বিপুল পরিমান রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা
বৈধ বারে অভিযান: পর্যটন শিল্পের বিকাশে অশনী সংকেত
বিশেষ প্রতিনিধি

রাজধানীর বৈধ বারে অভিযানের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ হোটেল রেষ্টুরেন্ট এন্ড বার ওনার্স এসোসিয়েশন। শনিবার (২৪ এপ্রিল) এক বিঙ্গপ্তিতে জানায়, ইদানিং অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযানের নামে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স প্রাপ্ত বৈধ অ্যালকোহল বারগুলোতে অনভিপ্রেত অভিযান চালিয়ে ব্যক্তিগত অ্যালকোহল লাইসেন্সধারীদের (নারী/পুরুষ) উদ্দেশ্যপ্রনোদিত ভাবে অনৈতিক ব্যাবসার তকমা লাগানো হচ্ছে।
শুধু তাই নয় এসব অভিযানের সংবাদ লাইভ টিভি/সোশাল মিডিয়ায় প্রচার করে একটি কট্টর গোষ্ঠিকে সন্তুষ্ট করার অপপ্রয়াস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যা পর্যটন শিল্পের বিকাশরোধে এক অশনী সংকেত। এতে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমান রাজস্ব।
জানা গেছে, অ্যালকোহল নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা-২০২২ জারীর মাধ্যমে ও উচ্চ শুল্ক পরিশোধকারী আমদানীযোগ্য। এ সকল বৈধ ব্যাবসাকে অবৈধ মাদক অবিহিত করা বেআইনী, উদ্দেশ্যপ্রনোদিত এবং দেশের অগ্রযাত্রার প্রতিবন্ধকতাকারীযোগ্য অপপ্রয়াস বলে ধরনা সংশ্লিষ্টদের। সম্প্রতি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বৈধ বারে অভিযানের নামে প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবৈধ বার আখ্যা দেয়া হচ্ছে। যা খুবই নিন্দনীয়। তবে আইন শৃঙ্কলা বাহিনী সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালালে প্রশসংসার যোগ্য।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরা ‘কম্বে রেন্টুরেন্ট অ্যান্ড বার’ নামে একটি মদের বারে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানকালে ৫৭ নারীসহ ১৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে রহস্যজনক কারণে সেখান থেকে কোনো মদ-বিয়ার জব্দ করা হয়নি। রাতভর উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের ময়লার মোড়সংলগ্ন ওই মদের বারে অভিযান চালানো হয়।
অভিযান প্রসঙ্গে উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক আহমেদ বেগ বলেন, কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিরুদ্ধে আমরা অভিযান শুরু করেছি। কম্বে রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে অভিযান চালিয়ে আমরা ১৪০ জনকে গ্রেপ্তার করেছি, যাদের মদ খাওয়ার কোনো লাইসেন্স নেই। থাকলেও এই বারের লাইসেন্স ছিল না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তদারকির বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি পুলিশের এই কর্মকর্তা।
এর আগে গত ৬ এপ্রিল রাতে মিরপুর-১-এর বাগদাদ মার্কেটের একটি বারে এবং সংলগ্ন আবাসিক হোটেলে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে আটক ব্যক্তিদের প্রথমে মিরপুর মডেল থানা-তে নেওয়া হয়। পরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের শাহ আলী থানা-তে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ ছিল। এর ভিত্তিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর মিরপুর জোনের একাধিক থানা যৌথভাবে এই অভিযান চালায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এসব অভিযানে পর্যটন শিল্পে বড় ধরনের আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা এ ধরনের অভিযানের কারণে যারা বৈধ লাইসেন্স করে অ্যালকোহল সেবন করেন তাদের ভেতরে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশীদের কাছেও দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি এ কারণে বিপুল পরিমান রাজস্ব হারাবে সরকার।
অ্যালকোহল সেবনকারিরা (পারমিটধারি) বিমুখ হয়ে অবৈধ বারের দিকে ছুঁটবে। তাতে ভয়ংকর মাদকের ছড়াছড়িসহ অবৈধ মাদকের দিকে ঝুঁকতে পারে অনেকেই। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে অভিযান চালানোর আগে ভালভাবে যাচাই বাছাইয়ে উপর জোর দিয়েছেন বার সংশ্লিষ্টরা।
আ.দৈ/আরএস





















