প্রতিকার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন
মাদক কর্মকর্তা সুমনুরের একী জঘন্য কাণ্ড!
বিশেষ প্রতিনিধি

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, কিডনি পাচার চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, নারী সহকর্মীদের হয়রানি এবং মাদক ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করার মতো গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
আবেদনপত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা হিসেবে ইন্সপেক্টর মোঃ সুমনুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে গোপনীয় তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। মাদদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মচারীরা তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দিয়েছে।
এ বিষয়ে ইন্সপেক্টর মো. সুমনুরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। কর্মচারীরদের পক্ষে অভিযোগপত্রে সক্ষর করেছেন সিপাহি রাশিদা আকতার। এতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। আবেদনকারীর দাবি, চাকরি জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
এসব অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো কিডনি পাচার চক্রের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঢাকা বিমানবন্দরকেন্দ্রিক একটি কিডনি পাচার নেটওয়ার্কের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল এবং বিদেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের উদ্দেশ্যে লোক পাঠানো ও অর্থ লেনদেনে তিনি ভূমিকা পালন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া নারী সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক স্থাপনে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। আবেদনকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে তার প্রভাবের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পান না। অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, এ ধরনের আচরণ দীর্ঘদিন ধরে চললেও ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন কারণে নীরব থাকতে বাধ্য হয়েছেন।মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের বিষয়টিও অভিযোগপত্রে গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি চাকরির সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে মাদক চোরাচালান ও বিপণনে সহযোগিতা করেছেন। আবেদনকারীরা বিষয়গুলোকে গুরুত্ব সহকারে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
আরেকটি গুরুতর অভিযোগ হলো অভিযানে জব্দকৃত সম্পদ আত্মসাৎ করা। আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, মাদকবিরোধী বিভিন্ন অভিযানে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালঙ্কার, গয়না ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী সরকারি নিয়ম অনুসারে সংরক্ষণ না করে ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং পরে সেগুলো বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করা হয়েছে।
অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়েও বিস্তারিত অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, চাকরিকালীন সময়ে তার আয়-ব্যয়ের মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে। বিভিন্ন ব্যবসা, জমি, বাড়ি, ব্যাংক হিসাব এবং বিদেশে অর্থ পাচারের সম্ভাব্য তথ্য তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এসব সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করলে দুর্নীতির প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
এছাড়া অধিদপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিশেষ যোগাযোগ ব্যবহার করে অভিযোগ থেকে নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা এবং সমালোচকদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালানোর অভিযোগও করা হয়েছে। আবেদনকারী মনে করেন, এই প্রভাবের কারণেই দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগগুলো কার্যকর তদন্তের আওতায় আসেনি।
চিঠির শেষাংশে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে যে, বিষয়টি গোপনীয়ভাবে তদন্ত করে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও অভিযোগপত্রের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।




















