সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা.এজাজ, আরিফ ও মিজান সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু
জালিয়াতি ও দুর্নীতি অপরাধে ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আরিফ সাময়িক বরখাস্ত
আবুল কাশেম

অবশেষে সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রভাবশালী সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের অত্যন্ত ঘনিষ্ট ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) চিহ্নিত দুর্নীতিবাজা ও লোপাটের বরপুত্র সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ সিন্ডিকেটের গডফাদার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুর রহমানকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি,ক্ষমতার অপব্যবহার,অসদাচরণ, অদক্ষতা, দুর্নীতি, তহবিল তসরুপ এবং প্রতারণার সুনিদিষ্ট অভিযোগে রয়েছে। গত এক বছর ডিএনসিসিতে সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থিনে ডিএনসিসিতে বিভিন্ন প্রকল্পের নামে লাগামহীন দুর্নীতি, কোটি কোটি টাকা লোপাটের স্বর্গরাজ্য কায়েম কওে ছিলেন তৎকালীন প্রশাসক এজাজ এবং প্রককৌশলী আরিফুর রহমান ও নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের সিন্ডিকেট।
এরআগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রকৌশলী মিজানুর রহমানকে ভয়াবহ জালিয়াতি এবং সুনিদিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের হয়েছে। এবার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুর রহমানকে বরখাস্তের পর তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা যায়। এদিকে ডিএনসিসিতে কথিত অফিসার্স অ্যাসোয়েশনের ক্ষমতাবান কর্মকর্তাদের মাঝে আতঙ্ক শুরু হয়েছে। কারণ প্রকৌশলী আরিফুর রহমান ছিলেন এই সংগঠনের সভাপতি।

সর্বশেষ খবরে জানা যায়, সাবেক প্রশাসক এজাজ, প্রকৌশলী আরিফ ও প্রকৌশলী মিজান সিন্ডিকেটের লাগামহীন লোপাটের ফলে ডিএসসিসিতে আজ প্রচন্ড আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে। তবে বর্তমান প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পরই আর্থিক সংকটে পড়েছেন। এর পেছনের কারণ খুঁজতে গিয়ে তার সামনে ফুটে উঠেছে সাবেক প্রশাসক এজাজ ও প্রকৌশলী আরিফুর রহমানের সিন্ডিকেটের ভয়াবহ চিত্র। এরপরই তিনি এই বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও অবগত করেন।
এদিকে আজ ডিএনসিসির নগর ভবনে টপ টু বটম’ মুখরোচক আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল এজাজ,আরিফ ও মিজানের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে নতুন প্রশাসকের ডাইরেক্ট অ্যাকশন।
এদিকে আজ রোববার (৮ মার্চ) ডিএনসিসি সচিব মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানের স্বাক্ষরে জারি করে এক আদেশে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুর রহমানকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। জারি করা আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে,‘আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ ২০২৫,পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন,২০০৬.পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা,২০২৫ এর লঙ্ঘন করতঃ ক্রয় কার্যক্রম করেছেন,সে মতে ডিএনসিসি কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০১৯ এর বিধি ৪৯ এর (ক), (খ), (ঘ), (ঙ) ও (চ) উপবিধি মোতাবেক দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসদাচরণ, অদক্ষতা, দুর্নীতিপরায়ণ ও তহবিল তসরুপ বা প্রতারণার দায়ে একই বিধিমালার ৫৫ এর (১) উপবিধি মোতাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুর রহমানকে চাকুরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।’
আদেশে আরও বলা হয়, ‘তিনি (মোহাম্মদ আরিফুর রহমান) বিধি মোতাবেক খোরাকি ভাতা প্রাপ্য হবেন। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ আদেশ জারি করা হলো।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গত এক ববছরে ক্ষমতার অপরব্যহার করে তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী বি.জে.মো.মঈন উদ্দিন,অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আরিফুর রহমান ও নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের সিন্ডিকেটের প্রায় ১৫০ কোটি টাকা লোপাটের উদ্যেশ্যে ভয়াবহ জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। তারা নগরীতে ইচ্ছামাফিক রাস্তা,ড্রেন, ফুটপাত উন্নয়ন ও সংস্কার কাজের জন্য অনলাইনে ‘ইজিপি’ টেন্ডারের নামে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে অর্ধশতাধিক নথি নিজেরা অনুমোধন করেন। এরমধ্যে তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী বি.জে. মো.মঈন উদ্দিন স্বাক্ষর করেন ৩৪টি নথিতে আর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আরিফুর রহমান স্বাক্ষর করে ১৫টি নথিতে। এই নথিগুলোতে আইন ও বিধি মোতাবেক সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এই ধরনের আরো অনেক জালিয়াতির খবর বেরিয়ে আসছে।
আরো অভিযোগ উঠেছে,অঞ্চল-৫এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো.মিজানুর রহমান প্রকৌশল বিভাগের যথাযর্থ পূর্বানুমোদন ছাড়া সিন্ডিকেটের একক ক্ষমতা বলে নিজেই উন্নয়ন ও সংস্কারের নামে ৫৯ টি কাজের টেন্ডার আহবান করেন। আর তার শেল্টার দাতা অঞ্চল-৫ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ছাদেকুর রহমান এখনো ধরা ছোয়ার বাইরে রয়েছেন।
অঞ্চল-৫ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ছাদেকুর রহমান ছিলেন সাবেক প্রশাসক এজাজের প্রশাসনিক ও আর্থিক বিষয়ে অলিখিত উপদেষ্টা ও মুল চালিকা শক্তির ভূমিকায়। তার নিজের অঞ্চলের কাজ ছাড়া অন্য অঞ্চলের কাজের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার কোন এখতিয়ার না থাকলেও তিনি হস্তক্ষেপ করতেন। তিনি নথিথে স্বাক্ষর না করলেও প্রশাসক এজাজের উপদেষ্ঠা হিসেবে অনেক কিছুই তদারকি করতেন বলেও ডিএনসিসিতে বেশ আলোচনা চলছে।
আদ./কাশেম




















