রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাস্তায় গাছ ও পরিবেশের ক্ষতি নিরুপনে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আজ
১০ দিনেও উত্তরা দিয়াবাড়ী গরুর হাটের আর্বজনা পরিস্কার হয়নি, পরিবেশের মারত্নিক ক্ষতি
আবুল কাশেম:
প্রকাশ: রোববার, ৭ জুন, ২০২৬, ৮:৩৩ পিএম  আপডেট: ০৭.০৬.২০২৬ ৯:১০ পিএম  (ভিজিট : ১৯৭)
X

এখনো ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি ) উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকার কোরবানির অস্থায়ী পশুর হাটের ময়লা আর্বজনা পরিস্কার করা হয়নি। কোরবানির ঈদের পর টানা ১০ দিনেও ওই হাটের ভেতর, কয়েক লাখ বাঁশ, বাঁেশর খঁটি,খড়, উপরে বড় বড় ছাউনি ঝুলছে, গরুর পচা গোবরসহ বিষাক্ত বর্জ্যছড়ি ছিটিয়ে পড়ে আছে। এসব সরিয়ে নেওয়া কথা হাটের ইজারাদারের। ইজারাদার ও ডিএনসিসির ঠেলাঠেলিতে এলাকার পরিবেশ বিপর্যস্ত।
 
কিন্তু ওই হাটের ইজারাদার ‘এসএফ করপোরেশনের মালিক ও ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শেখ ফরিদ হোসেন অস্বাভাবিক ক্ষমতাবান। তিনি (শেখ ফরিদ) ডিএনসিসির প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও  প্রধান সম্পত্তি বিভাগের কর্মকর্তাদের অত্যন্ত কাছের মানুষ হওয়ায় মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা এতোদিন কিছু বলার সাহস পায়নি।

এদিকে ডিএনসিসির মুখপাত্র ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন ‘আজকের দৈনিক’ পত্রিকাকে প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তার বরাদ দিয়ে জানিয়েছেন, অস্থায়ী কোরবানি পশুর হাটের ইজারা শর্তে  সুস্পষ্টভাবে  বলা আছে। কেউ শর্ত লঙ্ঘন করলে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে হাটের ভেতর ময়লা আর্বজনা, বাঁশ, বাঁশের খুঁটি, অস্থায় অবকাঠামো পরিস্কার করবে। যেহেতু ইজারাদার ওই সব আর্বজনা সরিয়ে নেয়নি। তাই ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে পরিস্কার করেবেন এবং যাবতীয় খরচ উজারাদারের জামানত থেকে সমন্বয় করা হবে। এই বিষয়ে প্রশাসকের পক্ষ থেকে অনেক আগেই নির্দেশনা দেওয়া আছে। ফলে শিগগিরই ওই হাট পরিস্কারের অভিযান শুরু হবে।

সূত্র মতে,  প্রথম থেকেই রাজনৈতিক ক্ষমতার বলে প্রভাব বিস্তার করে শেখ ফরিদ ইজারার শর্ত লঙ্ঘন করে দিয়াবাড়িতে নির্ধারিত স্থানের পশুর হাটকে উত্তরা সেন্টার মেট্রোরেল স্টেশন সংলগ্ন রাস্তাসহ পুরো এলাকায় রাস্তা ও গলিপথে সম্প্রসারণ করেন। এরফলে ওই সব রাস্তা,গলিপথ ও আইল্যান্ডে লাগানো ডিএনসিসির অনেক মূল্যবান গাছ এবং রাস্তার অনেক ক্ষতি হয়েছে। ওইসব রাস্তা ও গলিপথে জমে থাকা ময়লা আর্বজনায় পরিস্কার করতে ডিএনসিসির অনেক অর্থ ব্যয় ও ব্যাক পেতে হয়েছে। এছাড়া দিয়াবাড়িতে উত্তরা সেন্টার মেট্রোরেল স্টেশনের দুই পাশে বিশাল এলাকায় কোরবানির অস্থায়ী পশুর হাটের ভেতরের ময়লা আর্বজনার বর্তমান চিত্র আরো ভয়াবহ দেখা যায়। 

আজ রোববার (৭ জুন) দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা যায়, এই হাটের ভেতরে প্রচুর বাঁশ, বাঁশের খঁটি,খড়,উপরে ঝুঁলছে বড় বড় ছাউনি, গোবরসহ বিষাক্ত বর্জ্য ছড়ি ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। এসব পরিস্কারে কোন শ্রমিক,কর্মচারীদের দেখা যায়নি। স্থানীয় লোকজন জানান, প্রতিবছরই এই হাটের ময়লা আর্বজনা  ১৫ দিনের আগে পরিস্কার করা হয় না। এবার তো হাট অনেক বড় এবং ইজারাদারের লোকজন মনে হয় না, হাটের বাঁশ, খঁটি, ছাউনি নিজের ইচ্ছায় সরিয়ে নেবেন। ইজারাদারের হাত অনেক লম্বা সবাইকে ম্যানেজ করে ফেলেন। এর প্রমাণ প্রশাসক এবং ডিএনসিসির বিভাগীয় প্রধানরা এসেও কোরবানির হাট রাস্তা থেকে সরাতে পারেননি।

ওই এলাকায় স্থাপিত পুলিশ বক্সের এক সদস্য অপেক্ষ করে বলেন, ‘ ঢাকা সিটি কপোরেশন সহযোগিতা না করায়, রাস্তা থেকে কোরবানির পশুর হাট সরানো যায়নি। একদিকে গাড়ির যানজট,অপন দিক হুট করে অনেক গরু ঢুকে পড়েছে। সেতুলনায় পুলিশের সংখ্যা মাত্র ৫ জন। আপনিই বলুন, গাড়ি সামলাবো,না গরু সামলাবো। কিন্তু সিটি করপোরেশন সে ভাবে এগিয়ে আসেনি। প্রশাসন কয়েক দফা অভিযান চালিয়েছেন। তারা চলে যাবার পর বৃষ্টিতে পুরো রাস্তায় গরু আর মানুষ ভরে গেছে।

ডিএনসিসি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নাম না প্রকাশের মর্তে বলেন,পুলিশই সহযোগিতা করেনি। পুলিশ ইজারাদাদের লোকজনের পক্ষে কাজ করেছেন। এতো বড় গরুর হাটে মাত্র ৫ জন পুলিশ থাকবে কেন। পুলিশ প্রশাসন কেনো বেশি সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করেনি।

 ডিএনসিসির কর্মকর্তারা আরো বলেন, ঈদের পরদিনই তারা মেট্রোরেল সংলগ্ন প্রধান রাস্তা এবং আশপাশের রাস্তা -গলিপথের অনেক ময়লা আর্বজনা দ্রুত পরিস্কার করেছেন তবে ইজারাদার হাটের কয়েক লাখ বাঁশ, খুঁটি ও ছাউনি এখনো সরিয়ে নেয়নি। এসব সরিয়ে নেয়ার পর হাটের ময়লা আর্বজনা পরিস্কার করবে ডিএনসিসির পরিছন্নতা কর্মীসহ আরো অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ করা হবে। 

তারা আরো বলেন, ডিএনসিসির সম্পত্তি বিভাগ থেকে হাটের ইরাজারাদারকে চাপ দিতে হবে। প্রয়োজনে শোকজ করবে, তাতেও কাজ না হলে। ইজারাদারের জামানতের টাকা দিয়ে হাটের সব বাঁশ,খুঁটি, ছাউনি এবং ময়লা আর্বজনা পরিস্কার করতে হবে। এই বিষয়ে প্রশাসকের দপ্তর থেকে নির্দেশনা আসার পাশাপাশি নগদ টাকা ছাড় করতে হবে।

আরো জানান যায় , দিয়াবাড়ি পশুর হাটের ইজারাদার শেখ ফরিদ হোসেন শর্তলঙ্ঘন করে নির্ধারিত এলাকার বাইরেও কোরবানির পশুর হাট বসিয়ে কি পরিমান ক্ষয়ক্ষতি করেছেন তা নিরুপনের জন্য গত ৩ জুন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির আহবায়ক হলেন ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো: আরিফুর রহমান। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন, অঞ্চল-৬ এর নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোঃ হারুন-অর-রশীদ  এবং অঞ্চল-৬ এর সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। এই কমিটিকে আগামী ৩ কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওই নির্দেশনা মোতাবেক তদন্ত কমিটি আগামীকাল সোমবার প্রতিবেদন দাখিল করার কথা রয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশনায় কমিটিকে বলা হয়েছে, দিয়াবাড়ি নির্ধারিত হাট এলাকায় ১৬ ও ১৮ নং সেক্টর সংলগ্ন বৌ-বাজারের আশপাশের খাঁলি জায়গা এবং মেট্রো রেলের পাশে ১৮ নং সেক্টরের সি- ব্লকের খালি মাঠ পর্যন্ত  অস্থায়ী কোরবানি পশুর বিশাল হাট জমানো হয়েছিল। তবে ইজারা শর্তে লঙ্ঘন করে বিএনপির রাজনৈতিক প্রভাব খাঁটিয়ে ‘ ইজারাদার এসএফ করপোরেশনের মালিক শেখ ফরিদ হোসেন। তিনি নির্ধারিত এলাকার বাইরেও কোরবানির পশুর হাট বসিয়েছেন।

 তিনি পশুর হাটটি মেট্রো রেলের ‘উত্তরা সেন্টার মেট্রো স্টেশনের নিচে, সিড়ির কাছাকাছি এবং রাস্তার আশে পাশে বাঁশের খুঁটিগেড়ে গরু রাখার ব্যবস্থা করেন।’ ওই পশুর হাট বর্ধিত করায় ওই এলাকায় ময়লা আবর্জনায় ছেয়ে যায় এবং অনেক সুন্দর সুন্দর গাছপালা ভেঙ্গে ফেলেছে।

 অভিযোগ রয়েছে ,রাস্তারও অনেক ক্ষতি হয়েছে এবং  অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের ফলেও অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে ‘ ইলেকট্রনিক (টিভি), প্রিন্ট এবং অনলাইন গণমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।’ আরো অভিযোগ রয়েছে, উজারাদারের লোকজন মাইকিং গরু বিক্রিতাদের কাছ থেকে প্রতিটি গরু বাবদ নগদ একহাজার টাকা করে আদায় করেছেন।

এদিকে তদন্ত কমিটির একজন কর্মকর্তা এই প্রতিনিধিকে বলেন, তাদের তদন্তে অনেক কিছুই ধরা পড়েছে। এরমধ্যে রাস্তার ক্ষয়ক্ষতির একটি বিষয় রয়েছ, আইল্যান্ডে অনেক গাছ ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে সে বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। এছাড়া রাস্তায় অনেক মাটি, বালু ও ময়লা আর্বজনা পরিস্কার করতে অনেক শ্রমিককে টাকা দিয়ে দ্রুত পরিস্কার করা হয়েছ। তবে মূল হাটের পরিস্কারের বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করেননি।

আ. দৈ. কাশেম



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
বিশেষ সংবাদ- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝