সরকারদলীয় স্থানীয় নেতাদের নিয়ন্ত্রণে সব হাট, ১৬ হাটের ১০ টি চূড়ান্ত ৬ টি খাসকালেকশনের নামে ভাগাভাগি হচ্ছে
ঢাকা উত্তর সিটিতে ১০টি পশুর হাট চূড়ান্ত,৬টি নিয়ে লুকোচুরি
আবুল কাশেম:

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১৬টি অস্থায়ী হাট ইজারায় নজিরবিহীন অনিয়ম এবং প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সরকার দলীয় নেতাদের সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে কোরবানীর অস্থায়ী পশুর হাট। সিন্ডিকেটকে সাথে নিয়েই সরকারি নির্ধারিত দরের সাথে কিছু মিল রেখে ১০টি হাটের ইজারা চূড়ান্ত করেছে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ। ঢাকা উত্তর সিটিতে অস্থায়ী হাটের পাশাপাশি ‘গাবতলী স্থায়ী পশুর হাটে’ টোনা ৫দিন কোরবানির পশু বিক্রি হবে।
বাকি ৬টি হাটের দরপত্র নিয়ে চলছে নানা লুকোচুরি। ৪টি হাটে কেউ দরপত্র দাখিল করেননি এবং দুইটি হাটে দরপত্র দাখিল করে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে বিবেচিত হলেও অনুমোদিত টাকা জমা নির্ধারিত সময়ে জমা দিচ্ছেন না। তাদের টার্গেট এই ৬টি হাট বিনা টেন্ডারে অস্থায়ী পশুর হাট জমিয়ে ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে গোপনে আতাত করে কথিত খাস কালেকশনের নামে পুরো অর্থ ভাগাভাগি করা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দলীয় নেতাদের সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে ৬টি হাটের বিনা টেন্ডারে খাসকালেকশনের নামে কোটি কোটি টাকা ভাগাভাগির পায়তারা চলছে। এই ৬টি হাটের মধ্যে রয়েছে, ৩০০ ফিট সংলগ্ন ডুমনি মৌজা যমুনা গ্রুপের নিজস্ব জমির জায়গায় অস্থায়ী পশুর হাট সরকারি দর ৬০ লাখ টাকা, সর্বোচ্চ দর ৬০ লাখ ৫০ হাজার টাকা মেসার্স মসিকা এন্টারপ্রাইজ প্রো. মো. আক্তার হোসেন।
তবে এখনো টাকা জমা দেননি। মহাখালী টিএন্ডটি মাঠ হাটেকেই দরপত্র নিতে সিডিউল ক্রয় করেননি। ভাটুরিয়া সাহেব আলী মাদ্রাসা থেকে ১০ নং সেক্টর রানাভোলা সংলগ্নর এভিনিউ সংলগ্ন উত্তরা স্লুইচগেট পর্যন্ত এলাকা সরকারি দর ৬০ লাখ টাকা, সর্বোচ্চ দর ৮৮ লাখ টাকা, মেসার্স লামিয়া এন্টারপ্রাইজ প্রো. মো. নুরু আলম। তিনি এখনো টাকা জমা দেননি এবং কার্যাদেশ নিচ্ছন না।
খিলক্ষেতের মস্তুল চেকপোস্ট-সংলগ্ন পশ্চিমপাড়ার খালি জায়গা সরকারি দর ৯৩ লাখ ২২ হাজার ৩৩৪ টাকা, সর্বোচ্চ দর ৩ কোটি ৭ লাখ টাকায় বিল্লাল হোসেন ইজারা পেয়েছেন। তবে খিলক্ষেতের র্এই হাটের ইজারাদার টাকা জমাদেননি এবং কার্যাদেশ নিতে আসেননি বরে জানা যায়।
২১ নম্বর ওয়ার্ডের মেরুল বাড্ডা কাঁচাবাজার-সংলগ্ন খালি জায়গা মনকারি দর ১৪ লাখ টাকা, ৩১টি সিডিউল বিক্রি হয় কিন্তু একটিও জমা হয়নি। মোহাম্মদপুরের বসিলার ৪০ ফুট সড়ক-সংলগ্ন খালি জায়গা ৪টি টি সিডিউল বিক্রি হয় কিন্তু কেউ সিডিউল জমা দেননি। ভাটারা সুতিভোলা খালসংলগ্ন খালি জায়গা সরকারি দর ৩ কোটি ১২ লাখ ৭৬ হাজার ৬৬৭ টাকা। এই হাটে ১৫টি সিডিউল বিক্রি হয় কিন্তু একটিও জমা হয়নি। এই হাটগুলো শেষ পর্যন্ত খাসকালেকশনে যেতে পারে।
এদিকে ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন ‘আজকের দৈনিক’ পত্রিকাকে বলেন, যেসব হাটে সর্বোচ্চ দরদাতা পাওয়া গেছে, সেসব জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৬টি হাটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ডিএনসিসি থেকে বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো কোন জবাব আসেনি।
এবার ডিএনসিসির ১৬ হাটের ইজারায় নানা অনিয়ম এবং দুর্নীতির নানা অভিযোগ। ডিএনসিসির পক্ষ থেকে গত ৯ এপ্রিল ১২টি এবং ২৮ এপ্রিল আরো ৪টি হাটের জন্য পৃথক দরপত্র আহবান করা হয়। প্রথম দফায় টেন্ডারে ২৬ এপ্রিল সিডিউল বিক্রি,২৭ এপ্রিল দুপুর ১ টায় সিডিউল জমা গ্রহণ এবং দরপত্র খোলা হয়। কিন্তু সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রীত এসব হাটে সরকারি নির্ধারিত দরের চেয়ে অনেক কম দরপত্র জমা হয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ৩ মে সিডিউল ক্রয়, ৪ মে ১ টা পর্যন্ত জমা গ্রহণ এবং দুপুর আড়াইটায় দরপত্র খোলা হয়। এবার সরকারি নির্ধারিত দরের চেয়ে অনেক কম দরপত্র জমা হয়। পরে তৃতীয় দফায় ১০ মে সিডিউল বিক্রি করা হয়, ১১ মে দুপুর ১ টা পর্যন্ত দরপত্র গ্রহণ করে দুপুর আড়াই টায় খোলা হয়। কিন্তু কাঙ্খিত দর না পেয়ে পুনরায় নতুন করে ১৩ মে সিডিউল বিক্রি, ১৪ মে দরপত্র গ্রহণ এবং ১৮ মে খোলা হয়। অবশেষে ১৯ মে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ ১০টি হাটের দরপত্র চূড়ান্ত করেছেন এবং হাট জমানের জন্য টাকা জমাদিতে কার্যাদেশ দিচ্ছন।
চূড়ান্ত হওয়া ১০টি হাটের মধ্যে রয়েছে;
মিরপুর সেকশন-৬-এর ইস্টার্ন হাউজিং-সংলগ্ন খালি জায়গা সরকারি দর ১কোটি ৭৬ লাখ ৪৭ হাজর টাকা, সর্বোচ্চ দর এক কোটি ৭৯ লাখ টাকায় ইজারা পেয়েছেন মেসার্স ইসলাম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. সিরাজুল ইসলাম। মিরপুর কালশী বালুর মাঠসংলগ্ন খালি জায়গা সরকারি দর ৩০ লাখ টাকা, সর্বোচ্চ দর ৩০ লাখ ১১ হাজার টাকায় রেদোয়ান রহমান, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট-সংলগ্ন খালি জায়গা সরকারি দর ১ কোটি ১৩ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা সর্বোচ্চ দর ৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকায় শিকদার এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আমিনুল ইসলাম, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হাজীপাড়ার ইকরা মাদরাসার পাশের খালি জায়গা সরকারি দর ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, সর্বোচ্চ দর ১৩ লাখ ৫৩ হাজার টাকায় এম আসলাম ইজারা পেয়েছেন।
উত্তরা দিয়াবাড়ির ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টর-সংলগ্ন বউবাজার এলাকা সরকারি দর ৮ কোটি ৩০ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৪ টাকা, সর্বোচ্চ দর ১৪ কোটি ১৫ লাখ টাকায় এসএফ করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী মো. শেখ ফরিদ হোসেন, ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁচকুড়া বাজার-সংলগ্ন রহমান নগর আবাসিক এলাকা সরকারি দর ১৫ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা, সর্বোচ্চ দর ২৭ লাখ টাকায় রফিকুল ইসলাম সরকার ।
বনরূপা আবাসিক প্রকল্প এলাকা সরকারি দর ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, সর্বোচ্চ দর ১ কোটি ৮০ লাখ ১০ হাজার টাকায় আরিফিন অ্যান্ড আরাফ এন্টারপ্রাইজের মালিক মুহা. আবুল কালাম আজাদ, বাড্ডার স্বদেশ প্রপার্টির খালি জায়গা সরকারি দর ৫০ লাখ টাকা, সর্বোচ্চ দর ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকায় মুহাম্মদ তুহিনুর ইসলাম এবং বড় বেরাইদ পশুর হাট সরকারি দর ১ কোটি টাকা সর্বোচ্চ দর ৫ কোটি ৭ লাখ টাকায় এএম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আতাউর রহমানের নামে ইজারা হয়েছে।
আ. দৈ./কাশেম




















