রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
একসময় ছিলেন শ্রমিক, এখন বিশ্বকাপে জার্মানির নায়ক
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ২১ জুন, ২০২৬, ৫:৩৩ পিএম   (ভিজিট : ৩৮)
X

টানা দুই আসরের গ্রুপ পর্বের ভূত তাড়িয়ে আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জার্মানি। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এই পুনরুত্থানের নেপথ্যে রয়েছেন এমন একজন, যার জীবনের গল্প যেকোনো সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়।

একসময় বেঁচে থাকার তাগিদে দিনে ৮ ঘণ্টা কারখানায় হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতেন, আর ফুসরত মিললেই বুট জোড়া পায়ে গলিয়ে নেমে পড়তেন ফুটবল মাঠে। আজ সেই ডেনিজ উন্দাভের জোড়া গোলেই আইভরি কোস্টকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে জার্মানির নতুন নায়ক বনে গেছেন তিনি।
অথচ কয়েক মাস আগেও জার্মানির বিশ্বকাপ দলে এই স্ট্রাইকারের জায়গা পাওয়া নিয়ে ছিল চরম অনিশ্চয়তা। এমনকি খোদ কোচ জুলিয়ান নাগেলসমানের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েছিলেন প্রকাশ্য এক বচসায়।

ঘটনার সূত্রপাত এক ম্যাচে বদলি নেমে উন্দাভের শেষ মুহূর্তের এক গোলকে কেন্দ্র করে। ম্যাচ শেষে উন্দাভ গণমাধ্যমে দাবি করেন, ‘আমি শুরুর একাদশে খেলার যোগ্যতা রাখি।’ শিষ্যের এমন মন্তব্যে চটে গিয়ে জার্মান কোচ নাগেলসমান সংবাদমাধ্যমের সামনেই পাল্টা তোপ দাগেন, ‘শুরু থেকে খেললে হয়তো ওই গোলটিই করতে পারতেন না উন্দাভ।’

সেই বিতর্কের মোক্ষম জবাবটা উন্দাভ জমিয়ে রেখেছিলেন মাঠের জন্য। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে তার অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের পর সুর বদলাতে বাধ্য হয়েছেন খোদ নাগেলসমানও। ম্যাচ শেষে জার্মান বস স্বীকার করেন, উন্দাভকে শুরুর একাদশে রাখার কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন তিনি।

নাগেলসমান বলেন, ‘কেন আমি ওর ছন্দ নষ্ট করব? দুই ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে দুই ম্যাচেই গোল করেছে। তবে (পরের ম্যাচে) ওকে শুরু থেকেই খেলানো হতে পারে।’ উন্দাভের এই সাফল্যের পেছনের গল্পটা কিন্তু মোটেও রূপালি পর্দার মতো মসৃণ ছিল না।

মাত্র ১৪ বছর বয়সে ভের্ডার ব্রেমেন একাডেমি থেকে তাকে ছুড়ে ফেলা হয়েছিল। অজুহাত ছিল, ছোটখাটো গড়নের কারণে ফুটবলে তার কোনো ভবিষ্যৎ নেই। সেই প্রত্যাখ্যান ও অপমান চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছিল কিশোর উন্দাভকে।

তবে দমে যাননি তিনি। নতুন উদ্যমে নিজেকে গড়ে তোলেন। ১৭ বছর বয়সে পরিবারের মায়া ত্যাগ করে পাড়ি জমান জার্মানির চতুর্থ বিভাগের ক্লাব হাভেলসেতে। সেখানে সপ্তাহে পেতেন মাত্র ১২০ পাউন্ড! ফুটবল থেকে পাওয়া এই সামান্য অর্থে জীবন চালানো অসম্ভব ছিল। ফলে পেটের তাগিদে বেছে নিতে হয়েছিল কারখানার শ্রমিকের কাজ।

বেলজিয়ান গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের সেই বিভীষিকাময় দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে উন্দাভ বলেছিলেন, ‘ভোর ৪টার দিকে ঘুম থেকে উঠতাম। সরাসরি চলে যেতাম কারখানায়, সেখানে ৮ ঘণ্টা কাজ শেষ করে যেতাম অনুশীলনে। বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত ৮টা বেজে যেত। পরদিন আবার একই রুটিন। বেঁচে থাকার জন্যই আমাকে কাজটা করতে হয়েছে। শুধু ফুটবল থেকে পাওয়া টাকায় তখন চলা সম্ভব ছিল না।’

২০২০ সালে বেলজিয়ামের ক্লাব ইউনিয়ন সেন্ট-জিলোয়াজে যোগ দেওয়ার পর থেকেই মূলত উন্দাভের ভাগ্যের চাকা ঘুরতে শুরু করে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি এই ফরোয়ার্ডকে।

আ.দৈ/আরএস




Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
খেলাধুলা- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝