বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি হাসপাতাল থেকে ফুটপাত কিংবা মদের বার বাদ যায় না কেউ
নাছির-নিরব বাহিনীর চাদাবাজির জ্বালায় অতিস্ট কলবাগান-ফার্মগেটের ব্যবসায়ীরা
ইসমাঈল হুসাইন ইমু

রাজধানীর কলাবাগান থেকে শুরু করে তেজতুরী পাড়া, কাওরান বাজার ফার্মগেট এলাকায় চাঁদাবাজির রাম-রাজত্ব কায়েম করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। বিভিন্ন হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, রাস্তার দোকানদার, রেস্টুরেন্ট ও মদের বার কর্র্তৃপক্ষ অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই চিহ্নিত এসব নেতারা দলের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজিতে নেমেছেন। এতে দলের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হলেও কোনভাবে থামানো যাচ্ছেনা কতিপয় এসব নেতাদের।
জানা গেছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি নাসির, তার সহযোগি নিরব ও ছাত্রদলকর্মী শাহআলম সদলবলে এলাকায় এসব চাঁদাবাজি করছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। সম্প্রতি একটি বারে উপস্থিত ছিলেন মহানগর ছাত্রদলের এক সিনিয়র নেতা। নাসিরসহ তার সহযোগিরা ওই নেতাকে লাঞ্চিত করেন, এমনকি হত্যারও হুমকি দেন। এসময় বারে উপস্থিত বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষ তাদের ঐদ্ব্যত্বপুর্ণ আচরণ দেখে হতবাক হন। কলাবাগান এলাকার বারের কর্মীরা জানান, নাসির প্রায়ই এখানে এসে ঝামেলা করে। তাকে বলার পর নানা হুমকি ধমকি দেয়। স্থানীয় পদধারি বিএনপির নেতা হওয়ায় তাকে কিছু বলা যায়না। ইদানিং তার আচরণ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
এছাড়া কারওয়ান বাজার মোড়ের হোটেল রয়েল বেঙ্গলে গিয়েও এমন আচরন করেছেন নাসির। হোটেলের এক সিনিয়র বয় জানান, নাসির বেশকিছুদিন ধরে লোকজন নিয়ে এসে ফ্রি খেতে চান। না করলে বয়দের মারধর করেন। আবার হোটেল বন্ধে করে দেয়ার হুমকি দেন। শুধু এই হোটেলেই নয় আশপাশে আরো যত হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও বার রয়েছে সেখানে প্রতিরাতেই নাসির বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে এলাকার সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়রা বলছেন, আগে যুবলীগ-ছাত্রলীগের নোতকর্মীদের ভয়ে থাকতে হতো তাদের। সরকার বদলেছে কিন্তু নেতাদের চরিত্র বদলায়নি। এখন বিএনপি বা যুবদল ছাত্রদলের এসব চাঁদাবাজ নেতাদের কারনে দলের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর দেশ পরিচালনার মিশন ও ভিশনে আঘাত আসছে। এখনই এসব নেতাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকান্ডের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।
এদিকে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, কলাবাগান থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত এই নাসির বাহিনীর মাদক ব্যবসার কারণে এলাকার যুবসমাজও ধ্বংস হচ্ছে। তারা দলবল নিয়ে যেখানে সেখানে চাঁদাদাবিসহ নানা অপকর্মে জড়াচ্ছে। দলের উর্ধ্বতন নেতাদের উচিৎ এখনই এসব নেতাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া।
নাসিরের সহযোগি যুবদলের নিরব প্রথমে মদের বারের ঘটনা অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করে বলেন, একটু ঝামেলা হয়েছে। তবে পরে ঠিক হয়ে গেছে। এলাকায় প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির বিষয়ে তিনি অস্বীকার করে বলেন, তিনি একজন ব্যবসায়ী। অথচ এই নাসির বাহিনী এলাকায় প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করছে বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র বলছে।
নাসিরের চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনকে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এসএমএস দিয়েও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহবায়ক শরীফ উদ্দিন জুয়েল বলেন, নিরব নয় যে কেউ দলের নাম ভাঙিয়ে কোথাও চাঁদা দাবি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে কোন ছাড় নয়।
এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ দপ্তর সম্পাদক মো. মনির হোসেন বলেন, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের দলের চেয়ারম্যান ও প্রধনমন্ত্রী তারেক রহমানের জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরন করছে বিএনপি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে এসব নেতাদের শুধু বহিষ্কার নয় দল থেকেই পুলিশে ধরিয়ে দেয়া হবে।
আ.দৈ/আরএস




















