রাজধানীতে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ ও তদারকির দায়িত্বে অবহেলা ২ নির্বাহী কর্মকর্তা ওপর ক্ষুব্ধ
ঢাকা উত্তরে অঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা সাদেক ও দক্ষিণে মুস্তানজিরের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর অ্যাকশন
আবুল কাশেম

ছবিতে হাতের বামে খয়েরি কোট কাজী সালেহ মুস্তানজির, কালো কোট মো. সাদেকুর রহমান
এবার আর রক্ষা পেলেন না ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বহুল আলোচিত চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ ও অতিমাত্রায় তেলবাজ আঞ্চল জোন-৫–এর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান । সাবেক প্রশাসক এজাজের আমলে গঠিত শক্তিশালী সিন্ডিকেট নিয়ে অনেক আগেই গুরুতর নানা অভিযোগ উঠেছিল মো. সাদেকুর রহমানের বিরুদ্ধে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করে উল্টো তাকে একাধিক অঞ্চলের নির্বাহী কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
ডিএনসিসির বর্তমান প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম মিলটনও নানা কারণে আঞ্চল জোন-৫–এর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমানসহ বেশ কয়জন চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ ও ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের বিষয়ে অনেকটাই দুর্বল। ডিএনসিসির একাধিক কর্মকর্তা আক্ষেপ করে বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর এবং কোটি কোটি টাকা লোপাটের সাথে জড়িতরা বর্তমান প্রশাসকের দপ্তরের সিন্ডিকেটকে পুনর গঠন করেছেন। এই বিষয়টি নিয়ে সরেজমিন তদন্ত হলে আরো অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে। এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন ডিএনসিসির একাধিক কর্মকর্তা।
এদিকে আজ শুক্রবার বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ উদ্যোগে পরির্দশনে বের হন। ওই সময় রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিন রোড, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার এলাকায় কোরবানির পশুর বর্জ্যের পাশাপাশি আগের জমে থাকা ময়লা সড়কে পড়ে থাকার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে এবং তিনি সরাসরি সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমানের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন নিতে নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রী আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কোরবানির পশুর বর্জ্য ও জমে থাকা ময়লা রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এসব ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ঢাকা উত্তর সিটির দায়িত্ব প্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আঞ্চল-১–এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজিরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থানিতে নির্দেশ দেন। এই দুই নির্বাহী কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আজ শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে গণমাধ্যমকে এ নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি -১ জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানান।
জাহিদুল ইসলাম রনি গণমাধ্যমকে আরো জানান, রাজধানীর হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিন রোড, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার এলাকায় কোরবানির পশুর বর্জ্যের পাশাপাশি আগের জমে থাকা ময়লা সড়কে পড়ে থাকার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। পরে তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
তিনি ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জোন-৫–এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জোন-১–এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজির। দুজনই উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা। জানা গেছে, তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করার পাশাপাশি সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
আ. দৈ./কাশেম




















