প্রশাসক শফিকুলকে বেকায়দায় ফেলতে দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার ও প্রকৌশলীরা এখন বিএনপি হতে চায়
ডিএনসিসিতে এজাজের সিন্ডিকেটের লোপাটের নথি অনুমোদনের চেষ্টা চলছে
আবুল কাশেম:

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের সিন্ডিকেটের লাগামহীন দুর্নীতি ও কোটি কোটি টাকার লোপাটের চাঞ্চল্যকর অভিযোগগুলো বর্তমান প্রশাসক মো.শফিকুল ইসলাম খানের প্রশাসনের মাধ্যমে কৌশলে মাফ করানোর অপচেষ্টা চলছে। তাদের লাগামহীন লোপাটের ফলে ডিএনসিসি ও রাজস্ব ভান্ডার প্রায় শূণ্যের কোটায় নেমেছে। আউট সোর্সসিং কর্মীদের ১১ মাসের বেতন/ মজুরি বকেয়ে পড়েছে। নিয়মিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাসিক বেতন ভাতা পরিশোধেও অর্থ সংকট দেখা দিয়েছে। আগের প্রশাসক এফডিআর ভেঙ্গে পছন্দের ঠিকাদারদের কয়েক কোটি টাকা বিল পরিশোধ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে বর্তমান প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পরই ডিএনসিসিকে দুর্নীতি মুক্তি এবং দ্রুত নাগরি সেবা জনগণকে দেবার ঘোষণা দিয়েছেন। এই প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখা, দুষ্ট্রের দমন এবং শিস্ট্রের লালনকে গুরুত্ব দেবেন। কোন অপরাধীকে ছাড় বদবেন না। তিনি নিয়মিত শনিবারও অফিস করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি মাঠে ময়দানে ছুটে বেড়াচ্ছন। তার বক্তব্যে নগরবাসী অনেকটা আশ্বস হয়েছেন। কারণ তিনি ডিএনসিসির দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
নাম না প্রকাশের শর্তে ডিএনসিসির একাধিক কর্মকর্তা আক্ষেপ করে ‘আজকের দৈনিক’ পত্রিকাকে বলেন, এজাজের সিন্ডিকেটের প্রভাবশালী সদস্য বেশ কয়জন উচ্চ পদস্থ্য দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা. রাতারাতি কোটিপতি প্রকৌশলী, ক্রয় ও ভান্ডার বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা, অঞ্চল- ৫ এর নির্বাহী কর্মকর্তা সহ একাধিক আঞ্চরিক নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাহী প্রকৌশলী, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর এবং কয়েকজন ঠিকাদার মিলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে দুর্নীতির আখঁড়ায় পরিনত করেছেন। তাদের জবাবদিহিতার কোন বালাই নেই।
এখন উক্ত সিন্ডিকেটের সদস্যরা এবার বিএনপির মহানগরীর একাধিক প্রভাবশালী নেতার আনুকুল্য পেতে বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। এই সিন্ডিকেটের টাগেট বিএনপির নেতাদের সহযোগিতায় সরকার দলীয় প্রভাবশালী একাধিক এমপি ও মন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে যেকোন মূল্যে ডিএনসিসির বর্তমান প্রশাসক মো.শাফকুল ইসলাম খানকে ম্যানেজ করা। তারা এখন রাতারাতি বিএনপি হতে চায়। আগে প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতো তার স্নেহের ভাগ্নে দালাল মাহবুবুর রহমান ও লিটন, প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এবং অঞ্চল-৫এর নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান, আঞ্চল- ২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সূত্র মতে,২০২৫-২৬ অর্থ বছরের বাজেটের সিংহভাগ অর্থ উন্নয়নমূলক কাজের নামে প্রকল্প খরচ করা হয়েছে। বাজের্টের বাকী অর্থও প্রশাসকের মেয়াদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় এবং অতিরিক্ত কেনা কাটা ও প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজের নামে লোপাটের মিশন সম্পন্ন করার জন্য এখনো তাদের তৎপরতা চলছে।

সম্প্রতি এই ছবিগুলো তোলা হয়েছে- অঞ্চল-২ এর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভালো ভালো রাস্তা এবং ফুটপাত সংলগ্ন ড্রেন সংস্কারের নামে ভেঙ্গে পুনরায় মেরামত করা হচ্ছে
দফায় দফায় দুদকের অভিযান, চলমান অনুসন্ধান এবং তলবি নোটিশের পরও সাবেক প্রশাসক এজাজের সিন্ডিকেট কয়েক শত কোটি টাকার লোপাট এবং দুর্নীতি বন্ধ হয়নি। সর্বশেষ সদস্য বিদায়ী প্রশাসক সুরাইয়া আক্তার জাহান সিন্ডিকেট লাগামে টান দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে ছিলেন। তিনি ঠিকাদারদের কয়েক শত কোটি টাকার বিলসহ ৩৫টি নথি পাশ না করে আটকে দিয়েছেন। একই সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরকে অধিকতর যাচাই বাছাই করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছিলেন। ওই ঘটনার পর ডিএনসিসিতে আতঙ্ক শুরু হয়েছিল।তবে দুর্নীতিবাজরা আলোচিত ওই ৩৫টি নথি যাচাই বাছাইয়ের প্রতিবেদনে সাফাই গেয়ে স্বাক্ষর করানোর বেশ জোড় তদবিওে নেমেছেন বলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
সূত্র মতে, সাবেক প্রশাসক এজাজের সিন্ডিকেট তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশনা এবং ডিএনসিসির কারিগরি বিনির্দেশ কমিটি সুপারিশ ও মতামতকে পর্যন্ত এড়িয়ে যেতেন। শুধু তাইনয়,তড়িগড়ি করে বাজেটের পুরো অর্থ লোপাটের জন্য অঞ্চল- ৫ এর ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকোৗশলী মো. মিজানুর রহমান ১৩টি স্বারক নম্বর ব্যবহার করে ৫৯টি কাজের নামে ১৪৬ কোটি টাকার টেন্ডার আহবান করেছেন। এরমধ্যে গত ১০ ডিসেম্বর ৭ ধাপে ৩৬ টি, গত ১১ ডিসেম্বর ৩ ধাপে ১৮টি, গত ১৭ ডিসেম্বর ৪ টি এবং গত ২২ ডিসেম্বর ১টি কাজের টেন্ডার আহবান করেন।

সম্প্রতি এই ছবিগুলো তোলা হয়েছে- অঞ্চল-২ এর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভালো ভালো রাস্তা এবং ফুটপাত সংলগ্ন ড্রেন সংস্কারের নামে ভেঙ্গে পুনরায় মেরামত করা হচ্ছে
অঞ্চল ২ এর (ভারপ্রাপ্ত ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল হাসান ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং দুর্নীতিগ্রস্ত। তিনি নিজের ক্ষমতা বলে গত ৩০ নভেম্বর ৩ ধাপে ৩৩টি কাজের জন্য ১৪৫ কোটি টাকার টেন্ডার আহবান করেন।নির্বাহী প্রকৌশলী নিজেকে রক্ষায় নির্বাচনের আগেই মিরপুরের এক বিএনপি নেতা ও সংসদ সদস্য প্রার্থীর বাসায় গোপনে যাতায়াত করছেন। এই বিষয়য়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব প্রাপ্তদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার লোপাট,দুর্নীতি এবং বিপুল পরিমান অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ সত্য নয় বলে তিনি দাবি করেন। মিরপুরে অঞ্চল-২ এর আওতাধীন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রোড-৪,ব্লক-ডি,সেকশন-২ ও রোড-১ ব্লক-বি সেকশন-৬ সহ আশপাশের এলাকায় ভালো ভালো রাস্তা এবং ফুটপাত সংলগ্ন ড্রেন সংস্কারের নামে ভেঙ্গে পুনরায় মেরামত করা হচ্ছে। অথচ ডিএনসিসির বিভন্ন এলাকায় অনেক রাস্তা ,গলিপথ,ড্রেন ও ফুটপাত অর্থেও অভাবে মেরামতের কাজ বন্ধ রয়েছে।

সম্প্রতি এই ছবিগুলো তোলা হয়েছে- অঞ্চল-২ এর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফুটপাত সংলগ্ন ড্রেন সংস্কারের নামে ভাল রাস্তা মেরামত করা হচ্ছে
একই কায়দায় অঞ্চল- ৩ নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নুরুল আলম গত ১ ডিসেম্বর ১৮টি এবং গত ৩ ডিসেম্বর ১ সহ মোট ১৯ কাজের জন্য ১২২ কোটি টাকার টেন্ডার আহবান করেন। তিনি বার্ষিক বাজেটের পুরো কাজের টেন্ডার আহবান করেন এবং ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়ার জন্য প্রশাসকের দপ্তরের সিন্ডিকেটের পুরো ক্ষমতা প্রয়োগ করনে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে বর্তমান প্রশাসকের অ্যাকশন শরু হয়েছে:
ডিএনসিসির বর্তমান প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান দায়িত্ব গ্রহণের পরই সরাসরি অ্যাকশন শুরু করেছেন। প্রথমই অঞ্চল-৫ এর ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমানকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ডিএনসিসি দুর্নীতিবাজ এই প্রকৌশলীকে মোহাম্মদপুর এলাকায় চলমান রাস্তা নির্মাণ/সংস্কারকাজ পরিদর্শনকালে বিভিন্ন অনিয়মের সুনিদিষ্ট অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করেন। অথচ তার শেল্টারদাতা অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, ওই অঞ্চলের নির্বাহী কর্মকর্তা এবং তার সহযোগি সহকারী প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।
আ. দৈ./কাশেম




















