প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও রেজিস্ট্রার জেনারেলের সহযোগিতা
ডিএনসিসিতে ঠিকানা বিহীন ৫৬ দুঃস্থ ও মানসিক রোগীর জন্ম নিবন্ধন হচ্ছে
আবুল কাশেম

অবশেষে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেঃ জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীর আন্তরিকতা ও অক্লান্ত পরিশ্রম এবং ডিএনসিসি'র আঞ্চল-৮ এর সংশ্লিষ্ট কর্মকতাদের সহায়তায় উত্তরখানে সমাজের অবহেলিত, পিতা-মাতা ও ঠিকানাবিহীন ৫৬ জন দুঃস্থ ও মানসিকভাবে অসুস্থ রোগীর জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন হতে যাচ্ছে।
ইতোমধ্যে ৩২ জনের জন্ম নিবন্ধন সনদের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকী ১৪ জনের আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা যায়। এই ৫৬ জনের জন্ম নিবন্ধন সনদের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমে সরকারের রেজিস্ট্রার জেনারেলের নির্দেশনায় এবং ওই কার্যালয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা যথেষ্ট সহযোগিতা রয়েছে।
আজ সোমবার (১১ মে) নগরভবনে প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিলটনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানের এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেঃ জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীর উপস্থিতিতে ওই ৫৬ জনের জন্ম নিবন্ধন সনদের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এদিকে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ‘আজকের দৈনিক’ পত্রিকাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরো বলেন, রাজধানীর উত্তরখান মিশনারিস অফ চ্যারিটিতে বর্তমানে ৫৬ জন দুঃস্থ রোগী রয়েছেন। তারা প্রত্যেকেই মানসিকভাবে অসুস্থ। তাদেরকে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এনে রেখে থাকা,খাওয়াসহ চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে সরকারি হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা করাতে হলে, জম্ম সনদ অথবা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রয়োজন।
কিন্তু এখানে আশ্রয় নেওয়া ৫৬ জন দুঃস্থ রোগীর কারোই পিতা-মাতা এবং স্থায়ী ঠিকানার খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাদেরকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার স্বার্থে উত্তরখানস্থ মিশনারিস অব চ্যারিটি কর্তৃপক্ষ প্রায় ০১ বছর যাবৎ মানবতার সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তারা এই ৫৬ জনের জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রাপ্তির জন্য উত্তরখান ডিএনসিসির অঞ্চল-০৮ এ অফিসে যোগাযোগ করেন। পরে বিষয়টি প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করা হয়।

তিনি বলেন, মানবকি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয় এবং ডিএনসিসি তত্ত্বাবধানে আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই ও রেজিস্ট্রেশনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সবার সহযোগিতায় আজ সোমবার (১১ মে) স্থায়ী ঠিকানা ও পিতা-মাতা বিহীন ৫৬ জনের ভাগ্য পরিবর্তন হচ্ছে। অবশেষে ৫৬ দুঃস্থ রোগীর জন্ম নিবন্ধন সনদ সম্পন্ন হচ্ছে। এবার তাদের উন্নত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় আইনি সেবা নিশ্চিত করতে পারবেন চ্যারিটি কর্তৃপক্ষ।
মানবিক বিবেচনায় এ ধরনের সেবা কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে, যাতে দুঃস্থ ও অসহায় রোগীরা স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা থেকে বঞ্চিত না হন।
উল্লেখ্য, মাদার তেরেসার উদ্যোগে ১৯৫০ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মানবসেবামূলক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মিশনারিস অব চ্যারিটি বিশ্বজুড়ে দরিদ্রতম, অনাথ, কুষ্ঠরোগী এবং মৃত্যুপথযাত্রীদের নিঃস্বার্থ সেবা প্রদান করে আসছে।
এই সংস্থার উদ্যোগে বিশ্বজুড়ে দরিদ্রতমদের মধ্যে দরিদ্রতম মানুষদের যেমন অনাথ, কুষ্ঠরোগী এবং মৃত্যু পথযাত্রীদের সেবা ও নিঃস্বার্থ ভালবাসার মাধ্যমে সাহায্য করে। এই চ্যারিটির ৩ টি শাখা ঢাকায় অবস্থিত যার মধ্যে ১ টি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এর ৪৬ নং ওয়ার্ডের মাউসাইদ, উজামপুর এলাকায় অবস্থিত। এছাড়া ঢাকার মধ্যে তেঁজগা ও ইসলামপুরেও তাদের আরও ২টি শাখা রয়েছে।
আ. দৈ./কাশেম




















