বিদ্যুৎ প্রকৌশলী! স্থপতি,প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ ও এখনো আমিনবাজার ল্যান্ডফিল্ডের পিডি
ডিএনসিসিতে প্রকৌশলী শফিক ও আরফাতের বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগ
আবুল কাশেম

আবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বহুল আলোচিত ও নানা ঘটনায় বির্তকিত নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম শফিকুর রহমানকে অতিরিক্ত দায়িত্ব তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর./যান্ত্রিক) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে সরানো হয়েছে। এরআগেও ডিএনসিসির প্রশাসক মাহমুদুল হাসানের নির্দেশনায় ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সচিবের স্বাক্ষরে জারি করা এক আদেশে নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম শফিকুর রহমানকে অতিরিক্ত দায়িত্ব তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর./যান্ত্রিক) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে সরানো হয়েছিল।
কিন্ত তাকে ডিএনসিসির আমিনবাজার ল্যান্ডফিল্ড সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ (বিশেষ সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পের পরিচালকের দায়িত্ব থেকে সরানো হয়নি। এবার ডিএনসিসির বর্তমান প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিলটনের সচিব মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানের স্বাক্ষরে গত ২১ এপ্রিল (মঙ্গলবার) জারি করা বদলির আদেশে প্রকৌশলী এসএম শফিকুর রহমানকে অতিরিক্ত দায়িত্ব তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর./যান্ত্রিক) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে সরানো হয়েছে। তবে তাকে রহস্যজনক কারণে আমিনবাজার ল্যান্ডফিল্ড সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ প্রকল্পের পরিচালকের পদে ঠিকই বহাল রাখা হয়েছে।
ডিএনসিসির জারি করা্একই বদলির আদেশে নির্বাহী প্রকৌশলী তাবাসসুম আব্দুল্লাহ (ডিসপোজাল) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভেগের এবং ‘উপ-প্রকল্প’পরিচালক আমিনবাজার ল্যান্ডফিল্ড সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ (বিশেষ সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পের নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত আরো দায়িত্ব তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের (পুর./যান্ত্রিক) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম দেখতে বলা হয়েছে। অথচ তার চেয়ে অনেক সিনিয়র এবং দক্ষ প্রকৌশলী ডিএনসিসিতে কর্মরত আছেন বলে জানা যায়।
এদিকে নাম না প্রকাশের শর্তে ডিএনসিসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, এসএম শফিকুর রহমান একজন বিদ্যুৎ বিষয়ক প্রকৌশলী। অথচ তাকে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকার পরও রহস্যজনক কারণে ডিএনসিসিতে স্থপতি, নগর পরিকল্পনা বিভাগে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এবং আমিনবাজার ল্যান্ডফিল্ড প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) পদে রাখা হয়েছে। ২০০৯ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী দক্ষিণাঞ্চলীয় এক মন্ত্রীর সহযোগিতায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলী এসএম শফিকুর রহমান দ্রুত ঢাকা সিটি করপোরেশনে বদলি হয়ে আসেন। পরে ওই মন্ত্রীর সার্বিক সহযোগিতায় তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বেশ প্রভাবশালী হয়ে উঠেন।
শুধু তাই নয়, ধাপে ধাপে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর ও ডিএনসিসিতে চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ এবং কোটি কোটি টাকা লোপাটকারী সাবেক মেয়র মো.আতিকুল ইসলামের দপ্তরের শক্তিশালী সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবে ক্ষমতাবান হয়ে উঠেন প্রকৌশলী এসএম শফিকুর রহমান। মেয়র আতিকের পতনের পর তাকে বদলি করা হয়। কিন্তু কিছুদিন পরই সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের দপ্তরের শক্তিশালী সিন্ডিকেটের সহযোগতায় প্রকৌশলী এসএম শফিকুর রহমান আবার আমিনবাজার ল্যান্ডফিল্ডের পরিচালকের দায়িত্বের বাইরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের (পুর./যান্ত্রিক) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভেগের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্বসহ আরো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে পোষ্টিং ভাগিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্র মতে, প্রকৌশলী এসএম শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, আমিনবাজার ল্যান্ডফিল্ডের উন্নয়নের নামে ভুয়া বিল ভাউচারে কোটি কোটি টাকা লোপাট,ওই ল্যান্ডফিল্ডের জন্য নতুন জমি অধিগ্রহণের নামেও নানা অনিয়মের অভিযোগ বেশ আলোচনায় রয়েছে।
সুূত্রমতে, তার বিরুদ্ধে বিদেশ থেকে অনেক কোটি কোটি টাকা খরচ করে দামীও মূল্যবান যন্ত্রপাতি, গাড়ি ও রোড সুইপাড় ক্রয় করা হয়েছে। ওইসব গাড়ি, যন্ত্রপাতি রোড সুইপাড় রক্ষণা বেক্ষনের নামেও বড় ধরনের দুর্নীতি ও লোপাটের অভিযোগ রয়েছে। কারণ ওই যন্ত্রপাতি, গাড়ি ও রোডসুইপাড় ক্রয়ের কিছু দিন পরই আবার মেরামতের অজুহাতে মাসের পর মাস ওয়ার্কশপে ফেলে রাখা হয় এবং মেরামতের পরও ব্যবহার কারা হয় না এমন অভিযোগ উঠেছে। ডিএনসিসির রেজিষ্ট্রার এবং ওয়ার্কশপের রেকর্ডপত্র ও বিল- ভাউচার যাচাই করলেই দুর্নীতির বিষয়টি বেরিয়ে আসবে বলে জানান সাধারণ কর্মচারীরা।
এদিকে আরো প্রশ্ন উঠেছে, এস এম শফিকুর রহামন একজন বিদ্যুৎ বিষয়ক প্রকৌশলী,অথচ তাকে কার স্বার্থে এবং কেনো সিভিল ইঞ্জিনিয়ারি ও যান্ত্রিক প্রকৌশল বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে পদায়ন করে কোটি কোটি টাকা লোপাট এবং দুর্নীতির সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে আলোচিত প্রকৌশলী এস এম শফিকুর রহামনের বক্তব্য জানতে চাইলে, তিনি কোন মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
অপরদিকে মেয়র আতিক পালালানোর পর তার রেখে যাওয়া সিন্ডিকেট এবং পবর্তীতে প্রশাসক এজাজের সুসংগঠিত সিন্ডিকেটের সদস্য ও দুনীতিবাজ পদস্থ কর্মকর্তারা এখনো প্রশাসকের দপ্তরসহ ডিএনসিসিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। তারাই এসএম শফিকুর রহমানকে রক্ষায় বেশি ব্যস্ত। ডিএনসিসিতে আরেক প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজ সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোঃ আরাফাত হোসেন।
তিনি সাবেক মেয়র আতিকের সিন্ডিকেটের সহযোগি হিসেবে ডিএনসিসির ভান্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ভিগিয়ে নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ রয়েছে। তিনি ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে ডিএনসিসিতে পরিবহন বিভাগের ম্যানাজারের দায়িত্ব পালনকালে পরিবহন চালকদেরকে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল সুবিধা দিয়ে নিজেও অনেক অনৈতিক সুবিধা নিতে থাকেন। পরে এই বিষয়টি প্রকাশিত হলে, তৎকালীন মেয়র আতিকের নির্দেশ তার বিরুদ্ধে বিগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হয়।
কিন্তু মেয়র দপ্তরের অদৃশ্য ইশারায় ওই বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগের নতি চাপা পড়ে যায়। একই সাথে মোঃ আরাফাত হোসেনকে তড়িগড়ি সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা পদে পুনরায় পদায়ন করা হয়। এরপর তাকে সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তার দায়িত্বসহ আরো অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ডিএনসিসির ভান্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, লাখ লাখ টাকা লোপাট এবং দুর্নীতির অভিযোগের যেন শেষ নেই। এসব বিষয়ে মোঃ আরাফাত হোসেনের বক্তব্য জানতে চাইলে,‘তিনি সাফ জবাব দেন। এসব কেনো লিখবেন। আমার কোন বক্তব্য নেই’।
আ. দৈনিক/ কাশেম




















