‘ডি’-তে যুক্তরাষ্ট্রের পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে। প্যারাগুয়ে ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা দুই জয় তুলে নিয়ে স্বাগতিকরা সমর্থকদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। একইভাবে গ্রুপ ‘এল’-এ ইংল্যান্ড এক জয় ও এক ড্র নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে বড় জয় তাদের নকআউটের পথে এগিয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে নকআউট নিশ্চিত না হলেও সম্ভাবনা উজ্জ্বল এমন দলের সংখ্যাও কম নয়। গ্রুপ ‘বি’-তে কানাডা চার পয়েন্ট নিয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে ড্র করলেও পরবর্তী পর্বে ওঠার সুযোগ থাকবে তাদের সামনে। একই গ্রুপে সুইজারল্যান্ডও চার পয়েন্ট নিয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। গ্রুপ ‘সি’-তে ব্রাজিল ও মরক্কো দুই দলই চার পয়েন্টের বেশি সংগ্রহ করে শেষ ম্যাচের আগে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ব্রাজিল হাইতিকে হারিয়েছে এবং মরক্কোর সঙ্গে ড্র করেছে। অপরদিকে মরক্কো স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে নিজেদের সম্ভাবনা আরও বাড়িয়েছে। ফলে এই গ্রুপ থেকে দুটি দলেরই নকআউটে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
গ্রুপ ‘এফ’-এ নেদারল্যান্ডস সবচেয়ে ভালো অবস্থানে। জাপানের সঙ্গে ড্র এবং সুইডেনের বিপক্ষে বড় জয় তাদের শীর্ষে রেখেছে। তবে জাপানও চার পয়েন্ট নিয়ে লড়াইয়ে টিকে আছে। শেষ ম্যাচে দুই দলের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। গ্রুপ ‘জি’-তে সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা বিরাজ করছে। বেলজিয়াম, ইরান, মিসর ও নিউজিল্যান্ড—চার দলের মধ্যেই এখনও সুযোগ রয়েছে। বেলজিয়াম দুটি ড্র করলেও বিদায়ের মুখে নয়। অন্যদিকে মিসরের জয় গ্রুপটিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এবার ৪৮ দলের বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থানধারী কয়েকটি দলও নকআউটে খেলার সুযোগ পাবে। ফলে অনেক দল শেষ ম্যাচে হারলেও গোল ব্যবধান ও পয়েন্টের সমীকরণে পরবর্তী পর্বে জায়গা করে নিতে পারে। এ কারণেই গ্রুপপর্বের শেষ রাউন্ডে প্রতিটি গোলের গুরুত্ব বেড়ে গেছে কয়েক গুণ।
ফুটবল বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন পর্যন্ত পারফরম্যান্স বিবেচনায় জার্মানি, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও পর্তুগালকে নকআউট নিশ্চিতের খুব কাছাকাছি ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্রাজিল, মরক্কো, নেদারল্যান্ডস, জাপান, সুইজারল্যান্ড, কানাডা, ইংল্যান্ড ও কলম্বিয়ার সম্ভাবনাও বেশ উজ্জ্বল। তবে বিশ্বকাপের ইতিহাস বলে, শেষ ম্যাচের নাটকীয়তায় মুহূর্তেই বদলে যেতে পারে সব হিসাব।
তাই গ্রুপপর্বের শেষ বাঁশি বাজার আগে নিশ্চিত করে কিছু বলা কঠিন। তবু এখন পর্যন্ত চিত্র বলছে, কয়েকটি পরাশক্তি ইতোমধ্যেই নকআউটের দরজায় পা রেখে দিয়েছে, আর কয়েকটি দল শেষ ম্যাচে ভাগ্য নির্ধারণের অপেক্ষায়। কোটি কোটি সমর্থকের চোখ এখন সেই ম্যাচগুলোর দিকে, যেখানে নির্ধারিত হবে বিশ্বকাপের পরবর্তী অধ্যায়ের নায়ক-খলনায়ক।
আ.দৈ/আরএস




















