মোট ভোটার ১১০৯৭ আর কাস্টি ভোট ৪০৪৮, তবে নির্বাচনে আ’লীগ নেই
সুপ্রিম কোর্ট বারের নির্বাচনে দুইদিনে ভোট গ্রহণ শেষে চলছে গণনা
আবুল কাশেম:

বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবী এবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২০২৭ সেশনের দুই দিনব্যাপী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেলেন না।
এদিকে রেওয়াজ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বানে টানা দুইদিন ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। প্রথম দিন সকাল ১০টা থেকে দুপুরে এক ঘণ্টার বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১,৭৭১ আইনজীবী ভোট দিয়েছেন।আর দ্বিতীয় দিনের
২,২৭৭ জন আইনজীবী ভোট দিয়েছেন। এই নির্বাচনে মোট ১১ হাজার ৯৭ জন আইনজীবী ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে ভোট কাস্ট হয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৪৮টি।
এই নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন সংক্রান্ত কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার এ কে এম এহসানুর রহমান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, প্রথম দিন গতকাল বুধবার (১৩ মে) ভোট দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের ১,৭৭১ জন ভোটা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে দুই দিনে সর্বমোট ৪,০ ৪৮ জন আইনজীবী ভোট দিয়েছেন। এখন ভোট গণনা শেষে নির্বাচন সংক্রান্ত সাব কমিটি ফলাফল ঘোষণা করবে।
প্রতিবছর নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এবার পৌনে দুই বছরের মাথায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়েছে তিনটি প্যানেল। সেগুলো হলো,বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল, জামায়াত সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য প্যানেল এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত লাল-সবুজ প্যানেল। তবে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় সমিতির বিশেষ সাধারণ সভার সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। আওয়ামী লীগ সমর্থক ৪২ জন আইনজীবী মনোনয়নপত্র জমা দিলেও সেগুলো বাতিল করা হয়।
বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী প্যানেল তথা নীল প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সহ-সভাপতি মো. মাগফুর রহমান শেখ ও মো. শাহজাহান, সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আলী, কোষাধ্যক্ষ পদে মো. জিয়াউর রহমান, সহ-সম্পাদক পদে মাকসুদ উল্ল্যাহ ও মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম মুকুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাতটি সদস্য পদে এ কে এম আমজাদ হোসেন, এইচএম সানজিদ সিদ্দিকী, মো. কবির হোসেন, মো. টিপু সুলতান, মো. জিয়া উদ্দিন মিয়া, রিপন কুমার বড়ুয়া ও ওয়াহিদা আফরোজ চৌধুরী প্রার্থী হয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য প্যানেল তথা সবুজ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে আবদুল বাতেন, সহ-সভাপতি পদে মো. আবদুল হক ও মইন উদ্দিন ফারুকী, সম্পাদক পদে এ কে এম রেজাউল করিম খন্দকার, কোষাধ্যক্ষ পদে এসএম জাহাঙ্গীর আলম, সহ-সম্পাদক পদে মো. তারিকুল ইসলাম ও জোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সদস্য পদে আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী, ফারজানা খানম, ইসরাত জাহান অনি, মাহমুদুল হাসান, মো. ফয়জুল্লাহ, মো. জোবায়ের তায়েব ও মোহাম্মদ নাঈম উদ্দিন লিখন প্রার্থী হয়েছেন।
এনসিপি সমর্থিত লাল-সবুজ প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী এসএম আজমল হোসেন, সহ-সম্পাদক পদে মোস্তফা আসগর শরীফ, সদস্য পদে আমিনা আক্তার লাভলী, কাজী আকবর আলী, মো. বন-ই-আমিন ও মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম। এনসিপি সমর্থিতরা আংশিক প্যানেল দিয়েছে।
প্যানেলের বাইরে সভাপতি পদে ইউনুছ আলী আকন্দ, সম্পাদক পদে ফরহাদ উদ্দিন ভূঁইয়া, মো. আবু ইয়াহিয়া দুলাল, মো. ওমর ফারুক, মোহাম্মদ আশরাফ উজ-জামান খান, সদস্য পদে মো. জোবায়ের তায়েব ও তপন কুমার দাস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আ. দৈ./কাশেম




















