মিরপুরে ময়লায় ভরাট কালশী খালটি তৈরি পর আর পরিস্কার করা হয়নি
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর কালশী খাল পরিস্কারে নামছে ডিএনসিসি
আবুল কাশেম

অবশেষে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এবার কঠোর নির্দেশনার পর ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম মিলটন রাজধানীর মিরপুর ১১ নম্বর এলাকায় ময়লা আর্বজনায় ভরাট পুরনো কালশী খাল পরিস্কারের অভিযান শুরু করেছেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রায় ৫০০ মিটার লম্বা খালটি মুসলিম বাজার হতে কালশী রোড পর্যন্ত ।প্রায় ২৭/২৮ বছর আগে এই খালটি খনন করা হয়েছিল।
এরপর আশপাশের এলাকার কঠিন ও তরল ময়লা আর্বজনা খালটিতে জমতে থাকে। কিন্তু এটি পরিস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ না করায় ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে রাস্তার মতো হয়েগেছে। ফলে একটু ভারী বৃষ্টি হলেই পুরো এলাকার ময়লা পানি আর সহজে সরতে পারে না । মুহুর্তের মধ্যেই ওই এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ময়লা পানিতে লোকজনের বাড়ি ঘর, মার্কেট, দোকান পাঠ ও রাস্তা তলিয়ে যায়।
ডিএনসিসির সূত্র মতে, প্রশাসকের নির্দেশনায় প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর হুমায়ুন করিরের তত্ত্বাধানে, উপ প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মফিজুর রহমান ভূইয়া এবং অঞ্চল-২ এর সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্তাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেনজীর আহমেদের সরাসরি তদারকিতে গত ৫ জুন কালশী খাল উদ্ধার ও পরিস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।তবে এ খালটি পরিস্কারে তাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। কারণ অনেক স্থানে খালের ওপর পাকার স্লাভ ও দুই পাশে বাড়ি ঘর রয়েছে।

আরা জানা যায়, ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ এখালটি পরিস্কারের জন্য ২টি স্কেভেটর ভাড়া করেছে। আর ডিএনসিসির নিজস্ব ৪টি ডাম্প ট্রাক দিয়ে খালের মাটি ময়লা নিয়ে দ্রুত নিকটবর্তী কালশী মাঠে ফেলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ২৫৭ টি ময়লা সরানো হয়েছে বলে জানানো হয়। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০টি টিপ ময়লা অপসারণ করা হচ্ছে।তবে পুরো খালটি পরিস্কার করতে আরো কমপক্ষে ১২/১৫ দিন লাগতে পারে বলে জানা যায়।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র ‘আজকের দৈনিক পত্রিকাকে’ জানান, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এবার সব সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ এবং পৌর সভার প্রশাসকদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে; শহেেরকোন ময়লা আর্বজনা থাকতে পারবে না, প্রয়োজনে দৈনিক দইবার পরিস্কার করতে হবে। জলাবদ্ধতা আর মশা নিয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে । ওই নির্দেশনা প্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনাসহ ১২টি সিটি করপোরেশন, পৌর সভা ও জেলা পরিষদের প্রশাসকরা। তাদেরকে স্ব স্ব শহর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ, জলাবদ্ধতার নিরসন ও রাস্তা, গলিপথের কোন ময়লা আর্বজনা থাকলে শাস্তি মূলক ব্যবস্তা গ্রহণ করা। নগরীতে পুরনো ড্রেন,খাল পরিস্কার রাখতে হবে।
সূত্রটি আরো জানান,প্রধানমন্ত্রী এবার অনেক শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেছেন। চট্টগ্রাম সিটির প্রশাসক মশা মারার কৌশল শিখতে বিদেশ যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী অনুমতি দেননি। একই ভাবে রাজশাহী সিটির প্রশাসক সহ আরো অনেক বিদেশে যাবার অনুমতি পাননি। তবে যারা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে র অনুমতি ছাড়া বিদেশ গেছেন তাদের ওপর অসন্তোষ হয়েছেন বলে জানা যায়।
আরো কঠোর বিষয় হচ্ছে, এক বছরের মেয়াদে চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ প্রাপ্ত সব সিটি করপোরেশন, পৌর সভা এবং জেলা পরিষদের প্রশাসকদের জন্য এটা একটি ৩ মাসের একটি অগ্নিপরীক্ষা। এই পরীক্ষায় যারা ভালো করবেন, তার পুরস্কৃত হবেন। আর যারা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে যাবতীয় কার্যক্রমে ব্যর্থ হবেন,তারা তিরস্কৃত হবেন। এমনকি আগামিতে জনপ্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবার বিষয়টি অনেক কঠিন হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আরো নির্দেশনা রয়েছে, কেনা কাটা ও বিভিন্ন প্রকল্পের নামে অর্থে অপচয় করা যাবে না। এদিক আজ বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বর্তমান সরকার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে কোন ছাড় দেবেন না।
আ. দৈ./কাশেম




















