প্রশাসকের নাম ভাঙ্গিয়ে ও আত্মীয় পরিচয়ে টেন্ডারে প্রভাব ,প্রতারকদের দৌরাত্ন বেড়েছে
টেন্ডার বাণিজ্যে জড়িত বহিরাগত দুই প্রতারককে পুলিশে দিলেন ডিএনসিসি প্রশাসক মিলটন
আবুল কাশেম:

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) রাস্তা,ড্রেন,ফুটপাতসহ নানা উন্নয়ন ও সংস্কার মূলক প্রকল্পের কোটি কোটি টাকার টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার নামে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ অনেক আগ থেকেই শোনা যাচ্ছে। এসব অনৈতিক কাজে কিছু বহিরাগত ও রাজনৈতিক পরিচয়দানকারী দালাল ডিএনসিসির নগর ভবন এবং আঞ্চলিক কার্যালয়ে কর্মরত কিছু কর্মকর্তার সাথে মাঝে মধ্যে যোগাযোগ রাখেন। এমনকি বেশ সখ্যতাও গড়ে তোলেন বলে জানা যায় ।
তবে সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের আমলে তার ঘনিষ্ট আত্মীয় কথিত দালাল মাহবুবুর রহমান ও লিটন সহ বহিরাগতদের একটি চক্র বেশ প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিল। তাদের সাথে ডিএনসিসির কিছু কর্মকর্তা ও বেশ কয়জন প্রভাবশালী প্রকৌশলীর সখ্যতা গড়ে উঠেছিল। এই বিষয়টি অনেকেরই জানা আছে।
এদিকে বর্তমান প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান মিলটনের নাম ভাঙ্গিয়ে নতুন করে একটি প্রতারক চক্র কোটি কোটি টাকার কাজের টেন্ডার পাইয়ে দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অবৈধভাবে লেনদেন করে নিজেরা লাভবান হচ্ছেন। এই ধরনের সুনিদিষ্ট অভিযোগের সাথে জড়িত এবং তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বহিরাগত দুই দালাল ও প্রতারককে আটক করে পুলিশে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আজ জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চত করেছেন। তিনি আরো জানান, আজ শনিবার (১৩ জুন) ডিএনসিসির অঞ্চল -২ এর আওতাধীন রূপনগর এলাকায় অবৈধ টেন্ডারবাজির সাথে জড়িত ২ জনকে আটক করে ডিএমপির রূপনগর থানায় কর্মরত পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে। এই প্রতারকরা এতোদিন বর্তমান প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান মিলটন আত্মীয়-স্বজন ও কাছের লোক বলে পরিচয় দিতো।
তবে প্রশাসক গণমাধ্যমকে জানান, আটককৃতরা প্রশাসকের কিংবা তার দপ্তরের কোন লোকজনেরও আত্মীয় বা ঘনিষ্টজন নয়। প্রশাসক আরো বলেন, ঢাকা উত্তর সিটিতে তিনি প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কোন টেন্ডারবাজি বা অবৈধ কাজের প্রশ্রয় দেননি। যদি কেউ প্রশাসকের নাম ভাঙ্গিয়ে কোন টেন্ডারবাজি বা অবৈধ কাজের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেলে তাদেরকে ধরে আইনের হাতে সোপর্দ করার আহ্বান জানান তিনি। এসব বিষয়ে প্রশাসক নগরবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ঢাকা উত্তর সিটির ওয়েবসাইটের দরপত্র বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে একটি প্রতারক শ্রেণী অবৈধ লেনদেনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এমন ভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের মাধ্যমে আজ শনিবার হাতেনাতে এই দু্ইজনকে ধরা হয়েছে এবং তাদেরকে রূপনগর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
আরো জানা যায়, চলতি অর্থবছরের শেষ পর্যায়ে এসে জুন মাসে তড়িগড়ি করে টেন্ডার আহবান করা হয়েছে। আর গত ১১জুন ডিএনসিসির অঞ্চল-২ এর আওতাধীন ওয়ার্ড- ৬ এ রুপনগর আবাসিক এবং ওয়ার্ড-১৫ এর এলাকায় রাস্তা, ড্রেন, ফুটপাত উন্নয়ন ও সংস্কারের কাজে প্রায় দুই শত কোটি টাকার টেন্ডার ওপেন করা হয়েছে। অনেকে ধারণা এই দুই শত কোটি টাকার কাজের টেন্ডারকে কেন্দ্র করে ওই প্রতারক চক্রটি সক্রিয় হয়ে ছিল।
তবেএই টেন্ডার বাণিজ্যের সাথে জড়িত এবং আটক এই দু্ই জনকে ভালোভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে পারবেন প্রশাসক। এমনটাই প্রত্যাশা করছেন নগরবাসীর। দু্ই শত কোটি টাকার কাজের টেন্ডার ওপেন হবার আগেই বহিরাগত এই দলাল চক্রটি বেশ সক্রিয় হয়ে উঠে ছিল। তারা কোটি কোটি টাকার কাজ নিয়ে ভাগাভাগি করতে চেয়েছেন। এমনকি অবৈধভাবে লেনদেনেও জড়িয়ে পড়েন। তাদের অপকমের ফলে সুনাম নষ্ট হয়, ডিএনসিসির প্রশাসক, তার দপ্তর এবং বিভাগীয় প্রধানদের।
আ. দৈ./কাশেম




















