‘মশা মারার ফাঁদের’ মেশিন ক্রয়ের সিন্ডিকেটের চাপ বাড়ছে
ডিএনসিসিতে অপ্রয়োজনীয় মশার মেশিন ক্রয়ে প্রশাসকের কোটি টাকার মিশন
আবুল কাশেম:

ঢাকা উত্তর সিটি করেপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ ও তার সিন্ডিকেট বিরুদ্ধে ইচ্ছামাফিক দাম নির্ধারণ করে কথিত ‘মশক নিধন ফাঁদ’ নামক মেশিন ক্রয় দেখিয়ে প্রায় ৭ কোটি টাকা ফান্ড থেকে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টায় আছেন। কিন্তু ‘মশক নিধন ফাঁদ’ নামের হাস্যকর এই মেশিনের দাম বাজার দরের ৪গুন বেশি নির্ধারণ করার অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু ডিএনসিসিতে একত্রে ৭০০ মেশিন এতো বেশি দামে ক্রয়ের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের শক্ত অবস্থান, যৌক্তিক কারণসহ আপত্তির ফলে কার্যাদেশ দেওয়া বন্ধ রয়েছে। তবে প্রশাসকের মেয়াদের ভেতরেই এসব ৭০০ মেশিন ক্রয়ের কার্যাদেশ দেওয়ার নানা চেষ্টায় রয়েছে সিন্ডিকেটের সদস্যরা।
ডিএনসিসিতে প্রশাসকের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে গত এক বছরের শত শত কোটি টাকার কেনা-কাটায় দুর্নীতি, বিভিন্ন প্রকল্পে ফি স্টাইলে লোপাট,নিয়োগ,বদলি, পদোন্নতি ও পদায়ন বাণিজের অভিযোগ ‘টপ টু বটম’ দুদকসহ সরকারের প্রশাসনে বেশ আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়ে।
এদিকে নাম না প্রকাশের শর্তে ডিএনসিসির একাধিক কর্মকর্তা ‘আজকের দৈনিক পত্রিকাকে’ বলেন, পুরনো রুপ কথা ‘আলী বাবার ৪০ চোরের’ গল্পকেও ছাড়িয়ে গেছেন ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ এবং তার দালালদের সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেটর গত এক বছরের অনেক কেনা কাটার নামে শত শত কোটি টাকার লোপাট ও কমিশন বাণিজ্য। ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরীক্ষামূলক ভাবে সর্বসাকুল্যে প্রায় ২৭ হাজার টাকা দরে ৫টি ‘মশক নিধন ফাঁদ’ মেশিন ক্রয় করা হয়। বর্তমানে এই মেশিনগুলো নগরীর অভিজাত এলাকায় প্রদর্শনির জন্য স্থাপন করা আছে।
কিন্তু ওই এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম আগের মতোই সকাল ও বিকাল অব্যাহত রাখতে হয়েছে। এই ৭০০ মেশিন নগরীতে স্থাপনের পরেও প্রতিদিন সকাল ও বিকাল মশক নির্ধন কর্মীদের চলমান মশা মারার কার্যক্রমের চালু রাখতে হবে। প্রতিদিন বিকালে নিয়মিত ফগিং এবং সকালে লার্ভিসাইডিং করতে হবে।
সূত্র মতে, প্রশাসকের সিন্ডিকের লোকজন ডিএনসিসির অঞ্চল-১ ও অঞ্চল-৬ এলাকাসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কথিত ‘মশক নিধন ফাঁদ’ প্রায় ২২০০ মেশিন ক্রয়ের পক্ষে মতামত দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চাপ প্রয়োগ শুরু করেন। তারা কৌশলে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরী (বিএমটিএফ)কে সামনে নিয়ে আসেন। আগের ক্রয় করা ৫টি মেশিনের আদলে একটু বড় আকারে দেখিয়ে প্রথমে প্রতিটি মেশিনের দাম জানায় ৫৫/৬০ হাজার টাকা করে। এরপর গত বছর প্রশাসকের সিন্ডিকেটর সমর্থনে নভেম্বর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এক সভায় ‘মশক নিধন ফাঁদ’ মেশিন সম্পর্কে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রদর্শনী হয়। ওই সভায় অংশ গ্রহণকারীদের মধ্য থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ‘মশক নিধন ফাঁদ’ মেশিন ক্রয়ের বিষয়ে পজেটিভ মতামত দেওয়া হয়।
কিন্তু মন্ত্রনালয়ের সভায় মেশিনের দর নির্ধারণের বিষয়ে কোন মতামত দেয়া হয়ানি। এই সুযোগেই প্রশাসকের সিন্ডেকেট ইচ্ছামাফিক মেশিনের দর নির্ধরণের চেষ্টা চালায়। গত বছর ২২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরীর (বিএমটিএফ) সাথে যোগাযোগ করে ওই মেশিনের দর ৮৮ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়। পরে ওই মেশিনের দর সবকিছু মিলে প্রায় এক লাখ টাকা হয়ে যায়।
কারণ মন্ত্রনালয়ের সভায় পজেটিভ মতামত পাবার পর ডিএনসিসির প্রশাসক ও তার সিন্ডিকেট ব্যস্ত হয়ে পড়েন দ্রুত ‘মশক নিধন ফাঁদ’ মেশিন ক্রয়ের জন্য। প্রশাসকের পক্ষ থেকে একযোগে ২২০০ মেশিন ক্রয়ের পক্ষে মতামত দিয়ে সহযোগতার জন্য স্বাস্থ বিভাগের সংশ্লিষ্টদের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছেন। কিন্তু একত্রে বিপুল পরিমান মেশিন ক্রয়ের বিষয়ে আপত্তি জানানোর পর প্রশাসকের পক্ষ থেকে বলা হয়, আপাতত ১৮০০ মেশিন ক্রয় করুন। তাতেও স্বাস্থ বিভাগের পক্ষ থেকে আপত্তি জানালে, ৯০০ মেশিন ক্রয় করতে হয়। তাতেও আপত্তি জানালো ৭০০ মেশিন ক্রয় করতে নির্দেশ দেন প্রশাসক।
এদিকে গতবছর ০৭ জানুয়ারি ‘বিএমটিএফ’র পক্ষে ডিএনসিসির অঞ্চল-০১ ও অঞ্চল-০৬ এ পরীক্ষামূলকভাবে ৭০০টি ‘মশক নিধন ফাঁদ’ মেশিন একক দর (ভ্যাট, ট্যাক্স ও ওভারহেড খরচসহ) ৮৫ হাজার নির্ধারণ করে বিক্রির প্রস্তাব পাঠানো হয়।
সর্বশেষ খবরে জানা যায়,আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ডিএনসিসির প্রশাসকের দপ্তর থেকে মেশিন ক্রয়ের কার্যাদেশ দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টদের মতামত দিতে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।
এদিকে ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ ‘আজকের দৈনিক’ পত্রিকাকে আলোচিত অভিযোগ অস্বীকার বলেছেন,‘মশক নিধন ফাঁদ’ ক্রয়, দাম নির্ধারণ,এসব বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে সভা এবং তার সিন্ডিকেট সম্পকে কিছুই জানেন না। ফলে এসব বিষয়ে তার কোন বক্তব্য নেই।
আ. দৈ./কাশেম




















