নেপেথ্য সরকারের লন্ডন সিন্ডিকেট
বীমা খাতে অভিজ্ঞতা ছাড়াই এ টু আই এর নাদিয়া নিভিন নিয়োগ পেলেন বীমা উন্নয়ন কতৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে
বিশেষ প্রতিবেদক

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)’র চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়েছেন মীর নাদিয়া নিভিন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ নাদিয়া নিভিনের নিয়োগ অনুমোদন দিয়েছে। তবে নাদিয়া নিভিন নিজস্ব সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তার কর্মজীবন শুরু হয়েছে পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনার রাজনীতিক প্রতিষ্ঠান এটুআই দিয়ে, উল্লেখ্য এটুআই প্রকল্পে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ছাড়া নিয়োগ পাওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে সই করেন উপসচিব আবরাউল হাছান মজুমদার। এই প্রজ্ঞাপন জারির পর। থেকে বীমা খাতে চলছে সমলাচোনার ঝড়, কারন হিসেবে অভিজ্ঞ রা বলছেন কোন প্রকার অভিজ্ঞতা ছাড়া এরকম নিয়োগ বীমা খাত কে ধংব্বস করে দিবে।
বিএনপি সংশ্লিষ্টরা বলছেন বিএনপির ভিতর লুকিয়ে থাকা লন্ডন সিন্ডিকেট সরকার কে বেকায়দায় ফেলতে এর আগে অভিজ্ঞতাবিহীন গভর্নর নিয়োগ দিয়ে ব্যাংকিং খাত ইতিমধ্য খাদের কিনারে নিয়ে ফেলছেন, এখন বীমা খাত ধংব্বস করতে এবং সরকার কে বিপাকে ফেলতে এমন একটি নিয়োগ দিতে সরকার কে বাধ্য করেছে। যা ত্যাগী নেতাকর্মীদের জন্য অশনীসংকেত।
গত ২ মার্চ আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান ড. আসলাম আলম পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান কে হচ্ছেন এই নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল বীমা খাতে। এরপর আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ নিয়ে কর্তৃপক্ষ আইন সংশোধন করে গত ৫ মে তারিখে গেজেট প্রকাশ করা হয়। এই আইন সংশোধনের মাধ্যমে বয়সসীমা তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু অভিজ্ঞতার শর্ত থাকে আগের মতোই।
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন ২০১০ এর ৭ ধারার (১) উপধারায় বলা হয়েছে, আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেতে ‘বীমা ফিনান্স, ব্যাংকিং মার্কেটিং পরিসংখ্যান, হিসাব বিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, প্রশাসন বা আইনে নুন্যতম ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে’। তবে শিক্ষাগত যোগ্যতা কি হবে বা কোনো পদে কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে তা উল্লেখ করা হয় নাই। অপরদিকে উপধারা ২ অনুসারে যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থী না পাওয়া গেলে অভিজ্ঞতার সময়সীমা শিথিল করা যাবে বলে উল্লেখ করা হয়।
কে এই নাদিয়া নিভিন
অন্তর্বর্তী সরকারের 'নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ছিলেন নাদিয়া নিভিন। তিনি ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের নিরপেক্ষ পরিচালক হিসেবে যোগদেন ২০২৫ সালের অক্টোবর। ডেল্টা লাইফের একটি সূত্র জানায়, এখনো তিনি ডেল্টা লাইফের নিরপেক্ষ পরিচালক হিসেবে আছেন।
অনলাইন ইংরেজী গণমাধ্যম “দি প্রেস্টিজ” নাদিয়া নিভিনের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে। গত ১৩ এপ্রিল এই সাক্ষাৎকারটি অনলাইনে প্রকাশ করা হয়। ওই সাক্ষাৎকারে নাদিয়া নিভিন জানান, তার জন্ম কুয়েতে। সেখানে কিছু দিন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়াশোনা করেন। এরপর ৪র্থ শ্রেণীতে পড়ার সময় বাবা-মা সাথে দেশে আসেন।
২০০৬ সালে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, স্যাক্রামেন্টোতে মাস্টার্স করেন নাদিয়া নিভিন। তিনি হার্ডাড ইউনিভার্সিটি থেকে জনপ্রশাসনে মাস্টার্স করেন।
নাদিয়া নিভিন কর্মজীবন শুরু করেন ২০০৭ সালের আগষ্ট মাসে। ইউএনডিপির প্রোগ্রাম অফিসার হিসেবে। বাংলাদেশ সরকারের ‘এটুআই’ কর্মসূচিতেও কাজ করেন তিনি।
নাদিয়া নিভিন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ শুরু করেন ২০০৯ সালে। প্রথম নিয়োগ পান জার্মানিতে। পরে নিউইয়র্কে ইউএনডিপির সদর দপ্তরে গ্লোবাল ইলেকশনস টিমের সদস্য হিসেবে কাজ করেন। এই টীমের কাজ ছিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইউএনডিপি কান্ট্রি অফিসগুলোকে নির্বাচন বিষয়ক নীতিগত সহায়তা প্রদান।
নির্বাচন বিষয়ক প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট হিসেবে আফগানিস্তানে কাজ করেন ২০১৩ সালে। এই কর্মসূচিতে নির্বাচন, সংসদ, সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় সরকার, কেন্দ্রীয় প্রশাসনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং লিঙ্গসমতা উন্নয়ন নিয়ে কাজ করেন।
এরপর কয়েক বছরে পাকিস্তানের সাবেক ফেডারেল শাসিত উপজাতীয় (ফাটা) অঞ্চল ও খাইবার পাখতুনখোয়ায় কাজ করেন। এখানে তিনি বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন কর্মসূচি নিয়ে কাজ করেন। নাদিয়া নিভিন মালয়েশিয়ায় কাজ করেন ২০১৮ সালে। মালয়েশিয়ার তিনি নির্বাচন কমিশন, সংসদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দুর্নীতিবিরোধী নীতিনির্ধারণী সংস্থা এবং আরও অনেক জাতীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেন।
মায়ানমারে কাজে যোগদেন ২০২০ সালে মার্চে। এখানে তিনি ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা, সীমান্তভিত্তিক টিকাদান কার্যক্রম এবং জাতিসংঘের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক মানবাধিকার বিষয়ে কাজ করেন। তবে ডেল্টা লাইফের স্বতন্ত্র পরিচালক পদে কিছুদিন সংযুক্ত থাকা ছাড়া বিমা সেক্টরে কাজ করার কোনো অভিজ্ঞতাই নেই তার।
আ.দৈ/আরএস




















