নগরীতে ডেঙ্গু ও মশা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডিএনসিসিতে বিশেষ পচ্ছিন্নতা অভিযান
আবুল কাশেম:

রাজধানীতে ভয়ঙ্কর ও প্রাণঘাতি ডেঙ্গু জ্বরের জীবানু বাহি এডিস মশাসহ সবধরনের মশা যে কোন মূল্যে নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনার এবার দ্রুত মশক নিধন এবং মশার উৎপত্তিস্থ পরিস্কারের জন্য সপ্তাহের প্রথম শনিরার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। পবিত্র রমজানের ঈদের আগে গত ১৪ মার্চ সপ্তাহের প্রতি শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ডিএনসিসির পক্ষ থেকে মশা নিধন এবং বিশেষ পরিচ্ছন্নতার অভিযান শুরু হয়।
ওই অভিযানের ধারাহিকতায় আজ শনিবার ( ৪ এপ্রিল) ডিএনসিসির কয়েকটি বিশেষ এলাকায় স্বাস্থ্য বিভাগ ও পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে বেশ কিছু এলাকায় প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেঃ জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী,অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যস্থাপনা কর্মকর্তা মো.আরিফুর রহমান,সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা,উপপ্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোঃ মফিজুর রহমান ভুঁইয়া, সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এবং স্থানীয় ব্যক্তিগণ এই অভিযানে উপস্থিত থেকে সহযোগিতার পাশাপাশি উৎসাহ দিয়েছেন।

ডিএনসিসির কর্মকর্তারা জানান,গত বছর নগরীতে ডেঙ্গুসহ সবধরনের মশার উৎপাত অনেক বেড়ে ছিল এবং ডেঙ্গুতে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। যারফলে এবার প্রশাসক মো.শফিকুল ইসলাম মিলটনের নির্দেশনা প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেঃ জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী এবং প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর হুমায়ুন কবীরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ‘ ডেঙ্গু মশার ঝুঁকিপূর্ন হিসেবে ২৫ ওয়ার্ড’কে চিহ্নিত করার পাশাপশি বিশেষ বিশেষ অভিযান কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছেন।
আজ শনিবার সপ্তাহের প্রতি শনিবার ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে "শনিবারের অঙ্গীকার নিজ নিজ বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার " শীর্ষক বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত একযোগে ডিএনসিসিতে পরিচালিত হয়েছে। কয়েকটি আঞ্চলিক কার্যালয়ের নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সহযোগিতায় এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
অঞ্চল-২, মিরপুর, বোটানিক্যাল গার্ডেন,পল্লবীসহ আশপাশের এলাকা:

সপ্তাহের প্রতি শনিবার ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ‘শনিবারের অঙ্গীকার নিজ নিজ বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার’ শীর্ষক বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান। আজ সকাল সাড়ে ৮টর পর থেকে টানা দুপুর ১ টা পর্যন্ত অঞ্চল২ এর বিভিন্ন এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে জানা যা।
এই অভিযানে অংশগ্রহণ করেন প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেঃ জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যস্থাপনা কর্মকর্তা মো.আরিফুর রহমান, উপপ্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোঃ মফিজুর রহমান ভুঁইয়া,সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ বেনজীর আহমেদ, অঞ্চল- ২ এর সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সাদমান সাকিব এবং মশক কর্মী পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা।
অভিযানকালে বোটানিক্যাল গার্ডেনর ভেতরে প্রচুর মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এর ভিতরে নোংরা পরিবেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিকের চায়ের কাপ, প্লাস্টিকের ওয়ান টাইম প্লেট সহ অনেক জায়গায় ডেঙ্গু মশার লার্ভা পাওয়া যায়, যা তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হয় ,গার্ডেনের কর্মচারীদের সতর্ক করার পাশাপাশি ডিএনসিসির কর্মীদের উপস্থিতিতে তাদের দ্বারা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সম্পাদন করা হয়। বোটানিক্যাল গার্ডেন ছাড়াও বিসিআইসি কোয়াটার, বিসিআইসি কলেজ এবং আশ পাশে পুরো এলাকায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সম্পাদন করা হয়।
মিরপুর অঞ্চল-৪ :

মিরপুর অঞ্চল-৪ এর আঞ্চলিক কার্যালয় চত্বরে আজ সকাল ১০ ডিএনসিসির নবনিযুক্ত অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান পরিদর্শন করেন। ওই অঞ্চলকি অফিস ও অফিসের আঙ্গিনায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কাজ পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি মিরপুরে অন্যান্য এলাকায় এসটিএসের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
ওয়ার্ডে কর্মরত পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের হাজিরা গ্রহণ প্রত্যক্ষ করেন। পরিত্যক্ত মার্কেটের পাশে একটি নতুন এসটিএস নির্মাণের জায়গা পরিদর্শন করেন। পরিশেষে আমিনবাজার ল্যান্ডফিল্ড পরিদর্শন করেন।
আঞ্চল-৩ এর ১০টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান:
মালিবাগ চৌধুরী পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ এর সমন্বয়ে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। ৩৫ নং ওয়ার্ডের মগবাজার ফ্লাই ওভারের নীচে ও উপরে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। ওয়ার্ড -২২, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভিযান-কুঞ্জবন (জাকের রোড )এলাকাসহ আসে পাশের গলি,পূর্ব রামপুরা। ওয়ার্ড নং ১৮ নতূন বাজার ১০০ ফুট এর অংশ এবং প্রগতি সরণি।

১৯ নং ওয়ার্ডের বনানী এলাকা, ২০ নং ওয়ার্ডের টিএন্ডটি স্কুল থেকে শুরু করে বিভিন্ন ওলি গলি, ২১ নং ওয়ার্ডের রামপুরা ব্রিজ হতে আনসার ক্যাম্প পর্যন্ত, ২৩ নং ওয়ার্ডের মালিবাগ চৌধুরীপাড়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয় সামনের রাস্তায়, ২৪ নং ওয়ার্ডের জিএমজি রোড এলাকা ২৫ নং ওয়ার্ডের বিজয় সরণি থেকে মহাখালী রেলক্রসিংয়ে পর্যন্ত উভয় পাশ, ৩৫ নং ওয়ার্ডের মগবাজার ফ্লাইওভার এর নিচে ও উপরে এবং ৩৬ নং ওয়ার্ডের পূর্ব নয়া টোলা এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
অঞ্চল-৫ মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায়:
আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযানে লালমাটিয়া এলাকায় উপস্থিত ছিলেন উর্ধ্বতন কীট নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা, সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, লালমাটিয়া সোসাইটির সভাপতি,পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক,মশক সুপারভাইজার,মশক কর্মী,পরিচ্ছন্ন কর্মী, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।অভিযানে সোর্স রিমুভ, মশক নিধন কার্যক্রম ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আ. দৈ./কাশেম




















