নেপথ্যে মোটা অংকের মাসোহারা
অবৈধ বারের বৈধতা দিচ্ছেন ডিএনসির জিল্লুর
ইসমাঈল হুসাইন ইমু

মাদকের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে থাকলেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কতিপয় কর্মকর্তা সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর উত্তরার একাধিক অবৈধ বারের বৈধতা দিয়ে মোটা অংকের মাসোহারা নিয়ে বারগুলো কে অসাধু উকিল ধরাইয়া দিচ্ছে ডিএনসির কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু আইনজীবীর সহায়তায় আদালত থেকে বিভ্রান্তিকর বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে আদেশ সংগ্রহ করা হয়, যা পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মাধ্যমে বৈধতার রূপ পায়।
অবৈধ ওইসব বারে রাতভর মদ বিক্রি ও অশ্লীল নৃত্য এখন হরহামেশায় পরিনত হয়েছে। আর এসবই চলছে জিল্লুরের ব্যক্তিগত সুবিধার কারণে। তবে মাঝেমধ্যে পুলিশের অভিযানে ধরা পড়ছে অবৈধ মাদকসহ বিক্রেতা ও পারমিট ছাড়া মদ পানকারিরা।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরা ‘কম্বে রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার’ নামে একটি মদের বারে অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় ৫৭ নারীসহ ১৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতভর উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের ময়লার মোড়সংলগ্ন ওই মদের বারে অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে দেখা যায়, সোনারগাঁও জনপথ রোডে একটি ভবনের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম তলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রেস্টুরেন্টের অন্তরালে মদের বারের কার্যক্রম চলছিল।
অভিযানকালে বারটিতে কিশোর গ্যাং লিডার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ব্যবসায়ীসহ নানা পেশার লোকজনকে দেখা যায়। এসময় কাউকে কাউকে পুলিশের সঙ্গে মদ্যপ অবস্থায় বাকবিতণ্ডায়ও জড়াতে দেখা যায়। এসময় বহু যুবক ও যুবতীকে বারের টয়লেট, বারান্দা, সোফা এবং রান্নাঘরে আত্মগোপনে থাকতে দেখা যায়। পরে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
অভিযানের নেতৃত্ব দেন ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক আহমেদ বেগ। উত্তরা পশ্চিম থানা-পুলিশও এই অভিযানে অংশ নেয়। এ ছাড়া সহযোগিতার জন্য ছিলেন গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সাদাপোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, উত্তরায় ওই বার পরিচালনার কোনো অনুমতি ছিল না। এ ছাড়া সেখানে পর্যটন করপোরেশনের অনুমতি ছাড়া অবৈধ উপায়ে আসা মদ কেনাবেচা হতো। অভিযান প্রসঙ্গে উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক আহমেদ বেগ বলেন, কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিরুদ্ধে আমরা অভিযান শুরু করেছি।
কম্বে রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে অভিযান চালিয়ে আমরা ১৪০ জনকে গ্রেপ্তার করেছি, যাদের মদ খাওয়ার কোনো লাইসেন্স নেই। থাকলেও এই বারের লাইসেন্স ছিল না। তাছাড়া এ ধরনের আরো কোন বারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে অভিযান চালনো হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে উত্তরার শুধু কম্বে বেস্টুরেন্টই না সিটি, কিচেন নামের আরো তিনটি বারের একই অবস্থা। সেখানে রাতভর চলে মদপান ও অশ্লীল নৃত্য। রাতভর বার পরিচালনার (লট নাইট পারমিশন) কোন বৈধতা না থাকলেও ডিএনসির কর্মকর্তা জিল্লুরের জোরেই চলছে এসব বার।
তবে ডিএনসির অন্য কর্মকর্তারা বলছেন, কোনভাবেই রাত ১১ টার পর বার পরিচালনার অনুমতি নেই। রাতভরতো প্রশ্নই ওঠেনা। তাছাড়া প্রতিটি বারের আসন বিন্যাস অনুযায়ি পারমিট সরবরাহ করা হয়। কোন বারে আসনের বিপরীতে অতিরিক্ত পারমিট দেয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু উত্তরার বারগুলোতে চলছে হ য ব র ল অবস্থা।
এ বিষয়ে ডিএনসির উত্তরা জোনের ইন্সপেক্টর দেওয়ান মো. জিল্লুর রহমানের বক্তব্য জানতে একধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে ঢাকা উত্তরের উপ পরচিালক রাজিউর রহমান বলেছেন, এ বিষয়ে তিনি খোঁজ খবর নিচ্ছেন। নতুন যোগদান করায় সব বারের বিষয়ে তার কাছে তথ্য নেই। তবে জিল্লুরের বিষয়টি তিনি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান।
আ.দৈ/আরএস





















