রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ই-পেপার

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জড়িতদের কঠোর শাস্তির সুপারিশ
শাহজালালে কার্গোতে জালিয়াতি শুল্কায়ন ছাড়াই ৪২৩৭ কেজি ফেব্রিক্স খালাস
ইসমাঈল হুসাইন ইমু
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৪:২১ পিএম   (ভিজিট : ৭৭)
X

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভয়াবহ জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। সম্পূর্ণ ভুয়া কাগজপত্র তৈরী করে চায়না থেকে আমদানী করা চার হাজার ২৩৭ কেজি ফেব্রিক্স কোন প্রকার শুল্কায়ন ছাড়াই খালাস করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনাটি এতদিন ধামাচাপা থাকলেও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা তদন্ত করে ঘটনার আদ্যোপান্ত তুলে ধরে দায়ীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার সুপারিশ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এছাড়াও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্বে থাকা বিমান বাংলাদেশের এয়ারলাইন্সের কর্মীদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট উদঘাটনও করেছে। 

আলোচিত এ বিষয়টি নিয়ে কানাঘুষা হলেও কূল কিনারা হচ্ছিলনা। পরে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নিবিড় তদন্ত শুরু করে।সম্প্রতি তদন্তে বেরিয়ে আসতে থাকে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্ত কর্মকর্তারা বিমানের সংশ্লিষ্ঠ অফিস ও আমদানি কার্গো ডেলিভেরি গেটে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে গেটে রক্ষিত রেজিস্টারে পাচার হওয়া পণ্যের এয়ার ওয়েবিল নাম্বারগুলো লিপিবদ্ধ থাকলেও বিল অফ এন্ট্রি সংক্রান্ত কোন নথি পাওয়া যায় নাই। 

পরবর্তীতে বিমান ইমপোর্ট এয়ারওয়ে ডেলিভেরি সেকশনে খোঁজ নিয়ে তারা দেখেন গত ২৭ ডিসেম্বর উল্লেখিত এয়ার ওয়েবিলগুলো সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান বারি এন্টারপ্রাইজ এবং আল ইতিহাদ এর পক্ষে মোঃ আবু তালেব, মোঃ রাকিবুল, মোঃ জুনায়েদ ও মোঃ আসিফ এর সহায়তায় উত্তোলন করা হয় এবং সেক্ষেত্রে আইডি কার্ডসহ সকল কাগজাদি জালিয়াতি করে পণ্যগুলো উত্তোলন করা হয়। পরবর্তীতে কাস্টমস এর সার্ভার এ চেক করে কোন বিল অফ এন্ট্রি পাওয়া যায়নি।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানতে পারেন এইচ. বি. এস. এ্যাপারেলস লিঃ এর নামে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ২০২৫ সালের  ১৭, ২৩ এবং ২৪ নভেম্বর চায়না থেকে কার্গো বিমান তায়ানজিন এয়ার কার্গো (ঞঐ-৩৮৭৯) এবং এসএফ এয়ারলাইন্স (ঙ৩-২৩৭ ) যোগে ২৯৮ রোল ৪ হাজার ২৩৭ কেজি ফেব্রিক্স আমদানি করে (এয়ারওয়ে বিল ৮২১-৮০২২৮৭১১, ৮৭৭-১১৩৬৯৫৯৫, ৯২১-৬০২২৮৬৯৬, ৮৭৭-১১৩৭০২১৪)। এই ফেব্রিক্সগুলো একই বছরের গত ২৭ নভেম্বর বিমান এবং কাস্টমস এর একটি অসাধু চক্রের সহায়তায় কোন প্রকার বিল অফ এন্ট্রি ও কাস্টমস শুল্কায়ন ছাড়াই আমদানি কার্গো থেকে খালাস করা হয়।

এছাড়া গত ৯ জানুয়ারি রাত ৯টায় বাংলাদেশ বিমানের কর্মকর্তা কমার্শিয়াল সুপারভাইজার কাজী মোহাম্মদ শাহজালাল এবং কমার্শিয়াল সুপারভাইজার মন্তাছার রহমান ও মোঃ রাজীব শরিফ এর কাছে ৪ টি বিল অফ এন্ট্রির সকল নথি প্রদান করে এবং তা জোর পূর্বক ও অর্থের বিনিময়ে নিয়মিত করণের জন্য বলেন। পরে যাচাইয়ে এ বিষয়ে জাল সিএন্ডএফ কোম্পানি (আল ইতিহাদ) এর নামে ভূয়া কাগজপত্র প্রদান করা হয়েছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এইচ. বি. এস. এ্যাপারেলস লিঃ এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর হুমায়ন কবির এর সাথেও কথা বলেন। তিনি গোয়েন্দাদের জানান, উক্ত এয়ার ওয়েবিল এর প্রেক্ষিতে তার প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো পণ্য আমদানি করা হয়নি। এতেই গোয়েন্দা কর্মকর্তারা পরিস্কার হন এইচ. বি. এস নাম ব্যবহার করে সম্পুর্ন জালিয়াতির মাধ্যমে এই কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা মনে করেন, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এইচ. বি. এস. এ্যাপারেলস লিঃ কোম্পানির কমার্শিয়াল ডিপার্টমেন্টের অসাধু কর্মচারীর যোগসাজসে বিমান ও কাস্টমস এর অসাধু চক্রের সহযোগিতায় কর্তৃপক্ষকে অবগত না করে পণ্য আমদানি করে অন্য কারো কাছে অধিকমূল্যে বিক্রি করে থাকতে পারে।

এছাড়াও আমদানি কার্গো এবং কাস্টমসের কোনো রকম শুল্কায়ন ব্যবস্থা অনুসরণ না করে পণ্য খালাস করায় প্রতীয়মান হয় যে, বিদেশ থেকে যে কোনো ধরনের দ্রব্য কোনো প্রকার নথি ও শুল্কায়ন ছাড়াই দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানো সম্ভব এবং পণ্যের আমদানি ঘোষনার আড়ালে দেশে নাশকতার সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিষ্ফোরক, অস্ত্র, মাদক কিংবা অন্য যে কোনো আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য দেশে আনা সম্ভব। সামগ্রিকভাবে, এই বিষয়টি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য একটি বিরাট হুমকি বলেও মনে করেন তারা।

 প্রাপ্ত সকল কাগজাদি ভুয়া বলে প্রতীয়মান হয়েছে। সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান বারি এন্টারপ্রাইজ এবং আল ইতিহাদ নাম উল্লেখ্য করা হয়েছে কিন্তু বারি এন্টারপ্রাইজের নামে উপস্থাপিত নকল প্রত্যয়নপত্র থাকলেও আল ইতিহাদ নামে কোনো সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান পাওয়া যায়নি। এছাড়াও সিএন্ডএফ কর্মচারী মোঃ আবু তালেব, মোঃ রাকিবুল ও  মোঃ জুনায়েদ এরা সকলেই সিএন্ডএফ কোম্পানী সোহেল বিএম ট্রেডার্স এর কর্মচারী।

এদিকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে পণ্য খালাস এবং পরবর্তীতে ভূয়া কাগজপত্র প্রদানে বাংলাদেশ বিমানের কর্মকর্তা কমার্শিয়াল সুপারভাইজার কাজী মোহাম্মদ শাহজালাল এবং কমার্শিয়াল সুপারভাইজার মন্তাছার রহমান এর সরাসরি সংশ্লিষ্ঠতা পাওয়া গেছে। এছাড়াও বহুদিন ধরে এই সেকশনে কর্মরত থাকায় তাদের দুর্নীতি লাগামহীন পর্যায়ে রয়েছে। এক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে ডিউটি রোষ্টার বানিজ্য, আধিপত্র বিস্তার, উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তোয়াক্কা না করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আছে। 

সরাসরি সংশ্লিষ্ঠতা ও অকাট্য প্রমানাদি থাকায় বাংলাদেশ বিমানের কর্মকর্তা কমার্শিয়াল সুপারভাইজার কাজী মোহাম্মদ শাহজালাল এবং কমার্শিয়াল সুপারভাইজার মন্তাছার রহমানকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে সুপারিশ, করা হয়। একই সাথে কার্গো সেকশনকে সিন্ডিকেট মুক্ত করতে তাদের অতিদ্রুত কার্গো সেকশন হতে অপসারণ করা জরুরী বলে মরেন তদস্ত সংশ্লিষ্টরা। 

এদিকে সরকারের বিপুল অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার মত এ ধরনের গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন ঢাকা কাস্টমস হাউস সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি খায়রুল কবির ভুঁইয়া মিঠু। তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকান্ড কোনভাবেই গ্রহনযোগ্য না। যারা জড়িত তারা শাস্তি পাক এটি আমাদের দাবি। 

আ. দৈ./কাশেম/ ইমু



Advertisement
Advertisement
Loading...
Loading...
বিশেষ সংবাদ- এর আরো খবর
close
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : কামরুজ্জামান সাঈদী সোহাগ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মাসুদ আলম
প্রকাশক কর্তৃক ১/২ সাগুফতা ডি লরেল (তৃতীয় তলা), কমলাপুর বাজার রোড, মতিঝিল ঢাকা-১০০০ বা/এ হইতে প্রকাশিত।

বার্তা ও বানিজ্যক কার্যালয়ঃ খাজা আইটি পার্ক, কল্যানপুর ঢাকা -১২০৭
ফোন : 01901-025220 , ই-মেইল : ajkerdainik@gmail.com

About Us    Advertisement    Terms & Conditions    Privacy Policy    Copyright Policy    Circulation    Contact Us   
© ২০২৬ আজকের দৈনিক
🔝