রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় মন্ত্রীর কাছের লোক পরিচয় দেয় সংশ্লিষ্টরা , অর্থ লোপাটের জন্যই এসব প্রকল্প
মুিরপুর-১১ নম্বরে ভবন ও মার্কেটের চেয়ে উচু রাস্তা নির্মাণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ
আবুল কাশেম:
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৭:৪৪ পিএম  আপডেট: ১৬.০৫.২০২৬ ৮:২৭ পিএম  (ভিজিট : ১৯৪)
X

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মিরপুরে আঞ্চল-২ এর নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা ও গলিপথ উন্নয়নের নামে পরিকল্পিতভাবে হাজার হাজার মানুষকে ভয়াবহ জলাবদ্ধায় ফেলার নীলনক্সা বাস্তবায়ন হচ্ছে। একই সাথে উন্নয়নের নামে ডিএনসিসির বরাদ্দকৃত শত কোটি টাকা লোপাটের মিশন নিয়ে মাঠে নামছে সংঘবদ্ধ একটি চক্র। এই চক্রটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্থানীয় এক প্রতিমন্ত্রীর অত্যন্ত কাছের এবং আস্থাভাজন বলে ডিএনসিসিতে প্রচার করেন।

শুধু তাইনয়, বর্তমান প্রশাসক মো.শফিকুল ইসলাম মিলটনের দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার নামও ব্যবহার করছেন ওই সংঘবদ্ধ একটি চক্র। এই চক্রটি নানা কৌশলে উন্নয়নের অযুহাতে নানা প্রকল্পের নামে একদিকে ডিএনসিসির কোটি কোটি টাকা লোপাট শুরু করেছেন। অপরদিকে এই চক্রটি  বিভিন্ন এলাকায় বহুতল বড় বড় ভবন, মার্কেট, দোকানপাট, কাঁচাবাজ ও লোকজনের বাসাবাড়ির চেয়ে অনেক উচু করে রাস্তা এবং গলিপথ নির্মাণ শুরু করেছে বলে অনেক অভিযোগ রয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এসব দেখার যেন কেউ নেই। এদিকে কামরুল হাসানের সাথে একাধিক বার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। 

অপরদিকে অবশেষে নিরুপায় হয়ে রাজধানীর মুিরপুর-১১ নম্বর এলাকার স্থানীয় ব্যবসায়ী,বিভিন্ন ভবনের মালিকসহ বাসা বাড়ি সহস্রধিক মানুষ ডিএনসিসির অস্বাভাবিক উচু করা রাস্তা ও গলিপথ নির্মাণের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার প্রতিবাদের রাজপথে নেমেছেন। তারা বিক্ষোভ সমাবেশে ডিএনসিসির অঞ্চল-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী, সহকারী প্রকেশলী, উপসহকারী প্রককৌশলী এবং ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দেন। একই  উন্নয়নের নামে ডিএনসিসির অর্থ বরাদ্দ এবং কার্যাদেশ প্রদানকারীদের বিরুরেদ্ধ তদন্ত করে আইন ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 কারণ দফায় দফায় রাস্তা ও গলিপথ উন্নয়নের নামে অনেক উচু করা হয়েছে। এরপর অবার ওই উচু রাস্তা ও গলিপথকে উচু করে চলতি অর্থবছরের বরাদ্দ কৃত টাকা লোপাটের জন্য তড়িগড়ি করে কাজ শেষ করার পায়তারা চলছে।  ডিএনসিসির লোকজন ওই এলাকার মানুষের কষ্ট লাগভ না করে উল্টো দুর্ভোগ বাড়িয়েই যাচ্চছন। যারফলে  লোকজন
 গত ১১ মে রাস্তায় বিক্ষোভ সমাবেশ করতে বাধ্য হয়েছেন। নির্মাণকাজের নামে এলাকাবাসীর দুভোর্গ এবং ভোগান্তি তার আর দেখতে চান না।

বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি বক্তব্য রাখেন, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি বাংলাদেশের (ন্যাপ বাংলাদেশ) মহাসচিব নেয়াজ আহমদ খান।  তিনি বলেন, রাস্তা উন্নয়নের নামে যদি মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে, তাহলে সেই উন্নয়ন সাধারণ  মানুষের কোনো উপকারে আসে না। এই রাস্তা অতিরিক্ত উঁচু করায় প্রতিদিন শিশু, বৃদ্ধ, নারী ও ব্যবসায়ীরা চরম কষ্টে চলাচল করছেন। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ডিএনসিসির  নির্বাহী প্রকৌশলী,সংশ্ষ্টি কর্মকর্তারা এবং ঠিকাদার মানুষের সেবার পরিবর্তে মানুষের র্দুভোগ বাড়ানোর জন্য রাস্তা অনেক উচু করতেছেন। উন্নয়নের নামে এভাবে ডিএনসিসির কোটি কোটি টাকা লোপার্ট বন্ধ হওয়া উচিত। 

তিনি আরো বলেন, মিরপুর ১১ নম্বরে ‘নিউ সোসাইটি মার্কেটটি’ নিয়ে হাইকোর্টে দায়ের করারিট মামলাটি দীর্ঘদিন যাবত ঝুলে রয়েছে। এই রিট মামলাটি দ্রুত নিস্পত্তির করে মার্কেটের গরীব দোকানদার ও হকারদের পূনর্বাসনের পাশাপাশি রাজস্ব আদয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করলে ডিএনসিসি অনেক লাভবান হবে। 

 সমাবেশে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষোভের সাথে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণ কাজ চলছে। দফায় দফায় রাস্তা ও গলিপথ উচু করতে করতে অনেক উচু করা হয়েছে। তার ওপর আবার  সুনিদিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই উচু করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মাছ বাজারে ক্রেতাদের যাতায়াতে সমস্যা হওয়ায় ব্যবসায়ও প্রভাব পড়ছে। অনেকে বাজারে আসতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন, ফলে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত রাস্তাটি সাধারণ মানুষের চলাচলের উপযোগী করে পুনর্নির্মাণ করার পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিরাপদ চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

বিক্ষোভকারীরা আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে বহুবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই তারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। তারা আশা করছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল বাতেন এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন দ্রুত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, উন্নয়নের কাজ অবশ্যই প্রয়োজন, তবে সেই উন্নয়ন যেন মানুষের দুর্ভোগের কারণ না হয়। এলাকাবাসী দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান।  গোস্ত ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে অনুস্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সোনা মিয়া, জালাল খান, বিহারি নেতা আবদুল মজিদ, মাছ ব্যনসায়ী আনোয়ার হোসেন প্রমূখ। 

আ. দৈ./কাশেম


Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
বিশেষ সংবাদ- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝