গনপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলীর খুটির জোর কোথায়?
আজমিপুর কলোনীর পার্কিং সেড থেকে ফয়সল হালিমের পকেটেস্থ ১২ কোটি!
দুদক এর নতুন কমিশন কি অনুমতি দিবে গনপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী দূর্নীতিবাজ ফয়সল হালিমের মামলার?
বিশেষ প্রতিবেদক

আজিমপুর সরকারি কলোনির ভেতরে আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় মেকানিক্যাল কার পার্কিং শেড নির্মাণ করা হচ্ছে। ১২ তলা স্টিল স্ট্রাকচারের পার্কিং ভবনের জন্য ৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। কিন্তু পুরো কাজ করে না করে বিল তোলার অভিযোগ রয়েছে।
এই নির্মান কাজের ডিপিপিতে ২৮৮ গাড়ি রাখার স্থানের কথা বলা হলেও যেটি নির্মাণ করা হয়েছে সেখানে রাখা যাবে মাত্র ২৪০টি গাড়ি। আজিমপুর বিভাগ কতৃক জানা গেছে এতে প্রায় ১২ কোটি টাকা কম খরচ হয়েছে যার পুরোটাই ঠিকাদারের সাথে যোগসাজস করে পকেটেস্থ করে নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল হালিম।
কিন্তু সাশ্রয় হওয়া নিয়মানুযায়ী ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা ফেরত না দেওয়াতে সরকারের ক্ষতি হয়েছে ১২ কোটি টাকা। এছাড়াও পার্কিংয়ের রং করা ও কভার তৈরির জন্য দুটি দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল অথচ রং ও কভার তৈরির কাজ প্রকল্পের মূল কাজের মধ্যেই রয়েছে। ফলে একই কাজ দুইবার দেখিয়ে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা এই ১১ কোটি টাকা ভাগবাটোয়ারার করে খেয়ে ফেলেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালকের কাছে অভিযোগ দেওয়া হলে তিনি দুই দফা চিঠি দিয়েও নির্বাহী প্রকৌশলীর কোনো জবাব পাননি। পরে এসব অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত কমিটি করার নির্দেশনা দিলেও ফয়সাল হালিমের বিশেষ খুটির জোরে তা নিয়ে আর কোন টু-শব্দ ও হয় নি কোথাও।
এই ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে আজিমপুর প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল হালিমের সাথে সরাসরি কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। বিদেশ থেকে ট্রেনিং নিয়ে ফিরে এসে আজিমপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশনে বদলি হওয়া ছিল জামাতপন্থী সচিব নজরুলের পূর্ব পরিকল্পনার অংশ।
দুদক সুত্রে জানা গেছে ই/এম বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সল হালিমের চাকুরী জীবনে অনিয়মের মাধ্যমে ৫০ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের ১ টি অভিযোগ জমা রয়েছে। বর্তমানে দুদকে কমিশন না থাকায় তদন্ত কাজ স্থগিত রয়েছে।
এছাড়াও আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল হালিমের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও টাকা পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এ সম্পর্কিত একটি অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করে দেখছে। যাতে প্রায় ২৮ কোটি টাকা পাঁচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমান পেয়েছে দুদক, নতুন কমিশন গঠন হলেই মামলার অনুমতি চেয়ে কমিশনে উঠবে নথিটি।
আ.দৈ/আরএস




















