রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪টি অঞ্চলে ড্রেন ও স্যুায়ারেজ লাইনগুলো পরিস্কারের কাজ নিয়ে ভাগাভাগি চলছে
ডিএনসিসিতে পছন্দের লোককে কাজ দিতে আরাফাত সিন্ডিকেটের রিটেন্ডার
আবুল কাশেম:
প্রকাশ: রোববার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২৪ পিএম  আপডেট: ২৬.০৪.২০২৬ ১১:৩৮ পিএম  (ভিজিট : ২৩২)
X

প্রতিবছর রাজধানীর পুরো মিরপুর ১০ নম্বর,শেনপাড়া পর্বতা,কাজীপাড়া, রুপনগর, মিরপুর কালশী, মিরপুর- ১ নম্বর,পাইকপাড়া,পীরেরবাগ,কল্যানপুর,মোহাম্মদপুর,মহাখালী,তেজগাঁও,বাডার্ডা,নাখালপাড়াসহ প্রভৃতি এলাকায় ভারী বর্ষণে ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় নগরবাসীর অসহনীয় কষ্ট অনেক বেড়ে যায়। বৃষ্টির পর ময়লা পানিতে নগরীর নিম্ম অঞ্চল তলিয়ে যায়। আর জলাবদ্ধাতার প্রধান কারণ হচ্ছে নগরীর বড় বড় ড্রেন ও স্যুায়ারেজ লাইনগুলো ঠিকমতো নিয়মিত পরিস্কার করা হয় না। যারফলে জলাবদ্ধতা ক্রমেই বাড়ছে।

 এদিকে জীবনের নিরাপত্ত্বার স্বার্থে ডিএনসিসি এবং স্থানীয় লোকজন নাম না প্রকাশের শর্তে ‘আজকের দৈনিক’ পত্রিকাকে বলেন,ডিএনসিসিতে শুধুমাত্র বড় বড় ড্রেন ও স্যুায়ারেজ লাইন পরিস্কারের নামে  প্রায় কোটি টাকার বানিজ্য ভাগাভাগির স্বার্থে পছন্দের লোকজনকে কাজগুলো দেওয়ার জন্য দ্বিতীয় দফায় (রিটেন্ডার) আহবান করেছেন সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আরাফাত হোসনের সিন্ডিকেট। প্রশাসকের দপ্তরের এই সিন্ডিকেট এতােটাই শক্তিশালী তাদের বাইরে কারো করা কিছুই থাকে না। ইতোমধ্যে বড় বড় ড্রেন ও স্যুায়ারেজ লাইন পরিস্কারের জন্য ৪টি প্যাকেজে টেন্ডার আইডি নং-১২৬১৭৪৯ অঞ্চল- ২, টেন্ডার আইডি নং- ১২৬১৭৬৬ অঞ্চল-৩, টেন্ডার আইডি নং-১২৬১৭৬৮-অঞ্চল ৪ এবং টেন্ডার আইডি নং-১২৬১৭৮১ অঞ্চল-৫। আগামী ১৮ মে এই টেন্ডার ওপেন করা হবে। বর্তমানে চলছে দরকষাকষিএবং কাদেরকে কাজগুলো দেওয়া হবে।

আরো অভিযোগ রয়েছে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে চিহ্নিত দুর্নীতি বাজ সহকারী প্রধান বর্জ্যব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ডিএনসিসিতে ক্রয় ও ভান্ডার কর্মকর্তার দায়িত্বে থেকে ওই দপ্তরেও লাগানহীন কেনা কাটা করছেন। এছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে কেন্দ্রীয় দপ্তরের গুরুত্ব পূর্ণ দায়িত্বে থাকার সুবাধে প্রশাসকের দপ্তরের সিন্ডিকেট পুনরগঠনের সুযোগটা পাচ্ছেন তিনি।চাকরীর শুরু থেকেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে  লোকজনকে পদায়ন, বিভিন্ন ওয়ার্ডে পোষ্টিং, অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার নামে মোটা অংকের বানিজ্য করে আসছেন। তার সাথে সক্ষতা বজায় না রাখলে জুনিয়র কর্মকর্তাদের হয়রানী বাড়ছে থাকে। তারলাগাম টানার যেন কেউ নেই। ডিএনসিসি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং ক্রয় ও ভান্ডার দপ্তরেন দুর্নীতির নিয়ন্ত্রণেঅআনতে হলে এসব অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের পোশাপাশি ঢাকার বাইরে বদলির প্রয়োজন।
 
আরো জানা যায়, সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আরাফাত হোসন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতিতে  সংশ্লিষ্টতা সত্বে বাড়ি বগুড়ায় হবার কারণে গোপনে গোপেন বিএনপি হবার চেষ্টায় আছেন। তিনি ২০২১-২০২১অর্থ বছরে পরিবহন বিভাগে ম্যানাজারের দায়িত্বে থাকাকালে সেখানেও লোপাট করেছেন। ওই অভিযোগটি চাপা পড়ে রয়েছে।এসব বিষয় তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে অপারগকতা প্রকাশ করেন। তবে তদন্ত হলে তার বিরুদ্ধে আরো অনেক চাঞ্চল্য তর্থ বেরিয়ে আসবে। অনেক কিছু এখনো চাপা পড়ে রয়েছে।  ইতোমধ্যে ঢাকার দুই সিটিতেই অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বাইরের সিটি করপোরেশনে বদলির নজির 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়,প্রতিবছর নগরীতে রাস্তা ও গলিপথ দফায় দফায় সংস্কার এবং মেরামতের ফলে বাসা বাড়ি- মার্কেট ও দোকান পাটের চেয়ে অনেক উচু হয়ে গেছে রাস্তা ও গরিপথ। আর নিয়মিত ডিএনসিসির ছোট ও বড় বড় ড্রেন (স্যুয়ারেজ লাইন) ময়লা আর্বজনায় ভরাট হয়ে গেছে। যারফলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিতে রাস্তা ও গলি পথের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। কারণ নগরীর অধিকাংশ নিম্ম অঞ্চলের বাসা বাড়ি-মার্কেট দোকান-পাট ময়লা পানির ছুঁকিতে পড়েছে। এছাড়াও নগরীতে রাস্তা. গলিপথ ,ফাটপাত, ড্রেন সংস্কার ও নির্মাণ কাজ চলছে ধীরগতিতে।

 নাম না প্রকাশের শর্তে  ডিএনসিসি একাধিক কর্মচারী ‘আজকের দৈনিক’ পত্রিকাকে বলেন, নগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসনের নামে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম এবং সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের দপ্তরের শক্তিশালী সিন্ডিকেট বড় বড় ড্রেনগুলো পরিস্কারের জন্য বেসরকারি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দিতেন। আর ওইসব সিন্ডিকেটের গডফাদার হলেন, সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আরাফাত হোসন। আওয়ামী সরকারের মেয়র পরিবর্তন হবার পর অন্তর্বকালীন সরকারের আমলে প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের সিন্ডিকেটকে পুনরগঠন করে বিপুল পরিমান ডিএনসিসির অর্থ খরচ করিয়েছেন।

এবার বিএনপি সরকারের আমলে বর্তমান প্রশাসক মো.শফিকুল ইসলাম মিলটনের দপ্তরে নতুনভাবে গঠিত সিন্ডিকেটেও বেশ প্রভাবশালী এবং জনপ্রিয় সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো.আরাফাত হোসন। ডিএনসিসির নিজস্ব জনবল দিয়ে নিয়মিত ৫৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৮ টি ওয়ার্ডের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজ হয়। প্রতিদিন ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের সরাসরি তদারকিতে ২৮টি ওয়ার্ডে ময়লা আর্বজনা সুন্দরভাবে অপসারণ এবং পরিস্কার করা হয়। কোন ত্রুটি বিচ্যুতি ধরাপড়লে সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জবাব দিহিতার আওতায় আনায়। তুলনামূলকভাবে কাজের মানও ভালো। পরিচ্ছন্নতা কাজে তুলনামূলকভাবে অর্থ খরচও অনেক কম হয়। 

 উল্লেখ্য,ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৭৫টি ওয়ার্ডে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা নিজস্ব ব্যবস্থা পনায় রাস্তা,গলিপথ পরিস্কার করেন। ডিএনসিসিতে লোপাটের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এখনো ২৬টি ওয়ার্ডের ময়লা আর্বজনা পরিস্কারের কাজটি (বর্জ্য ব্যবস্থাপনার) বেসরকারি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করা হচ্ছে। ওইসব ২৬টি ওয়ার্ডে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালনায় করতে গিয়ে জনবল বেশি দেখানো হয় এবং অর্থ খরচও অনেক বেশি হচ্ছে। অথচ তাদের কাজের মান এবং ত্রুটি বিচ্যুতি ধরা পড়লে জবাব দিহিতায় আনা অনেক কঠিন এবং সময় লাগে।

আরো জানা যায়, গত ৫/৬ বছর যাবৎ প্রতি ওয়ার্ডে বেসরকারি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘রাকিব এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘রিমি এন্টারপ্রাইজ’ ১৮/২০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়ে কাজ করতো। কিন্তু  গত ২৪ মার্চ ‘রাকিব এন্টারপ্রাইজ’ এবং ৭ এপ্রিল ‘রিমি এন্টারপ্রাইজের’ পরিচ্ছন্নতাকর্মী দেয়া বন্ধ রয়েছে । ফেলে ওই ওয়ার্ডগুলোতে প্রয়োজনীয় নিজস্ব পরিচ্ছন্নতা না থাকায় কাজের মান অনেক খারাপ হচ্ছে। দ্রুত পরিচ্ছন্নতাকর্মী দেয়া না হয় তাহলে আসন্ন কোরবানীতে পরিচ্ছন্ন কাজের মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হবে।

আ. দৈ./কাশেম








Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
বিশেষ সংবাদ- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝