গ্রুপ পর্বে নতুন সমীকরণ তৈরি ইংল্যান্ড ঘানা কলম্বিয়ার
শাহীন রহমান

ফিফা বিশ্বকাপের একদিনের তিন ম্যাচের ফলাফলে গ্রুপ ‘এল’ ও ‘কে’-তে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। ইংল্যান্ড ও ঘানা নিজেদের জয় দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। অন্যদিকে কলম্বিয়া গোল ব্যবধানে বড় জয় তুলে নিয়ে গ্রুপে বাড়তি সুবিধা অর্জন করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগ বর্তমানে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কার্যকর ইউনিটগুলোর একটি।
ঘানা তাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল দিয়ে আবারও প্রমাণ করেছে যে বড় মঞ্চে তারা যে কোনো প্রতিপক্ষের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হতে পারে। আর কলম্বিয়া দেখিয়েছে, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার সমন্বয়ে তারা অনেক দূর যাওয়ার সামর্থ্য রাখে। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব যত এগোচ্ছে, ততই জমে উঠছে প্রতিযোগিতা। প্রতিটি ম্যাচ বদলে দিচ্ছে পয়েন্ট টেবিলের চিত্র। আর সেই লড়াইয়ে ইংল্যান্ড, ঘানা ও কলম্বিয়ার জয় তাদের আত্মবিশ্বাস যেমন বাড়িয়েছে, তেমনি পরবর্তী রাউন্ডের পথে এগিয়ে দিয়েছে আরও একধাপ।
গ্রুপ পর্বে একদিনে তিনটি ম্যাচেই দেখা গেল ভিন্ন ভিন্ন গল্প। কোথাও ছিল আক্রমণাত্মক ফুটবলের ঝলক, কোথাও রক্ষণভাগের দৃঢ়তা, আবার কোথাও প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে আধিপত্য বিস্তারের দৃষ্টান্ত। ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া, ঘানা-পানামা এবং উজবেকিস্তান-কলম্বিয়া ম্যাচ তিনটি বিশ্বকাপের প্রাথমিক পর্বে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। দিনের সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে ঘানা ১-০ গোলে হারিয়েছে পানামাকে। আর গ্রুপ ‘কে’-এর ম্যাচে উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে পরাজিত করে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে কলম্বিয়া।
ইংল্যান্ডের আক্রমণে বিধ্বস্ত ক্রোয়েশিয়া
গ্রুপ ‘এল’-এর বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় ইংল্যান্ড। বলের দখল, দ্রুত পাসিং এবং উইংভিত্তিক আক্রমণের মাধ্যমে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে তারা। ম্যাচের শুরু থেকেই ইংল্যান্ডের ফুটবলাররা প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। সেই চাপের ফলও আসে দ্রুত। প্রথমার্ধেই একাধিক আক্রমণ থেকে গোলের সুযোগ তৈরি করে ইংলিশরা।
ক্রোয়েশিয়া মাঝেমধ্যে পাল্টা আক্রমণে উঠলেও ইংল্যান্ডের গতি ও সংগঠিত খেলায় তারা বারবার পিছিয়ে পড়ে। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও গোলের ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দলটি। এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘এল’-এ শীর্ষস্থানের লড়াইয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে ইংল্যান্ড। পাশাপাশি শিরোপা প্রত্যাশীদের তালিকায় নিজেদের নাম আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে তারা।
লড়াকু ঘানার কাছে হার মানল পানামা
দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে ঘানা ও পানামার মধ্যকার লড়াই ছিল তুলনামূলকভাবে রক্ষণাত্মক এবং কৌশলনির্ভর। ম্যাচজুড়ে দুই দলই সতর্ক ফুটবল খেলেছে। ফলে গোলের সুযোগ খুব বেশি তৈরি হয়নি। তবে সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল আফ্রিকার প্রতিনিধি ঘানা। ম্যাচের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পাওয়া সুযোগ থেকে একমাত্র গোলটি করে তারা এগিয়ে যায়। গোল হজমের পর পানামা সমতায় ফেরার জন্য আক্রমণ বাড়ালেও ঘানার রক্ষণভাগ ছিল অত্যন্ত সংগঠিত। গোলরক্ষকও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। ১-০ গোলের এই জয় ঘানার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় প্রতিটি পয়েন্টই পরবর্তী পর্বে ওঠার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে পরাজয়ের ফলে পানামাকে এখন পরবর্তী ম্যাচগুলোতে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।
কলম্বিয়ার দাপটে উজবেকিস্তান পরাস্ত
দিনের তৃতীয় ম্যাচে কলম্বিয়া দেখিয়েছে কেন তারা দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে পরিচিত। গ্রুপ ‘কে’-এর ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে তারা। প্রথমার্ধে বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল মূলত কলম্বিয়ার পায়ে। ধারাবাহিক আক্রমণের মাধ্যমে উজবেকিস্তানের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে তারা। সেই চাপের ফল হিসেবে প্রথম গোলটি আসে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই। তবে উজবেকিস্তানও সহজে হার মানেনি। তারা পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা করে এবং একপর্যায়ে একটি গোল শোধ করে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনে।
কিন্তু অভিজ্ঞতা ও দক্ষতায় এগিয়ে থাকা কলম্বিয়া দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে ফিরিয়ে নেয়। দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুটি গোল করে তারা জয় নিশ্চিত করে। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের ব্যবধানে মাঠ ছাড়ে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। কলম্বিয়ার এই জয় শুধু তিন পয়েন্টই এনে দেয়নি, বরং গ্রুপের অন্য দলগুলোর জন্যও একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করেছে। আক্রমণভাগের গতি, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণভাগের স্থিরতা—সব মিলিয়ে তারা নিজেদের অন্যতম দাবিদার হিসেবে তুলে ধরেছে।
আ.দৈ/আরএস




















