আবাসিক হোটেলে জামাই আদর
ফ্যাসিস্টদের আস্তানা এখন মদের বারে
বিশেষ প্রতিনিধি

দীর্ঘদিন লুকিয়ে থাকার পর আবারো প্রকাশ্যে আসছে ফ্যাসিস্টরা। কখনো মাস্ক পরে কখনো বিএনপির কর্মীদের সাথে আবার কখনো নিজেরাই সংঘবদ্ধ হয়ে আড্ডায় মাতছে। বিশেষ করে রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও মদের বারে এসব ফ্যাসিস্টদের দেখা মিলছে। এ অবস্থা চলছে বেশ কিছুদিন ধরেই।
সোমবার রাত ১০ টা। রাজধানীর একটি মদের বারে স্বাভাবিকভাবে মদপানকরিরা আসছে-যাচ্ছে। হঠাৎ একদল যুবক ঢুকলো। সবার মুখে মাস্ক পরা। টেবিলে আড্ডা শুরু হলো। অন্যদের মত তারাও মদ পান করছে।
এক পর্যায়ে নিজেদের মধ্যে সোরগোল শুরু। একে অন্যের দোষ নিয়ে বাক বিতণ্ডায় লিপ্ত। ক্রমেই বাড়ছে চিৎকার চেচামেচি। পরে একজন বলে উঠলো জয়বাংলা। এরপরই পাশের টেবিল থেকে উঠে আসলো কয়েকজন। তারা স্থানীয় বিএনপি ও অংগ সংগঠনের পরিচয় দিল।
এবার মুখে মুখে যুদ্ধ শুরু। কিছুক্ষণ যেতেই জয়বাংলার লোকেরা একে একে সটকে পড়লো। একজন তোপের মুখে পড়ে বিএনপির কর্মী পরিচয় দেয়া যুবকদের কাছে মাফ চেয়ে বিদায় নিলো। এ চিত্র এখন প্রায় প্রতিদিনের।
রাজধানীর প্রায় সব বারেই সন্ধ্যার পর এমন চিত্র লক্ষ করা যাচ্ছে। পারমিটধারি ছাড়া কারো কাছে মদ বিক্রি ও পরিবেশনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কেউ মানছেনা। বার কর্তৃপক্ষ কাস্টমার পেলেই খুশি। পাশাপাশি লেটনইটের পারমিশন না থাকলেও মধ্যরাত পর্যন্ত চলছে বারগুলো। এছাড়া রাজধানীর বেশকটি বারে চলে অশ্লীল নৃত্য।
এদিকে রাজধানীর একটি আবাসিক হোটেলেও (উপরে বার) দেখা মিললো আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের। তাদের আশেপাশে ছিলেন যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা। বারের এক কোনায় তিনটি টেবিল নিয়ে বসেছেন তারা। খুব সন্তোর্পনে কথা বলছেন নিজেরা। সেখানে উপস্থিত একজন সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে যান।
মুহুর্তেই পাল্টে যায় চিত্র। প্রায় সবাই তড়িঘড়ি করে টেবিল ছেড়ে চলে যান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৈধ ওই বারের নিচেই রয়েছে আবাসিক হোটেল। সেখানেই আত্মগোপণে থাকছেন আওয়ামী নেতাকর্মীরা। সন্ধ্যার পর উঠছেন বারে। মধ্যরাত পর্যন্ত আড্ডা শেষে আবার যার যার কক্ষে ফিরে যান। তবে তারা বেশিদিন একটি হোটেলে অবস্থান করেন না। হাসিনা সরকারের পতনের পর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল মোটেলগুলোতে পুলিশের রেইড অব্যাহত থাকায় ওই সব হোটেলে তেমন একটা অবস্থান করতোনা তারা তবে বর্তমানে আবাসিক হোটেলে।
পুলিশের তেমন তৎঞ্চরতা না থাকায় পলাতকদের ভীড় বাড়ছে আবাসিক হোটেলগুলোতে। এ বিষয়ে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে আবাসিক হোটেলে অভিযান চালানো হয়। এর আগেও বেশকিছু আবাসিক হোটেল থেকে পতিত সরকারের দোসরদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে একেবারেই হচ্ছেনা তা নয়। এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে পুলিশকে অবহিত করার আহবান জানান তিনি।
আ.দৈ/আরএস




















