রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঈদযাত্রায় ফের পুরোনো শঙ্কা, নির্বিঘ্ন করাই বড় চ্যালেঞ্জ
শাহীন রহমান
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৬:৫২ পিএম   (ভিজিট : ৮৩)
X

সাতটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে এবারও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে যানজট
অসমাপ্ত সড়ককাজ, টোলপ্লাজা ব্যবস্থাপনা ও পশুবাহী যানবাহনের চাপ। সরকারের কড়া প্রস্তুতি
তবু ৯৪ ঝুঁকিপূর্ণ স্পট;মহাসড়কে আগাম চাপ 
ভোগান্তির আশঙ্কায় ঘরমুখো মানুষ

এখনো আনুষ্ঠানিক ঈদ যাত্রা শুরু হয়নি। তবে পথে আগেই যানজট ও ভোগান্তি শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এবার ঈদযাত্রা আগের চেয়ে স্বস্তিদায়ক হবে। বিভিন্ন মহাসড়কে অতিরিক্ত পুলিশ, মোবাইল কোর্ট, উদ্ধারকারী টিম ও মনিটরিং ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোথাও যানজট তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। তারপর শঙ্কা রয়েছে গেছে। ফলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এবারের ঈদযাত্রা কতটা স্বস্তিদায়ক হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা বলছে এবার যাত্রা নির্বিঘ্ন করাই সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।

যদিও গতবারের ন্যায় এবারও ঈদ উল আযহার ছুটি বাড়নো হয়েছে। তবে সরকারি এবং বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এক সাথে ছুটি হওয়ায় সড়কে যাত্রা চাপ অনেকগুন বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। প্রতিবারের ন্যায় এবার ঈদে প্রায় এক কোটি বেশি মানুষ ঢাকা ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অনেকেই আগাম টিকেট সংগ্রহ করেছেন। আবার অনেকে ব্যর্থ হয়েছেন। ঢাকা থেকে বাস, ট্রেন লঞ্চে করে দেশে বিভিন্ন গন্তবে ঢাকা ছাড়বে মানুষ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাপ বাড়বে সড়কপথে। কারণ ঈদ যাত্রার প্রায় ৭৫ শতাংশ যাত্রী সড়ক পথে বাড়ি ফিরবে। 

এখনো আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু না হলে সড়কে পথে বিভিন্ন রুটে যানজট তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মেঘনা-গোমতী সেতু থেকে রায়পুর পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দেয়। ভোর পাঁচটা থেকে এই যানজট শুরু হয়। এ ঘটনায় দুর্ভোগে পড়ে যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা। দাউদকান্দির গৌরীপুর মুন্সী ফজলুর রহমান সরকারি ডিগ্রি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক মরিয়ম আক্তার বলেন, সকাল সাতটায় ঢাকা থেকে বাসে করে রওনা দেন। 

পথে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর ও দাউদকান্দির মেঘনা-গোমতী সেতুর কাছে পৌঁছে যানজটে আটকা পড়েন। যানজটের কারণে ৫০ কিলোমিটারের পথ যেখানে সাধারণত ৫০ মিনিটে অতিক্রম করা যায় তা পাড়ি দিতে তাঁর সোয়া দুই ঘণ্টা লেগেছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে যানজটে আটকা পড়ে বাসে বসে থেকে অনেক কষ্ট পেয়েছেন তিনি। দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সন্দীপ সাহা বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে অতিরিক্ত ও এলোপাতাড়ি যানবাহন চলাচলের কারণে ঢাকাগামী সড়কের মেঘনা-গোমতী সেতু এবং চট্টগ্রামগামী সড়কের মেঘনা সেতুর টোল আদায়ে বিলম্ব হচ্ছে। এ কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে যানজট নিরসনে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানা-পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে আগামী কয়েকদিনে ভোগান্তি আরও বাড়বে। 

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, যানজট বিশেষজ্ঞ সন্তোষ কুমার রায় বলেন, ঈদযাত্রায় মহাসড়কে গাড়ির চাপ বেড়ে যায়। ঈদুল আজহায় পশুবাহী গাড়ির চাপও থাকে। এ কারণে অতিরিক্ত গাড়ির চলাচলে সব সংস্থার সমন্বিত ব্যবস্থাপনা দরকার। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সাধারণ সময়ে গাড়ি চলে ৩৫ হাজার, ঈদযাত্রায় বেড়ে হয় প্রায় ৬০ হাজার। ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কে ২২ হাজার থেকে বেড়ে ঈদযাত্রায় গাড়ি বেড়ে হয় ৬৪ হাজার। ফলে স্বাভাবিকভাবে যানজট সৃষ্টি হয়। এবার ব্যতিক্রম হবে না। 

যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এবার ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নেয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ, গঠন করা হয়েছে মনিটরিং টিম ও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। তবু বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, দেশের অন্তত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে এবারও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে যানজট, অসমাপ্ত সড়ককাজ, বটলনেক, টোলপ্লাজা ব্যবস্থাপনা ও পশুবাহী যানবাহনের চাপ।

বাস মালিক সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার ঢাকা থেকে অন্তত এক কোটি মানুষ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করবে। এর প্রায় ৮৫ শতাংশ যাত্রী সড়কপথ ব্যবহার করবে। ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক, ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী বিভিন্ন রুটে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে। ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি, ধীরগতি ও যাত্রীভোগান্তির খবর পাওয়া গেছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ জানিয়েছে, ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে ১১ মে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা হয়েছে। পাশাপাশি বিআরটিএ, হাইওয়ে পুলিশ, সওজ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে মনিটরিং টিমও গঠন করা হয়েছে। 

তবে বাস্তবতায় বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে এসব প্রস্তুতি কতটা কার্যকর হবে? সভা শেষে সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ঈদযাত্রায় গাজীপুর, আবদুল্লাহপুর, বাইপাইল ও চন্দ্রা এলাকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এসব এলাকায় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, অস্থায়ী কাউন্টার এবং অনিয়মিত পরিবহন নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

হাইওয়ে পুলিশ ইতোমধ্যে সারা দেশে যানজটপ্রবণ ৯৪টি স্পট চিহ্নিত করেছে। এসব এলাকায় বিশেষ নজরদারি, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রমের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। কিন্তু পরিবহন মালিক, চালক ও যাত্রীরা বলছেন, সমস্যার মূল জায়গাগুলো আগের মতোই রয়ে গেছে। হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের অ্যাডিশনাল ডিআইজি মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, রোজার ঈদের তুলনায় কোরবানির ঈদে  যানবাহনের চাপ ভিন্ন ধরনের হয়।

 একদিকে মানুষ ঢাকা ছাড়ে, অন্যদিকে পশুবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন  যানবাহন ঢাকামুখী হয়। ফলে মহাসড়কে চাপ বেড়ে যায়। বিষয়টি মাথায় রেখেই বাড়তি ফোর্স মোতায়েন ও বিশেষ পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। যেসব এলাকায় যাত্রী ওঠানামা বেশি হয়, সেখানে কন্ট্রোলরুম থাকবে। সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটর করা হবে। অতিরিক্ত এক হাজার সদস্য যুক্ত হওয়ায় মহাসড়কে প্যাট্রলিংও বাড়ানো হবে।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদযাত্রার সময় যানজটের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অসমাপ্ত সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্প, মহাসড়কে অবৈধ যান চলাচল, বেহাল ও খানাখন্দপূর্ণ রাস্তা, টোলপ্লাজায় ধীরগতি, মহাসড়কের পাশে পশুর হাট, যত্রতত্র বাস থামানো, বিকল যানবাহন দ্রুত অপসারণে ব্যর্থতা, এসব কারণে সামান্য চাপও বড় যানজটে রূপ নেয়। 

মহাসড়ক পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও গত বছরের কোরবানির ঈদে মহাসড়কের পাশে ২০০টির বেশি পশুর হাট বসানো হয়েছিল। এবারও সরকারের পক্ষ থেকে মহাসড়কে পশুর হাট বসতে দেয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মহাসড়ক পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি থাকলে যানজট নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সবচেয়ে বড় শঙ্কা যমুনা সেতু এলাকায়॥ উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার জায়গা হয়ে উঠেছে যমুনা সেতু এলাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চার লেন সম্প্রসারণকাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়া এবং ম্যানুয়াল টোল আদায়ের কারণে এখানে দীর্ঘ যানজট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত কয়েক বছরের মতো এবারও যমুনা সেতু পূর্ব প্রান্ত ও টাঙ্গাইল অংশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের শঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না কেউ। সরকারি পর্যায়ে অবশ্য দাবি করা হচ্ছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সেতু মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পদ্মা সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নির্মাণকাজের ভোগান্তি॥ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কেও দুর্ভোগের আশঙ্কা প্রবল। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের কাঞ্চন, কাঁচপুর, গাউছিয়া ও ভূলতা এলাকায় সড়ক সম্প্রসারণকাজের কারণে এখন থেকেই ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। যাত্রী ও চালকরা অভিযোগ করছেন, কোথাও কোথাও দুই কিলোমিটারের রাস্তা পার হতে লাগছে ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত। মহাসড়কে তিন চাকার যান, উল্টো পথে চলাচল, অবৈধ পার্কিং ও যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। যদিও হাইওয়ে পুলিশ বলছে, অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং দীর্ঘ ছুটির কারণে চাপ কিছুটা ভাগ হয়ে যাবে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে স্বস্তি, তবু শঙ্কা কাটেনি॥ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে আপাতত যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঈদের একেবারে আগের দুই দিনে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। বিশেষ করে ফেনী, মেঘনা-গোমতী সেতু এলাকা, দাউদকান্দি ও নারায়ণগঞ্জ অংশে চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিবহন মালিকরা বলছেন, সড়কের কিছু অংশে খানাখন্দ ও সংস্কারকাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। ফলে ভারী যানবাহনের চাপ বাড়লে ধীরগতি তৈরি হতে পারে।

ট্রাক-লরি বন্ধের সিদ্ধান্ত॥ ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরি চলাচলে সীমিত নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কয়েকদিন পণ্যবাহী ভারী যান চলাচল বন্ধ রাখা হবে, যাতে যাত্রীবাহী বাস দ্রুত চলাচল করতে পারে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোরবানির পশুবাহী ট্রাক ও নিত্যপণ্যের যানবাহন চলাচলের কারণে বাস্তবে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয় না। ফলে মহাসড়কে মিশ্র যান চলাচল থেকেই যায়।

আগাম চাপেই বেড়েছে টিকিট সংকট॥ ঈদের ছুটি দীর্ঘ হওয়ায় এবার অনেকেই আগেভাগে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন। বাস কাউন্টারগুলোতে টিকিটের চাপ কয়েক দিন ধরেই বেড়েছে। ট্রেনের টিকিট পেতে হিমশিম খাচ্ছেন যাত্রীরা। অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই অধিকাংশ টিকিট শেষ হয়ে যাচ্ছে। বাস মালিকরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় যানবাহন কম নয়; মূল সমস্যা হচ্ছে সড়কে সময় নষ্ট হওয়া। একটি বাস স্বাভাবিক সময়ে যেখানে দুই ট্রিপ দিতে পারে, যানজটে আটকে সেখানে এক ট্রিপও শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

সরকারের আশাবাদ বনাম মাঠের বাস্তবতা॥ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এবার ঈদযাত্রা আগের চেয়ে স্বস্তিদায়ক হবে। বিভিন্ন মহাসড়কে অতিরিক্ত পুলিশ, মোবাইল কোর্ট, উদ্ধারকারী টিম ও মনিটরিং ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোথাও যানজট তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু পরিবহন বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল প্রশাসনিক প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়। দেশের মহাসড়ক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার ছাড়া প্রতি ঈদেই একই ধরনের সংকট তৈরি হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় বছরের পর বছর নির্মাণকাজ ঝুলে আছে, সেগুলো দ্রুত শেষ না করলে পরিস্থিতির উন্নতি কঠিন।

যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ॥ ঘরমুখো মানুষের মধ্যে এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ কত ঘণ্টায় বাড়ি পৌঁছানো যাবে। অনেকেই আগের অভিজ্ঞতার কথা মনে করে আতঙ্ক প্রকাশ করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঈদযাত্রার দুর্ভোগ নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। কেউ সতর্ক করছেন নিরাপদ যাত্রার বিষয়ে, কেউ তুলে ধরছেন সড়ক বিশৃঙ্খলার অভিজ্ঞতা।

সামনে কঠিন পরীক্ষা॥ সব মিলিয়ে এবারের ঈদযাত্রা সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠছে। একদিকে দীর্ঘ ছুটি ও ঘরমুখো মানুষের চাপ, অন্যদিকে অসমাপ্ত অবকাঠামো ও মহাসড়ক ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা এই দুইয়ের সমন্বয় কতটা কার্যকরভাবে সামলানো যায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। সরকারি প্রস্তুতি এবং মাঠপর্যায়ের তৎপরতা বাস্তবে কতটা ফল দেয়, তা বোঝা যাবে ঈদের আগের শেষ ৪৮ ঘণ্টায়। কারণ দেশের মানুষ এখন শুধু বাড়ি ফিরতে চায় নিরাপদে, স্বস্তিতে এবং অনিশ্চয়তার ভয় ছাড়া।

আ.দৈ/আরএস



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
বিশেষ সংবাদ- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝