সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আ’লীগ আমলে ২৬ মামলায় জেল খাঁটা নেতা এখনো নির্যাতিত
ডিএসসিসিতে বেনামী মৌখিক অভিযোগে বিএনপির পরীক্ষিত নেতা প্রকৌশলী রুবেল বরখাস্ত
আবুল কাশেম:
প্রকাশ: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৮:৩৪ পিএম  আপডেট: ০৮.০৬.২০২৬ ১০:৩৪ পিএম  (ভিজিট : ১৩৬)
X

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে টানা ১৬ বছর রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে পরিকল্পিতভাবে বিএনপির ত্যাগী ও পরিক্ষিত অনেক নেতাদের বিনা কারণে মিথ্যে অভিযোগে অসংখ্য মামলায় জড়িয়ে কারাগারে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ভুলার মতো নয়। ওই সময় সরকারি- আধাসরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, প্রকৌশলীসহ নানা শ্রেনি ও পেশায় নিয়োজিত বিএনপির লাখ লাখ নেতা-কর্মী রাজপথের সাহসী ভূমিকা রাখতে গিয়ে মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

শুধু তা্ই নয়, তাদেরকে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে বছরের পর বছর বিভিন্ন কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। ওইসব মামলা ও হামলায় অনেকেই ফতোর হয়ে গেছেন। বহু কষ্ট্রে  উচ্চ আদালতে জামিনে বের হলেও ফ্যাসিস্ট সরকারের দলীয় নেতা, কর্মী ও পুলিশের হয়রানীর ফলে অনেক বিএনপি নেতা-কমী বাসা বাড়িতে থাকতে পারেননি।

অবশেষে ২০২৪ সালে ছাত্র জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতেবাধ্য হয়েছেন। একই সাথে ফ্যাস্টি আওয়ামী লীগের অনেক মন্ত্রী, এমপি, নেতা- কর্মীরাও দেশ ছেড়ে পালিয়েগেছেন।

আজ ফ্যাসিবাদ মুক্ত নতুন বাংলাদেশে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকার ক্ষমতায় আছেন।  বর্তমানে বিএনপির অনেক মন্ত্রী, এমপি, ১২টি সিটি করপোরেশন, বিভিন্ন পৌর সভায় ও জেলা পরিষদ প্রমাসক পদে নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকরা বেশ ভালোই আছেন। মোটা অংকের বেতন, ভাতা, গাড়ি, বাড়ি পেয়ে বেশ আরামে আছেন। তারা  উন্নয়ন ও সংস্কারমূলক নানা প্রকল্পের নামে শত শত কোটি টাকার কাজ করাচ্ছনে। অনেকের বিরুদ্ধে স্বজনদের মাধ্যমে বেশ রমরমা ব্যবসা বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।   আবার কেই কেউ রাতারাতি অনেক সম্পদের মালিক হচ্ছেন এমন কথা গণমাধ্যমে মাঝে মাঝে আলোচনায় উঠে আসে।
 
কিন্তু প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে, গত ১৬ বছর যারা রাজপথে পুলিশ লাঠিপেটা সহ্য করেছেন, অনেককে আবার ধরে নিয়ে থানার ভেতর হাত- পা বেধে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে।  কারাগারের ভেতরেও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। বিএনপির রাজপথের পরিক্ষিত অনেক নেতা-কর্মীদের এখনো সঠিক মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। শুধু মাত্র অতিমাত্রায় তেলবাজ, দলবাজ, চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ ও কতিপয় আওয়ামী লীগের নেতার কথিত স্বজনরা হুট করে রাতারাতি বিএনপির প্রভাবশালী মন্ত্রী, এমপি এবং প্রশাসকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছেন। এমন অনেক ঘটনার নজির সামনে চলে আসছে।
 
২৬ মামলায় জেলখাঁটা প্রকৌশলী কিবরিয়া এখনো হয়রানীতে : 
এদিকে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটির নাম না প্রকাশের শর্তে একাধিক কর্মকর্তা আক্ষেপ করে বলেছেন, রাজপথে যাদের আন্দোলন ও জেল জুলুমের বিনিময়ে বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্দা আবদুস সালাম ও  মো. শফিকুল ইসলাম মিলটন আজ প্রশাসক হলেন। তাদের কাছে এখনো বিএনপির ত্যগী নেতা-কর্মীরা অবহেলিত।

বিশেষ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে বিএনপি নেতা, প্রকৌশলী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে হয়রানী  করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তদন্ত ছাড়া কথিত বেনামী মৌখিক  অভিযোগের ভিত্তিতি চাকরিচ্যূত করা হয়ে প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া  রেবেলকে। বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসকের দপ্তরে চিহ্নিত দুর্নীতিরাজ, তেলবাজ, দলবাজ ও বিপুল পরিমান অবৈধ সম্পদের মালিকরা বেশ কদর পাচ্ছেন। 

আরো অভিযোগ উঠেছে, এসসিসিতে ভুয়া বিল ভাউচারে কয়েক কোটি টাকার জ্বালানি তেল আত্মসাতকারী চক্রটি কৌশলে প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সচিব এবং প্রশাসকের পিএস’র কাছে বেশ মূল্যায়িত হচ্ছন। ডিএসসিসিতে জ্বালানী তেলের টাকার আত্মসাতের সুনিদিষ্ট অভিযোগে দুদকের অভিযানকেও ধামা চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ওই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যন্ত চাপা দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির একাধিক কর্মকর্তা  বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া রুবেল হয়রানীমূলক ও মিথ্যে অভিযোগে ২৬টি মামলার শিকার হয়েছেন। তিনি ওইসব গ্রেফতার হয়ে জেল খেঁটেছেন। তিনি অফিস, বাসা- বাড়ি ছেড়ে দীর্ঘদিন পালিয়ে বেরিয়েছেন। টানা ৬ বছর চাকুরীচ্যূত ছিলেন। শুধু তাইনয়, প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়ার বাবা-ভাইসহ আত্মীয়স্বজনের নামেও একাধিক মামলা হয়েছে।

তিনি ছাত্র জীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী ছাত্র দলের নেতৃত্বে ছিলেন। তৎকালীন পুরান ঢাকায় সুত্রাপুর থানা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর বিএনপির রাজনীতিতে রাজপথে প্রতিটি কর্মসূচিতে বলিষ্ট ভূমিকা রেখে যাচ্ছনে।   আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপির রাজনীতে সক্রীয় থাকার কারণেই তার বিরুদ্ধে ২৬টি মিথ্যে মামলা দায়ের হয়।

 আরো জানা যায়, বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস ২০২৪ সালে জুলাই বিপ্লবেও রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া। তিনি ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল গ্রেফতার হয়েছেন।  তিনি ৪ মাস ৬ দিন জেল খাটেন। ২০১৩ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে শ্যামপুর থানায় ২টি, ওয়ারী থানায় ২টি, যাত্রাবাড়ি থানায় ২টি, পল্টন থানায় ৮টি, শাহবাগ থানায় ৪ টি এবং রমনা থানায় ৮ টি মামলা দায়ের হয়। তার সেজ ভাইয়ের বিরুদ্ধে ছিলো ২৯ মামলা, বাবার বিরুদ্ধে ছিলো ২টি মামলা। এই মামলায় তার বাবা-ভাইয়েরাও মাসের পর মাস জেল খেটেছেন।

অথচ ফ্যাসিবাদী বিরোধী রাজপথের বিএনপির পরিক্ষিত সাহসী  এই  প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়াকে কথিত ও সাজানো বেনামী অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত ছাড়াই চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছেন, ডিএসসিসিতে জাতীয়তাবাদী শ্লোগানধারী আধিপত্য বিস্তারকারী ও ফ্যাসিষ্ট আমলের কতিপয় দুর্নীতিগ্রস্ত দলবাজ ও অসৎ কর্মকর্তা।

আরো জানা যায়, সরকারি দপ্তরে কোন সংগঠনের সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পদকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আগে তার কাছে জবাব চাওয়ার বিধান আছেন। জবাবে সন্তেষ্ট না হলে তদন্ত কমিট গঠন করে প্রতিদনের মাধ্যমে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়ে থাকে। কিন্তু ডিএসসিসিতে ‘অফিসার্স এসোসিয়েশনের’ সভাপতি প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া রুবেলের ক্ষেত্রে একতরফা বেনামী মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতেই  তাকে সাময়িক বরখাস্তে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রশাসক। এই ঘটনায় খোদ বিএনপি, অঙ্গ সংগঠন ও সহযোগি সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মাঝে প্রচন্ড ক্ষোভ এবং অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

বর্তমানে ডিএসসিসিতে ফ্যাসিবাদের ভুত মাথাচড়া দিয়ে উঠেছে। তারা নানা কৌশলে জাতীয়তাবাদী আদশের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে অভ্যন্তরিন দ্বন্দ্বকে পুঁজি করে নানা গ্রুপে বিভক্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এরআগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে কর্মচারীদের মাঝে তিনটি গ্রুপকে উস্কে দিয়ে দফায় দফায় মারামারি এবং থানায় একাধিক মামলা দায়ের করিয়েছেন। ডিএনসিসির ভেতর এবং বাইরের জনৈক নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত শক্তিশালী সিন্ডিকেটের দায়ের করা  ওইসব মামলা এখনো চলমান রয়েছে।

এবারও  সিন্ডিকেট ডিএসসিসিতে ঐক্যের প্রতীক ‘অফিসার্স এসোসিয়েশনের’ ভেতর কোন দ্বন্দ্ব সৃষ্টির পায়তারা শুরু করেছেন। ই ‘অফিসার্স এসোসিয়েশনের’ সভাপতি  প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়ার জনপ্রিয়তায় প্রতিহিংসায় জ্বলছেন। কারণ তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের বিপদে আপদে ছুটে যান এবং প্রয়োজনীয় অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেন। তার কাছে সব সময় ব্যক্তির চেয়ে বিএনপি এবং দলীয় নেতা-কর্মীরা অনেক বেশি আপনজন। অথীতে বিএনপি নেতা-কর্মীদের অনেকের মামলার খরচ পর্যন্ত দিতেন। 

এসব বিষয়ে প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া রুবেলের বক্তব্য জানতে চাইলে, তিনি শুধু বলেছেন, তার প্রতি অবিচার করা হয়েছে। তিনি বিএনপি রাজনীতি করায় ২৬টি মিথ্যে মামলায় আসামি হয়ে জেল জুলুমের শিকার হয়েছেন। এবার তার বিরুদ্ধে তদন্ত ছাড়া শাস্তিমূলক আদেশ জারি ন্যয় বিচার পরিপন্থি। তিনি ন্যয় বিচার প্রত্যাশা করেন। 

আ. দৈ./কাশেম
 


Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
বিশেষ সংবাদ- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝