৯০৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ডেপুটি গভর্নর কবির আহমেদসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে
রমজান আলী

ভুয়া সিভিল ওয়ার্কস কন্ট্রাক্ট এগ্রিমেন্ট ব্যবহার করে ৯০৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. কবির আহমেদ, ন্যাশনাল ব্যাংকের কয়েকজন সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ব্লুম সাকসেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমদ জালাল খান মজলিসসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ রোববার দুদক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দুদক জানায়, আসামীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পরের সঙ্গে যোগসাজশে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে নিজেরা বা অন্যকে লাভবান করার উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে ভুয়া সিভিল ওয়ার্কস কন্ট্রাক্ট এগ্রিমেন্ট দাখিল করে ৬০০ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন ও উত্তোলন করে। পরে ঋণের টাকা নগদ, পে-অর্ডার ও ক্লিয়ারিংয়ের মাধ্যমে স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তর করে আসল ঋণ ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এছাড়া ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনাদায়ে সুদ ও অন্যান্য চার্জ বাবদ প্রাপ্য ৩০৩ কোটি ৬৭ লাখ ২ হাজার ৬২১ টাকা প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। এতে মোট ৯০৩ কোটি ৬৭ লাখ ২ হাজার ৬২১ টাকার ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদক মামলায় উল্লেখ করেছে, এই ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ধারায় মামলা রুজু করা হবে।
অভিযোগ সংশ্লিষ্টরা হলেন- (১) আহমেদ জালাল খান মজলিশ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ব্লুম সাকসেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, (২) খাদিজা আক্তার, পরিচালক, ব্লুম সাকসেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, (৩) মো. হাবিবুর রহমান, সাবেক সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখা ব্যবস্থাপক, ন্যাশনাল ব্যাংক লিঃ, দিলকুশা শাখা, ঢাকা, (৪) আরীফ মো. শহীদুল হক, ডিএমডি ও সাবেক ব্যবস্থাপক (অবসরপ্রাপ্ত), ন্যাশনাল ব্যাংক লিঃ, গুলশান শাখা, ঢাকা।
(৫) চৌধুরী মোসতাক আহমেদ (ওরফে সি এম আহমেদ), সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত), ন্যাশনাল ব্যাংক লিঃ, (৬) এম এ ওয়াদুদ, সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত, ন্যাশনাল ব্যাংক লিঃ, (৭) এ এস এম বুলবুল, সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) ও কোম্পানি সেক্রেটারি, বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত, ন্যাশনাল ব্যাংক লিঃ, (৮) আবু রাশেদ নওয়াব, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিভাগীয় প্রধান, সিআরএম-১ (বর্তমানে অবসারপ্রাপ্ত), ন্যাশনাল ব্যাংক লিঃ, প্রধান কার্যালয়, ঢাকা: (৯) মনোয়ারা সিকদার, সাবেক পরিচালক, পরিচালনা পর্যদ, ন্যাশনাল ব্যাংক লিঃ।
(১০) পারভীন হক সিকদার, সাবেক পরিচালক, পরিচালনা পর্যদ, ন্যাশনাল ব্যাংক লিঃ, (১১) রন হক সিকদার, সাবেক পরিচালক, ন্যাশনাল ব্যাংক লি., (১২) মোয়াজ্জেম হোসেন, পরিচালক, পরিচালনা পর্ষদ, ন্যাশনাল ব্যাংক লিঃ; (১৩) খলিলুর রহমান, সাবেক পরিচালক, পরিচালনা পর্যদ, ন্যাশনাল ব্যাংক লিঃ; (১৪) মাবরুর হোসেন, সাবেক পরিচালক, পরিচালনা পর্যদ, ন্যাশনাল ব্যাংক লিঃ: (১৫) কৌশিক কান্তি পন্ডিত, জনতা হাউজিং, মিরপুর (১৬) সালাহ উদ্দীন খান মজলিশ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ক্রিস্টাল কনস্ট্রাকশন এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড (১৭) আব্দুর রউফ, পরিচালক, ক্রিস্টাল কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড (১৮) জন হক সিকদার, বেঙ্গল ও এন্ড এম সার্ভিসেস নামীয় কোম্পানীর মালিক, (১৯) সৈয়দ মাহবুব-ই-করিম, মালিক, মেসার্স মাহবুব এন্টারপ্রাইজ।
(২০) মো. মাহফুজুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিকোটেক হোল্ডিংস লিমিটেড। (২১) মো. শফিকুল ইসলাম, পরিচালক, সিকোটেক হোল্ডিংস লিমিটেড; (২২) মো. জামিল হুসাইন মজুমদার, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, টেক ইনটেলিজেন্স লিঃ (২৩) মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন, মালিক: এম এস কন্সট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপার্স; (২৪) মমতাজুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, জুপিটার বিজনেস লিঃ: (২৫) মোসফেকুর রহমান, পরিচালক, জুপিটার বিজনেস লিঃ ও (২৬) ড. মো. কবির আহাম্মদ, সাবেক পর্যবেক্ষক, ন্যাশনাল ব্যাংক লিঃ, বর্তমানে ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রধান কার্যালয়, ঢাকা: সাবেক মহাব্যবস্থাপক, ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি ডিপার্টমেন্ট, বাংলাদেশ ব্যাংক।
এব্যাপারে ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. কবির আহমেদকে একাধিকবার ফোন করলে তিনি ফোন ধরনেনি।




















