দুদকের ২১ তম প্রতিষ্ঠাবাকী উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়
দুদকের কাজ বাধাগ্রস্ত করলে নামের তালিকা প্রকাশ হবে: ড. মোমেন
আবুল কাশেম:

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন,দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্ত কাজে বাধাগ্রস্ত করতে কেউ অযাচিত চাপ প্রয়োগ করলে তাদের নাম পরিচয় প্রকাশ করা হবে।
আজ মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) দুদকের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আয়োজিত সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে দুদকের চলমান অনুসন্ধান ও তদন্তে অযাচিত চাপ প্রয়োগ করা হয় কিনা, বর্তমানে দুদকের কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন কিনা এ ধরনের বেশ কিছু প্রশ্নের মুখোমুখি হন দুদক চেয়ারম্যান।
তবে সাংবাদিকদের এসব প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান দৃঢ়তার সাথে বলেছেন,“দুদকে যারা অযাচিত চাপ প্রয়োগ করবেন,আগামীতে তাদের নাম,পরিচয় মিডিয়ার মাধ্যমে জাতির সামনে প্রকাশ করে দেবেন।”
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়,‘দুদক এখনো নখ-দন্তহীন বাঘ কী’ এর জবাবে তিনি বলেন, দাঁত যতটা তীক্ষ্ন হওয়ার দরকার ছিল, ততটা তীক্ষ্ন এখনো হয়নি। নখও পুরোপুরি গজায়নি। মাঝামাঝি একটা পর্যায়ে আছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গার দুর্নীতি প্রতিরোধ করা দুদকের একার কাজ নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। এব্যাপারে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন রয়েছে।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামায় ঘোষিত সম্পদের বিবরনী এবং কালো টাকা সাদা করার বিষয়টি যাচাই বাছাইয়ের জন্য ৫ সদস্যে একটি টিম গঠন করা হয়েছে।এই টিম দক্ষতার সাথে কাজ করবেন এবং তারা প্রতিবেদন দাখিল করবেন।
ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেন, তার নেতৃত্তাধীন কমিশন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদন,আমলা কিংবা সরকারের কারো কাছে মাথা নত করবে না। তিনি এসব বিষয়ে দুর্নীতি বিরোধী সাংবাদিকদের ‘র্যাক’ আরো সাহসী ভূমিকা প্রত্যাশা করেন। কারণ সাংবাদিকরা কমিশনের পাশে থাকলে এবং সহায়তা করলে কানো মহলের হুমকি কিংবা চাপ দুদকের অনুসন্দান, তদন্ত বাধাগ্রস্ত হবে না।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতিগ্রস্ত না হলে, ঘাড় সোজা থাকলে চাপ কম আসবে। আপনাকে যারা চাপ দেবে তারাও চিন্তা করবে চাপ দেবে কী না। আগামী দিনগুলোতে যারা দুদকে অন্যায়ভাবে চাপ প্রয়োগ করবে আমরা তাদের নাম প্রকাশ করবো।
তিনি বলেন, আদালত এবং দুদক থেকে প্রভাবশালীদের অভিযোগ ও মামলার নথি গায়েবের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। পুরনো বহুল আলোচিত ‘বাজমাউন্টেন’ দুর্নীতির মামলাটি আবার সচল করা হয়েছে।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে সফল দেশ হিসেবে সিঙ্গাপুরের উদাহরণ তুলে ধরে আবদুল মোমেন বলেন, দেশটির প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান নিজেরাই দুর্নীতি নিরোধক। এর বাইরে তাদের আমাদের মতো একটা প্রতিষ্ঠান আছে যার কাজ হচ্ছে দেখাশোনা করা,খবরদারি করা।যেই দুর্নীতিগুলো অফিসে সমাপ্ত হওয়ার কথা; সেখানে ইন্টার্নাল অডিট হয়।এক্সটারনাল অডিট হয়, তারপরও আমার কাছে আসে কী জন্য। আসার তো কোনো কারণই নাই।
অনুষ্ঠানে কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী, কমিশনার (অনুসন্ধান) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদ,দুদক সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম, মহাপরিচালক(মানিলন্ডারিং) মোঃ মোকাম্মেল হক, মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মোঃ আক্তার হোসেন, মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত) মীর মোঃ জয়নুল আবেদীন শিবলী,মহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ ও তথ্য প্রযুক্তি) আবদুল্লাহ-আল-জাহিদ।
এছাড়া সাংবাদিকদের পক্ষ গঠনমূলক ও পরামর্শ স্বলুপ বক্তব্য রাখেন, রিপোর্টার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশনের (র্যাক) সভাপতি আলাউদ্দিন আরিফ, সহ সভাপতি আবুল কাশেম,সাবেক সভাপতি জেমসন মাহবুব, র্যাকের নির্বাহী সদস্য মতলুব মল্লিক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আদিত্য আরাফাত, সাবেক সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ সোৗরভ, র্যাকের সাবেক অর্থ সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক এফ এম আবদুর রহমান মাসুম। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক,টেলিভিশন ও অনলাইন নিউজ পোটালের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
আ. দৈ./কাশেম




















