রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হাটের আর্বজনা পরিস্কার না করে ইজারাদারের জমানতের টাকা আত্মসাতের পায়তারা
এখনো দিয়াবাড়ি গরুর হাটের আর্বজনা পরিস্কার হয়নি, প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ প্রয়োজন
আবুল কাশেম:
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৮:২৬ পিএম  আপডেট: ১৬.০৬.২০২৬ ৮:৫৬ পিএম  (ভিজিট : ১৬৫)
X

  ছবি গুলো-  ১৫ জুন দুপুরে তোলা হয়েছে  উত্তরায় দিয়াবাড়িতে কোরবানির পশুর হাটের ময়লা আর্বজনা

বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কঠোর নির্দেশনার পর টানা ২০ দিনেও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) উত্তরায় দিয়াবাড়িতে কোরবানির পশুর হাটের ময়লা আর্বজনা পরিস্কার করা হয়নি। এখনো ওই হাটের ভেতরে ময়লা আর্বজনা ভাসছে। কয়েক হাজার বাঁশ, বাঁশের খঁটি, খড়কুটা, উপরে বড় বড় ছাউনি ঝুলছে। বৃষ্টির জমানো পানিতে ভাসছে গরুর পচা গোবরসহ বিষাক্ত আর্বজনা।

অভিযোগ উঠেছে, করোবানি পশুর হাটের ইজারার ‘আইন  ও শর্ত ’ বাস্তবায়ন না করে ইচ্ছাকৃতভাবে সময় ক্ষেপন করা হচ্ছে। ফলে এর দায়ভার পড়ছে ডিএনসিসির প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা, প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর। কারণ করোবানির পশুর হাটের ইজারাদার শর্তেই উল্লেখ রয়েছে, ঈদের পরদিন ইজারাদার হাটের বাঁশ, খঁটি, তাবু, ছাউনিসহ অস্থায়ী স্থাপনা সরিয়ে নেবেন। এরপর ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা হাটের আর্বজনা দ্রুত পরিস্কার করবে।

 তবে ইচ্ছে করেই ইজারাদার ওই হাটের বাঁশ, খঁটি, তাবু, ছাউনিসহ অস্থায়ী স্থাপনা সরিয়ে ন্য়েনি। যারফলে শর্ত মোতাবেক ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষের ইজারাদারের জামানতের টাকা থেকে প্রয়োজনীয় টাকা খরচ করে দ্রুত সব কিছু পরিস্কার ক্ষমতা আছে। কিন্তু ইজারাদার ‘এসএফ করপোরেশনের’ মালিক ও ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শেখ ফরিদ হোসেন ডিএনসিসির প্রশাসকের দলীয় নেতা এবং কাছের মানুষ। যারফলে তার জামানতের টাকা খরচ করে এই কোরবানির হাটের আর্বজনা পরিস্কারের না করে অনেক সময় নিয়েছেন। কারণ ওই হাটের ইজারাদার শেখ ফরিদ হোসেন অস্বাভাবিক ক্ষমতাবান। 

এদিকে ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম মিলটনের মুখপাত্র ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন ‘আজকের দৈনিক’ পত্রিকাকে এই হাট পরিস্কারের জন্য ইজারাদারের জামনতের অর্থ থেকে খরচ প্রসঙ্গে কোন তথ্য দিতে পারেননি। শুধু বলেছেন, তনি কিছুই জানেন না। আগামিকাল বুধবার অফিস টাইমে হিসাব শাখা থেকে খোঁজ নিয়ে জানানোর চেষ্টা করবেন। তিনি আরো বলেন, অন্যনণ্য বিষয়েও বিভাগীয় প্রধানরা গণমাধ্যমের চাহিদা মোতাবেক তথ্য দিতে বাধ্য। কিন্তু কেনো তারা দ্রুত তথ্য দিচ্ছেন না, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্যারদের সাথে যোগাযোগ চলছে, আপনারা তথ্য পাবেন।

ছবি গুলো-১৫ জুন দুপুরে  দিয়াবাড়িতে উত্তরা সেন্টার মেট্রোস্টেশনে র নিচের ও আশ পাশের সড়ক, ফুটপাত নতুন লাগানো গাছের

এদিকে গতকাল সোমবার (১৫ জুন) মঙ্গলবার দুপুরে দিয়াবাড়ি উত্তরা সেন্টার মেট্রোস্টেশনে নেমে দেখা যায়, নিচের সড়ক, ফুটপাত ও খোলা জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রয়েছে। সড়ক বিভাজক ও আশপাশের খোলা জায়গায় বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও সৌন্দর্যবর্ধনকারী গাছ লাগানো হয়েছে। কোথাও কোথাও নতুন সবুজ ঘাসও গজিয়েছে। ফুলগাছগুলোতে ফুটেছে নানা রঙের ফুল। সিটি করপোরেশনের পানির গাড়ি দিয়ে কর্মীদের ওই সব গাছে পানি দিতেও দেখা যায়। তবে হাটের ভেতর ইজারাদারের বাঁশ,খঁটি, তাবু, ছাউনিসহ অস্থায়ী স্থাপনা পড়ে রয়েছে। একটি ড্রাম্প ট্রাককে দুইজন শ্রমিক বাঁশ তুলতেছেন।

এদিকে ডিএনসিসির একাধিক কর্মকর্তা নাম নাম প্রকাশের শর্তে ‘আজকের দৈনিক পত্রিকাকে’ বলেন, দিয়াবাড়ি কোরবানির হাটের আর্বজনা দ্রুত পরিস্কার না হবার পেছনে বাস্তব কিছু কারণ আছে। এরমধ্যে প্রধান কারণ হচ্ছে, আর্বজনা পরিস্কার ও দ্রুত সরিয়ে নেতি অনেক শ্রমিক এবং ট্রাক প্রয়োজন। এই কাজে কয়েক লাখ টাকা খরচ হবে। লেবার এবং ট্রাকের পেছনে প্রায় ২৫/৩০ লাখ টাকা খরচের বিষয় আছে।

 খরচের এই মোটা অংকের টাকা ডিএনসিসির মাঠ পর্যায়ের বর্জ্য ব্যবস্থপনা বিভাগের কর্মকর্তারা কিভাবে বহন করবেন। তারা কি চাকরি করতে এসে বিপদে পড়েছেন, যে, ‘বাপ দাদার জমি বিক্রি’ করে  হাটের আর্বজনা পরিস্কার করবেন এবং ওই খরচ  নিজেরা পরিশোধ করবেন। ইজারাদাদেরর জামানতের টাকা কেনো এখনো খরচ করতে দেওয়া হচ্ছে না। অথচ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ওপর দফায় দফায় অমানবিভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে ডিএনসিসির পক্ষ থেকে। নাকি কৌশলে ইজারাদারের জামানতের টাকাগুলো নিজেরা ভাগাভাগির কোন অসৎ উদ্যেশ্য আছে।

ওই কর্মকর্তারা আরো জানান, প্রথম থেকেই রাজনৈতিক ক্ষমতার বলে প্রভাব বিস্তার করে শেখ ফরিদ ইজারার শর্ত লঙ্ঘন করে দিয়াবাড়িতে নির্ধারিত স্থানের পশুর হাটকে উত্তরা সেন্টার মেট্রোরেল স্টেশন সংলগ্ন রাস্তাসহ পুরো এলাকায় রাস্তা ও গলিপথে সম্প্রসারণ করেন। এরফলে ওই সব রাস্তা,গলিপথ ও আইল্যান্ডে লাগানো ডিএনসিসির অনেক মূল্যবান গাছ এবং রাস্তার অনেক ক্ষতি হয়েছে। ওইসব রাস্তা ও গলিপথে জমে থাকা ময়লা আর্বজনায় পরিস্কার করতে ডিএনসিসির অনেক অর্থ ব্যয় ও ব্যাক পেতে হয়েছে। এছাড়া দিয়াবাড়িতে উত্তরা সেন্টার মেট্রোরেল স্টেশনের দুই পাশে বিশাল এলাকায় কোরবানির অস্থায়ী পশুর হাটের ভেতরের ময়লা আর্বজনার বর্তমান চিত্রটি ফুটে উঠেছে সরেজমিন পরিদর্শনকালে।

আরো জানান যায় , দিয়াবাড়ি পশুর হাটের ইজারাদার শেখ ফরিদ হোসেন শর্তলঙ্ঘন করে নির্ধারিত এলাকার বাইরেও কোরবানির পশুর হাট বসিয়ে কি পরিমান ক্ষয়ক্ষতি করেছেন তা নিরুপনের জন্য গত ৩ জুন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির আহবায়ক হলেন ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো: আরিফুর রহমান, অপর সদস্যরা হলেন, অঞ্চল-৬ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ হারুন-অর-রশীদ এবং অঞ্চল-৬ এর সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।

    এই ছবিগুলো --গত ৭ জুন দুপুরে তোলা
 এই কমিটি নির্ধারিত হাট এলাকায় ১৬ ও ১৮ নং সেক্টর সংলগ্ন বৌ-বাজারের আশপাশের খাঁলি জায়গা এবং মেট্রো রেলের পাশে ১৮ নং সেক্টরের সি- ব্লকের খালি মাঠ পর্যন্ত অস্থায়ী কোরবানি পশুর বিশাল হাট জমানোর ফলে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপন করে গত ১১ জুন প্রতিবেদন দাখিল করেছে। তাদের প্রতিবেদনে পশুর হাটটি মেট্রো রেলের ‘উত্তরা সেন্টার মেট্রো স্টেশনের নিচে,সিড়ির কাছাকাছি এবং রাস্তার আশে পাশে বাঁশের খুঁটিগেড়ে গরু রাখার ব্যবস্থা করেন।’ ওই পশুর হাট বর্ধিত করায় ওই এলাকায় ময়লা আবর্জনায় ছেয়ে যায় এবং অনেক সুন্দর সুন্দর গাছপালা ভেঙ্গে ফেলেছে। ফলে উত্তরা সেন্টার মেট্রোরেল স্টেশনের প্রায় ৩০ লাখ ২৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি বিষয়টি বলা হয়েছে। 

কমিটির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, হাটের কারণে মেট্রোস্টেশনের নিচের এলাকায় গাছপালার ক্ষতি হয়েছে ১৯ লাখ ৩০ হাজার টাকার। নিরাপত্তা বেড়া বা ফেন্সিংয়ের ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ৬ লাখ টাকা। এ ছাড়া হাট শেষে সৃষ্ট ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করতেও প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে শ্রমিকের মজুরি বাবদ আড়াই লাখ টাকা, যানবাহনের জ্বালানি খরচ ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা এবং প্রয়োজনীয় মালামাল কেনায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।কিন্তু দিয়াবাড়ি কোরবানির মূল হাটের আর্বজনা পরিস্কারের বিষয়টি তদন্তের বাইরের রয়েছে।

 সূত্র মতে, ১৪ কোটি ১৫ লাখ টাকায় এ হাটের ইজারা পেয়েছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শেখ ফরিদ হোসেন। নিয়ম অনুযায়ী ঈদের চার দিন আগে গত ২৪ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই হাট শুরু হয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসান ইতোমধ্যে গণমাধ্যমকে বলেছেন,কমিটির প্রতিবেদনটি পেয়েছেন।এটি নথিভুক্ত করে সিদ্ধান্তের জন্য প্রশাসকের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

আ. দৈ./কাশেম



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
বিশেষ সংবাদ- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝