দেশে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছেই, ৯০ শতাংশের পেছনে চালকের দায়
শাহীন রহমান॥

গত রোববার কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ জনের প্রাণ হারায়। সোমবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিন জন নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন। অপরদিকে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে চলন্ত অপর একটি ট্রাকের ধাক্কায় হেলপার (চালকের সহকারী) মো. রবিউল হোসেন (৫০) নিহত হয়েছেন। এটা কেবল দুদিনের পরিসংখ্যান। দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিনই ঝড়ছে প্রাণ। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিদিন দুর্ঘটনায় গড়ে ২০ থেকে ৩০ জনের মৃত্যু হচ্ছে। যার সব হিসাব সংবাদপত্রে আসছে না। আর এসব দুর্ঘটনার বেশিরভাগের জন্য দায়ী চালক। সম্প্রতি বিভিন্ন গবেষণা এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন দেশে সড়ক দুর্ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, যা জননিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন মহাসড়ক, আঞ্চলিক সড়ক এবং শহরের ব্যস্ত সড়কে ঘটছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, এই দুর্ঘটনার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে চালকের বেপরোয়া আচরণ, অদক্ষতা এবং দায়িত্বহীনতা। গবেষণা অনুযায়ী, প্রায় ৯০ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনার জন্য সরাসরি বা পরোক্ষভাবে দায়ী চালকের ভুল সিদ্ধান্ত ও আচরণ। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালরে এ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ও যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায় দেশে গত এক বছরে মৃত্যুর সংখ্যা আবারও উদ্বেগজনক মাত্রা ছুঁয়েছে। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, গণমাধ্যম ও পুলিশ সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময়ে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও কয়েক হাজার মানুষ, যাদের অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ থেকে ২২ জন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন। অর্থাৎ, দেশে সড়ক এখন এক নীরব মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে মহাসড়কগুলোতে দুর্ঘটনার হার সবচেয়ে বেশি, যেখানে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে প্রাণহানি তুলনামূলক বেশি ঘটে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন অমান্যের কারণে। মোট মৃত্যুর বড় একটি অংশ ঘটেছে বাস ও ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে। এছাড়া মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাও আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে, যেখানে নিহতদের একটি বড় অংশ তরুণ।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে গত মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৬১৯ জনের। এক হাজার ৫৪৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে । সংগঠনটি জানায়, সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সর্বমোট ৬৭০টি দুর্ঘটনায় ৬৮২ জন নিহত এবং এক হাজার ৭৯৬ জন আহত হয়েছেন। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি হতাহত হয়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। এতে ২৩৭ জন নিহত ও ১৯৭ জন আহত হয়েছেন, যা মোট দুর্ঘটনায় মোট নিহতের ৩৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। গত মার্চ মাসে ৬১৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন দুর্ঘটনার জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দায়ী চালক। তাদের বেপেরোয়া ড্রাইভিংয়ের কারণেই বাড়ছে দুর্ঘটনা।
এছাড়া উঠতি বয়সের তরুণদের বেপোরোয়া মটরসাইকেল চালানোর কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনা। মার্চে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির তথ্য তুলে ধরে যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানায়, এ মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে ঢাকা বিভাগে, ১৬০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭০ জন নিহত ও ৩২০ জন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে বরিশাল বিভাগে, ৩০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ১২২ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ মাসে সংঘঠিত মোট দুর্ঘটনার ৪০ দশমিক ৯০ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২২ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়াও সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, শূন্য দশমিক ৪৮ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও শূন্য দশমিক ৯৭ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংঘঠিত হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো দেশের সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ। অধিকাংশ চালকই নির্ধারিত গতিসীমা মানতে আগ্রহী নন। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক চালকদের মধ্যে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রবণতা বেশি দেখা যায়। ফলে তারা ঝুঁকি নিয়ে ওভারটেকিং, হঠাৎ লেন পরিবর্তন এবং প্রতিযোগিতামূলক গতিতে গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এর পাশাপাশি ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতাও একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সিগন্যাল অমান্য করা, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, নির্দিষ্ট স্থানে না থেমে যাত্রী ওঠানামা করানো এসব আচরণ প্রায় প্রতিদিনই চোখে পড়ে। গবেষকরা বলছেন, আইন থাকলেও তার কার্যকর প্রয়োগের অভাবই মূলত চালকদের এই বেপরোয়া আচরণে উৎসাহ জোগাচ্ছে।
এছাড়াও চালকদের দীর্ঘসময় ধরে কাজ করানো এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবও দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ। অনেক চালকই টানা ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত গাড়ি চালাতে বাধ্য হন, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ক্লান্তি, ঘুমঘুম ভাব এবং মনোযোগের ঘাটতির কারণে তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হন, যার ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর মতোই বিপজ্জনক। অদক্ষ ও প্রশিক্ষণহীন চালকও সড়ক দুর্ঘটনার একটি বড় উৎস। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়াই চালকরা লাইসেন্স পেয়ে যাচ্ছেন অথবা ভুয়া লাইসেন্স ব্যবহার করছেন। ফলে তারা জরুরি পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। বিশেষ করে ভারী যানবাহন চালানোর ক্ষেত্রে দক্ষতার অভাব মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
যানবাহনের ত্রুটিও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। অনেক যানবাহন নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা ছাড়াই রাস্তায় চলাচল করছে। ব্রেক কাজ না করা, টায়ারের অবস্থা খারাপ থাকা, লাইট বা সিগন্যাল সিস্টেমের ত্রুটি এসব সমস্যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, অনেক চালকই এসব ত্রুটি জেনেও যানবাহন চালিয়ে থাকেন, যা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে। সড়কের অবকাঠামোগত দুর্বলতাও দুর্ঘটনা বৃদ্ধির একটি বড় কারণ। দেশের অনেক সড়কই সরু, ভাঙাচোরা এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মহাসড়কে আলাদা লেন না থাকা, সঠিক সাইনেজের অভাব এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকা দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে রাতের বেলায় বা কুয়াশার সময় এই সমস্যা আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, অতিরিক্ত যাত্রী ও পণ্য বহনের প্রবণতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বাস ও ট্রাকে অতিরিক্ত বোঝা বহন করলে গাড়ির ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং ব্রেকিং সিস্টেমের উপর চাপ পড়ে। ফলে সামান্য ভুলেও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। পথচারী এবং মোটরসাইকেল আরোহীরাও সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। অনেক পথচারী নির্ধারিত জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার না করে হঠাৎ রাস্তা পার হন, যা দুর্ঘটনার কারণ হয়। অন্যদিকে মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে হেলমেট ব্যবহার না করা, দ্রুতগতিতে চালানো এবং ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
পুলিশ ও স্বাস্থ্যখাতের গবেষণাগুলোতেও একই চিত্র উঠে এসেছে। বেপরোয়া ড্রাইভিং, ক্লান্তি এবং নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার না করার প্রবণতা দুর্ঘটনার হার বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়তই বাড়ছে প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা। এটি শুধু মানবিক ক্ষতিই নয়, বরং দেশের অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রথমত, চালকদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। তৃতীয়ত, সড়কের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া গণসচেতনতা বৃদ্ধিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চালক, যাত্রী এবং পথচারী—সবার মধ্যেই সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
গণমাধ্যম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলো এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সার্বিকভাবে বলা যায়, সড়ক দুর্ঘটনা কোনো একক কারণে ঘটে না; বরং এটি একাধিক সমস্যার সম্মিলিত ফল। তবে গবেষণাগুলো স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, চালকের আচরণই এর মূল কেন্দ্রবিন্দু। তাই এই খাতে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া গেলে দুর্ঘটনার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই গবেষণার ফলাফলকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে নিহতদের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশই পথচারী। সঠিক ফুটপাতের অভাব, জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার না করা এবং অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচল এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অন্যদিকে মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে হেলমেট ব্যবহার না করার প্রবণতাও মৃত্যুহার বাড়িয়ে দিচ্ছে। ঋতুভেদেও দুর্ঘটনার প্রবণতায় পার্থক্য দেখা গেছে। বর্ষা মৌসুমে ভেজা ও পিচ্ছিল সড়কের কারণে দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পায়, আর শীতকালে ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে গিয়ে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রাতের বেলায় দুর্ঘটনার হার তুলনামূলক বেশি, কারণ তখন যানবাহনের গতি বেড়ে যায় এবং সড়কে নজরদারি কম থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর এই উচ্চ হার দেশের জন্য শুধু মানবিক বিপর্যয় নয়, বরং একটি বড় অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ। কর্মক্ষম মানুষের মৃত্যু বা পঙ্গুত্ব পরিবার ও সমাজের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। এতে দারিদ্র্য বাড়ে এবং স্বাস্থ্যখাতে চাপ বৃদ্ধি পায়। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বলছে, আইন প্রয়োগ জোরদার করা হলেও এখনো অনেক ক্ষেত্রে তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।
বিশেষ করে মহাসড়কে নজরদারি সীমিত হওয়ায় চালকদের মধ্যে বেপরোয়া আচরণ রয়ে যাচ্ছে। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয় চালকদের প্রশিক্ষণ, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা এবং সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন একসঙ্গে করতে হবে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোও অত্যন্ত জরুরি। তারা আরও উল্লেখ করেন, উন্নত দেশগুলোর মতো সড়ক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। যেমন স্পিড ক্যামেরা, স্বয়ংক্রিয় জরিমানা ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল ট্রাফিক মনিটরিং চালু করা গেলে দুর্ঘটনার হার কমানো সম্ভব।
সবশেষে বলা যায়, গত এক বছরের সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিচ্ছে। যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়বে। তাই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সাধারণ জনগণ সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
আ. দৈ./কাশেম/ এস রহমান




















