সুনিদিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে: ডিসি ঢাকা
স্থানীয় এমপির মদদে আওয়ামী নেতা সিরাজ বাদামতলী ফল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি
নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঢাকা- ০৭ আসনের বিএনপি দলীয় সাংসদ সদস্য হামিদুর রহমানের সমঝোতায় ঢাকা মহানগর (বাদামতলী) ফল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি,সাধারণ সম্পাদকসহ ৫টি গুরুত্বপূর্ণ পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী নেতারা ।
সভাপতি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন মুন্সীগন্জের বজ্রযোগীনি ইউনিয়ন পরিষদের নৌকা মনোনীত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। তিনি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে অর্থের যোগানদাতা ও রাজধানীর বংশাল এলাকায় আন্দোলনরত একজন নিরীহ ছাত্র হত্যাকাণ্ড মামলার আসামী হিসাবে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে স্থানীয় এমপির সাথে সমঝোতায় গিয়ে তার আপন বিয়াই সহ ৫টি পদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় দখলে নিয়েছে।
এ নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে বাদামতলীর বিএনপি পন্থী ফল ব্যবসায়ীদের মাঝে। সুত্রে জানা গেছে, সভাপতি -সাধারন সম্পাদক সহ ০৫ পদে সমঝোতার বিপরীতে এমপি হামিদ নিয়েছেন ১২ কোটি টাকা। মুন্সীগন্জের বজ্রযোগীনি ইউনিয়ন পরিষদের নৌকা মনোনীত চেয়ারম্যান সিরাজ ছিলেন বাদামতলীর অঘোষিত সম্রাট হাজী সেলিমের ডানহাত।
তিনি আওয়ামী মনোনীত এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক হয়েছিলেন ২০২৪ সালের এপ্রিলে। অভিযোগ উঠেছে, এমন একজন ব্যক্তিকে টাকার বিনিময়ে আবার বাদামতলী নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেওয়াতে ক্ষোভে ফুসছে বাদামতলীর সাধারন ব্যবসায়ীরা।
গত ২০ জুন নির্বাচনে মানা হয়নি কোন নিয়ম, সভাপতি হয়েছেন হত্যার মামলার আসামি সিরাজ চেয়ারম্যান, সহ-সভাপতি হয়েছেন তারই আপন বেয়াই কুমিল্লার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসু হাজী, সাধারন সম্পাদক হয়েছেন ফারুক আহম্মেদ, যিনি শ্যামপুর থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যুগ্ন সম্পাদক আমিনুল ওরফে ফরিয়া আমিনুল মাদারীপুর জেলা যুবলীগের সহ সম্পাদক ছিলেন বলে জানা গেছে।

খোদ সরকার যেখানে বিএনপির সেখানে একমাত্র স্থানীয় এমপিকে ম্যানেজ করে এতগুলো আওয়ামীলীগ নেতা দেশের বৃহৎ ফল মার্কেটের দায়িত্ব কিভাবে পেলো, এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা জেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা বলেন, এমপির নির্দেশে এখানে অন্য কোন প্রার্থী প্রতি দ্বন্দ্বীতা করার সাহস পায় নাই বলে শুনেছি। তবে কোন সদস্য অভিযোগ দিলে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার চেষ্টা করবো।
এসব বিষয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, এসব বিষয়ে সুনিদিষ্ট তথ্য প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ আসলে তদন্ত করা হবে। কারণ কে্উ আইনের উর্ধ্বে নয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণীত হলে, অবশ্যই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাদামতলী ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সদস্য আহসানারা রুমি বলেন, আওয়ামী আমলে আগে ভোট আসলে এখানে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হত। বিভিন্ন উপহার সামগ্রী অফিসের ঠিকানায় চলে আসত। কিন্তু এখন বিএনপি আমলে এটা তো আওয়ামী ষ্টাইলে নির্বাচন হয়েছে ,ভোটের আগেই সকল গুরুত্বপূর্ণ পদে সবাই যেখানে নির্বাচিত হয়েছে। সেখানে ভোট দিতে যাওয়ার প্রয়োজন মনে করি নাই এবং কেউ ভোট চাইতেও আসে নাই।
জানা গেছে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সিরাজ চেয়ারম্যান হত্যা মামলায় র্যাব -১০ এর হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। র্যাব-১০ সুত্রে জানা গেছে, গত জুলাই দেশব্যাপী কোটা বিরোধী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। অতঃপর আন্দোলনে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করে এবং পরবর্তীতে তা গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
কোটা ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন শ্রেণির নেতাকর্মী ও অস্ত্রধারী সস্ত্রাসীরা দেশী-বিদেশী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারী নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার উপর অতর্কিত আক্রমণ করে।
যার অংশ হিসেবে গত ৫ আগস্ট রাজধানী ঢাকার বংশাল থানার বিভিন্ন এলাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা শান্তিপূর্ণভাবে কোটা ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করা কালে বেশ কিছু অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা আগ্নেয়াস্ত্র, রাম-দা, চাপাতি, হকি স্টিক এবং লাঠি-সোটাসহ বিভিন্ন প্রকার অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আন্দোলনকারী নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার উপর এলোপাথাড়ি আক্রমণ করে ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ছাত্র-জনতার উপর অমানবিক নির্যাতন চালায়।
এছাড়াও ছাত্র-জনতার যৌক্তিক কোটা ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে বানচাল করার জন্য আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ছাত্র-ছাত্রীসহ একাধিক আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ও গুজব রটায় এবং তাদেরকে গুম ও প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করে।
যার অংশ হিসেবে গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ঢাকার বাদামতলী ও বংশাল এলাকায় ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনের জন্য আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের অর্থের যোগানদাতা ও একজন নিরীহ ছাত্রকে হত্যার অভিযোগে বাদামতলী ফল ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের প্রধান সিরাজুল ইসলাম সিরাজ চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনায় সম্পৃক্ততা থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে র্যাব-১০ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়।

এছাড়াও সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাজধানীর বংশাল এবং সাতক্ষীরা সদর থানায় তার নামে একাধিক মামলা রয়েছে।
এ ব্যাপারে সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ব্যবসা করি। সব মহলে যোগাযোগ আছে। হাজী সেলিমের ডান হাত খ্যাত হয়েও তিনি এখন বিএনপি’র এমপি হামিদুর রহমানের ঘনিষ্ঠজন বনে গেছেন প্্রশ্ন তুললে তিনি বলেন, এমপি-মন্ত্রী আমার সবই আছে। বিএনপি সেজে ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় সভাপতি নির্বাচিত হওয়া প্রসঙ্গে তিনি নিজেকে অপ্রতিদ্বন্ধি বলে দাবী করেন। অথচ বিগত পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সে হাজী সেলিমের হাত ধরে দু’বার সভাপতি হন।
জুলাই আন্দোলনের পরে নতুন বিএনপি সরকারের আমলে সিরাজ সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় পুরান ঢাকার ব্যবসায়ি মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ব্যবসায়ি জানান, হত্যা মামলার আসামী হয়ে র্যাবের হাতে ধরাপড়া হাজী সেলিমের ডান হাত বিএনপি সরকারের আমলে কি করে ব্যবসায়ি সংগঠনের সভাপতি হলো বিষয়টি ভাবিয়ে তুলছে। আরো একাধিক ব্যবসায়ি বলেন, এ অবস্থা বহাল থাকলে পুরান ঢাকার ব্যবসা বাণিজ্য চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। তারা এ বিষয়ে সরকারের উর্দ্ধতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
টাকা লেনদেন ওসমঝোতার ভিত্তিতে আওয়ামী নেতাদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত করার হস্তক্ষেপের বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য হামিদুর রহমানকে ফোন দেওয়া হলে, একটি নম্বর বন্ধ পাওয়া যায় এবং অন্য নম্বরটি তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
আ. দৈ./




















