কল্যাণ ফান্ডের অনুদানের অর্থ লোপাটের অভিযোগ
ডিএনসিসির প্রশাসক এজাজের গ্রহণকৃত অর্থের তথ্য চেয়েছে মন্ত্রণালয়
আবুল কাশেম:

এবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ ও কয়েক শত কোটি টাকা লোপাটকারী প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের ব্যক্তিগত তথ্য চেয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের, স্থানীয় সরকার বিভাগ। কারণ প্রশাসক এজাজের বিরুদ্ধে অতিমাত্রায় ঘুষ,দুর্নীতি ও সীমাহীন লোপাটের মাধ্যমে ডিএনসিসির ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি সাধন করার সুনিদিষ্ট অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন।
এদিকে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ‘যুগ্ম সচিব মাহবুবা আইরিনের’ স্বাক্ষরিত গত ৫ ফেব্রুয়ারি ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের যোগদানের পর থেকে এপর্যন্ত কত টাকা বেতন-ভাতা ও সম্মানি উত্তোলন করেছেন ওইসব তথ্য জরুরি ভিত্তিতে সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।চিঠির বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে দুদকের অনুসন্ধান কার্যে রেকর্ডপত্র/ তথ্যাদি সরবাহ সংক্রান্ত । এর আগে দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১ ফেব্রুয়ারি আদালত ডিএনসিসির দুর্নীতিবাজ
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে,গতবছর বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এক বছরের জন্য ডিএনসিসির প্রশাসক হিসেবে মোহাম্মদ এজাজের নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। জারি করা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ‘২০২৪ এর ধারা ২৫ ক’ এর উপধারা (১) প্রয়োগ করে মোহাম্মদ এজাজকে ১ বছরের জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, নিয়োগকৃত প্রশাসক ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ এর ধারা ২৫ক এর উপধারা (৩) অনুযায়ী মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি বিধি মোতাবেক মাসিক সম্মানি ভাতা ও অন্যান্য ভাতাদি প্রাপ্য হবেন। নিয়োগের আগে তৎকালীন ‘স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা আসিব মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া এক সুপারিশ পত্রে উল্লেখ করে ছিলেন ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে’ প্রশাসক হিসেবে মোহাম্মদ এজাজকে নিয়োগ দিলে উক্ত প্রতিষ্ঠান অনেক লাভবান হবে। তার সুপারিশ আমলে নিয়ে ‘স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়’ রাষ্ট্রপতির দপ্তরের অনুমতি ক্রমে মোহাম্মদ এজাজকে ডিএনসিসির প্রশাসক পদে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
সূত্র মতে,ডিএনসিসির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে যোগদানের পর মোহাম্মদ এজাজ গণমাধ্যমকে বলে ছিলেন, সততা ও দক্ষতার সাথে উক্ত প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি নাগরিক সমস্যা সমাধানকে গুরুত্ব দেবেন। একই সাথে নগরীর খাল ও জলাভূমি পুনরুদ্ধারকেও প্রাধান্য দেবেন। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করবেন। কিন্তু গত বছর ১২ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ পাবার পর তিনি দ্রুত সিন্ডিকেট গঠন করে লাগামহীন ঘুষ, দুর্নীতি, মোটা অংকের কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে ডিএনসিসিকে একটি দুর্নীতিগ্রস্ত ও লোপাটের প্রতিষ্ঠানে পরিনত করেছেন।
প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ প্রতি মাসে শুধু সম্মানি ভাতাই নিয়েন ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, এর বাইরে আরো বিভিন খাতে আর্থিক সুবিধাদি নিয়েছেন। গত বছর ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছর জানুয়ারি পর্যন্ত মাসিক সম্মানি ভাতাসহ আনুসঙ্গিক সব ধরনের নিয়েছেন।
ডিএনসিসির সূত্র মতে, ডিএনসিসির প্রশাসক হিসেবে মোহাম্মদ এজাজকে নিয়োগ দেওয়া যেন ‘পাতিশিয়ালকে মুরগীর খামারের’ পাহাড়াদারের দাঁয়িত্ব দেওয়া হয়েছে।পাতিশিয়াল যেভাবে মুরগীর খামারের সব মুরগী খেয়ে শেষ করে ফেলে। ঠিক তেমনি ডিএনসিসিতে প্রশাসকের দাঁয়িত্ব পেয়ে মোহাম্মদ এজাজ ফি স্টাইলে কয়েক শত কোটি টাকা লোপাট করেছেন। এমন কোন দপ্তর নেই যেখানে এজাজ ও তার সিন্ডিকেটের লোপাটের হিংস্র থাবা লাগেনি।
সূত্র মতে, ইতোমধ্যে অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত কয়েক শত কোটি টাকা লোপাট করেছেন। ডিএনসিসির প্রশাসকের নিজস্ব ১০ কোটি টাকার কল্যাণ ফান্ডের অর্থ উক্ত প্রতিষ্ঠানের অসহায়,গরীব কঠিন রোগে আক্রান্ত ও বিপদগ্রস্ত কর্মকর্তা/ কর্মচারী এবং ডিএনসিসির আওতাধীন নগরবাসী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাবার কথা রয়েছে। কিন্তু এই কল্যাণ ফান্ডের বেশির ভাগ অর্থ ডিএনসিসির বাইরের লোকজনকে নিয়ে এজাজের সিন্ডিকেটর তৈরি ভুয়া তালিকায় ইচ্ছা মাফিক এক লাখ টাকা থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদানের অর্থের চেক দিচ্ছেন। অনেক সময় ‘অ্যাকাউন্ট পে চেক না দিয়ে, বাহক চেক’ ইস্যুর অভিযোগও উঠেছে। শুধু তাইনয়, পেছনের তারিখে আবেদন দেখিয়ে এবং বেকডেটে অনুদানের অর্থ দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। তবে শক্তভাবে তদন্ত হলে পিলে চমকানোর মতো তথ্য উপাত্ত বেরিয়ে আসবে বলে জানান ডিএনসিসির একাধিক কর্মকর্তা।
আ. দৈ../কাশেম




















