ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্প দ্রুত
আগামী বছর ডিসেম্বরের মধ্যে প্লট বরাদ্দপ্রাপ্তদের কাজ শুরুর নির্দেশ
বাসযোগ্য করার উদ্যোগ নিচ্ছে রাজউক
সুজিৎ নন্দী

‘ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্প’ দ্রুত বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। যেসব বরাদ্দ গ্রহীতা প্লট বরাদ্দ পেয়েও এখনো নির্মাণ কাজ শুরু করেননি, তাদের দ্রুত ভবন নির্মাণে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে তাগাদা পত্র প্রদানের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। আগামী বছর ডিসেম্বরের মধ্যেই বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করতে হবে।
অন্যদিকে বরাদ্দপ্রাপ্তদের সমিতি সূত্রে জানায়, শুধুমাত্র প্লট বরাদ্দ দিয়ে বসবাস নিশ্চিত করা যায় না। মানুষের জন্য আগে প্রয়োজন মৌলিক অবকাঠামো ও নাগরিক সেবা যেমন সড়ক, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য সুবিধাগুলো। এসব নিশ্চিত না হলে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেখানে বসবাসে আগ্রহী হবে না।
তবে রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী ও ঝিলমিল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আমিনুল ইসলাম সুমন বলেন, এরই মধ্যে ২৩ কিলোমিটার রাস্তা নির্মানের কাজ শেষ হয়েছে। জমিতে ভূমি উন্নয়ন, রাস্তা এবং কালভার্টের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে সুয়ারেজের কাজ বাকি থাকলেও পানি ও ড্রেনেজের কাজ চলমান। এ পাশাপাশি রাজউক এখানে প্রায় ১৪ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণের একটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে। স্কুল, কলেজ, মসজিদ, হাসপাতাল ও কবরস্থানের জায়গা নির্ধারণ এবং নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে চলছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে এগুলো বরাদ্দ দেয়া হয়। ৩৮১ একরের এই প্রকল্পে ১ হাজার ৭৭৪টি প্লটের বেশির ভাগ হস্তান্তর হলেও ইউটিলিটি সেবা এবং কারণে বাড়ি নির্মাণ কম। প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ১৪৮টি প্লট রাজউক থেকে বাড়ি তৈরির অনুমোদন পেয়েছে। ২০টি প্লটে বাড়ি তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
প্লট বরাদ্দপ্রাপ্তরা জানান, এখানে বাড়ি তৈরিতে প্রধান চ্যালেঞ্জ ইউটিলিটি সেবা ও নিরাপত্তার অভাব। সম্প্রতি উন্নয়ন কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। রাজউক অনুমোদন দিলেও আগামী বছর শেষের দিকে বাড়ি তৈরির কাজে হাত দেয়া হবে।
প্রকল্প ঘুরে জানা যায়, বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ আংশিকভাবে ৭৫ শতাংশ হয়েছে, তবে ২৫ শতাংশ সংযোগ এখনো বাকি। মসজিদের কাজ ৬০ শতাংশ, স্কুল ও কলেজ ৪০ শতাংশ এবং কবরস্থানের কাজ হয়েছে ২০ শতাংশ। তবে সীমানা পিলার, সাইট অফিস ও বৃক্ষরোপণ কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে।
সরেজমিনে আরো দেখা যায়, ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্প এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃক ২টি বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হচ্ছে। ঢাকা ওয়াসা কর্তৃক ২টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া প্রায় ২৩ কিলোমিটার সড়ক এবং ১৮ কিলোমিটার সারফেস ড্রেন নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। গণপূর্ত বিভাগ থানা ভবন নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে।
এছাড়াও ৬ তলা বিশিষ্ট রাজউক স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ৪ তলা বিশিষ্ট মসজিদের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।ইতোমধ্যে রাজউকের কর্মকর্তাবৃন্দ ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পের সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। বিশেষ করে সড়ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য নাগরিক সুযোগ-সুবিধার কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে দায়িত্বরত প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
আ.দৈ/আরএস




















